রবিবার তাঁর মন্থর ব্যাটিং নিয়ে বয়ে গিয়েছিল সমালোচনার ঝড়। ৩৮ বলে ৫০ রানের ইনিংস দেখে নিন্দুকরা বলেছিল, ফেরারি চালানোর মতো পিচে অটো চালিয়েছেন। মাত্র তিনদিনের মধ্যেই ছবিটা ঘুরে গেল ১৮০ ডিগ্রি। সমালোচনা ভুলে এখন তিনি ক্রিকেটপ্রেমীদের নয়নের মণি। ম্যাচ জেতানোর প্রধান কারিগর। আরসিবি ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ। আইপিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তিনি-বিরাট কোহলি।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে কিং কোহলির স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩১.৫৭। সেখানে বিরাটের সতীর্থরা যেখানে প্রত্যেকেই ২০০র বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন। তখন থেকেই ক্রিকেটমহলে ফিসফাস চলছিল কোহলির ব্যাটিং নিয়ে। সেদিন ক্রিকেটবোদ্ধাদের অনেকেই বলেছিলেন, মন্থর গতিতে খেলা বিরাটকে রিটায়ার্ড আউট করানো উচিত ছিল আরসিবির। বুধবারও বিরাটের স্ট্রাইক রেট টি-২০ ক্রিকেটের নিরিখে একেবারে সাদামাটা। তবু আরসিবি জয়ের পর ধন্যধন্য চলছে কিং কোহলিকে নিয়ে।
এদিন মাত্র ১৪৭ রানের টার্গেট ছিল আরসিবির সামনে। কিন্তু ব্যাটারদের পক্ষে এদিন স্বর্গ ছিল না চিন্নাস্বামী। বরং পিচের খামখেয়ালিপনায় ব্যাট করাটা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। কিন্তু দলকে জেতানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন চেজমাস্টার। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নেমে বুঝিয়ে দিলেন, খেলায় তাঁর ইমপ্যাক্ট কতখানি। ১৪৭ রানের মধ্যে ৬০ রান পাওয়ার প্লে’তেই তুলে ফেলল আরসিবি। নেপথ্যে বিরাটের ২০ বলে ৪০ রানের ঝড়। বিরাটের ব্যাট থেকে এল ৬টি বাউন্ডারি, একটি ছক্কা। তবে হাফসেঞ্চুরি মাঠে ফেলে এলেন। স্কোরবোর্ডে তাঁর নামের পাশে লেখা রইল ৩৪ বলে ৪৯ রান।
হাফসেঞ্চুরি না করেও অরেঞ্জ ক্যাপ তালিকায় সকলের উপরে উঠে এলেন কিং কোহলি। আইপিএলে সবচেয়ে বেশি রান করে এর আগে দু'বার অরেঞ্জ ক্যাপ পেয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক টি-২০কে বিদায় জানানোর পরেও তিনি পুরোদমে টক্কর দিচ্ছেন তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী-ঈশান কিষানদের। কেরিয়ারের সায়াহ্নে এসেও বলে গেলেন, নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতির সঙ্গে আরও বেশি করে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। এতকিছুর পর কি বিরাটকে নয়নের মণি না করে থাকতে পারে ক্রিকেটদুনিয়া?
