রাজার মুকুট রাজার সাজ! ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছিল গতবার। আর বিরাট কোহলি এবার টানা দু'বার চ্যাম্পিয়ন হলেন। চাপ ছিল? প্রত্যাশা ছিল? মাথায় কী ঘুরছিল? গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে মুখ খুললেন কোহলির। তাঁর ৪২ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংসে খেতাব ফিরছে বেঙ্গালুরুতেই।
আজও নায়ক বিরাট কোহলিই। যিনি আজও দল বিপদে পড়লে উদ্ধারকর্তা করতে এগিয়ে আসেন। অধিনায়ক না হয়েও দলের হৃদপিণ্ড তিনিই। ৩৮ বছর বয়সেও ‘কিং’ তিনিই। আজও ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন। সেই বিরাট কোহলির ৭৫ রানে ভর করে ফের চ্যাম্পিয়ন আরসিবি। শুরুতে ভুবনেশ্বর কুমার, রশিখ সালামরা আঁটসাঁট বোলিং করে শুভমান গিলের গুজরাটের উপর ফাঁস লাগিয়েছিলেন। আর শেষটা করলেন কোহলি। তাও ছক্কা হাঁকিয়ে। আইপিএল শেষ করলেন ৬৭৫ রানে। টানা চারবার ৬০০-র বেশি রান করলেন 'কিং'। ফের বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর সত্যিই কিছু প্রমাণ করার কিছু নেই।
ম্যাচের পর তিনি বলেন, "এবার গতবারের মতো চাপটা ছিল না। আমরা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিলাম। নিজেদের মধ্যে কথা বলতাম, আমাদের পরিকল্পনাগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে আমরাই সেরা। আমরা যে দক্ষতার সঙ্গে লক্ষ্যে স্থির ছিলাম, এটা তারই প্রমাণ। মাঝে কয়েকটা ম্যাচ হেরেছিলাম। সময়টা বেশ কঠিন ছিল, কিন্তু একটা জয়ের পর বিশ্বাসটা ফিরে আসে। আমাদের এমন একটা দল আছে, যারা যেন কোনও ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। আসলে এই ট্রফিটার জন্য আমাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।"
কোহলি হয়তো বললেন, এই দলে অনেকে আছেন, যাঁরা ম্যাচ জেতাবেন। অন্য ম্যাচে সেটা হয়েছেও। কিন্তু ফাইনালে সেই একজনই ভরসা। মাঝে দুয়েকটা উইকেট পড়ে চাপ বেড়েছিল আরসিবি'র উপর। কিন্তু ‘চেজমাস্টার’ যতক্ষণ কোহলি আছেন, আরসিবি’কে টলানো সম্ভব নয়। আর সেটাই হল। লক্ষ্য অল্প। প্যানিক করলেই মুশকিল। এই অবস্থা থেকে টিম ইন্ডিয়াকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন। আর আবার প্রমাণ করলেন কেন তিনি বড় ম্যাচের প্লেয়ার। টিম ডেভিডের সঙ্গে স্ট্রাইক রোটেট করা শুরু করলেন। আর একটা-দু’টো খারাপ বল পেলেই মাঠের বাইরে। ২৫ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন। শুধু দেখার অপেক্ষা ছিল যে তাঁর ব্যাট থেকেই জয়ের রানটা আসে কি না। অবশেষে ছক্কা মেরে ট্রফি জেতালেন কোহলিই। টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হল আরসিবি। যে দলটা ১৮ বছর ট্রফির জন্য বুভুক্ষু ছিল, তারাই এখন সপ্তম স্বর্গে। আর তার মধ্যমণি ‘কিং’ কোহলি।
