৬৭ বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে জম্মু-কাশ্মীর। এবার তারা রনজি চ্যাম্পিয়নের খেতাব থেকে মাত্র একধাপ দূরে দাঁড়িয়ে। আকিব নবি-আবদুল সামাদদের এহেন অভাবনীয় পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ গোটা দেশের ক্রিকেটমহল। কিন্তু কোন মন্ত্রে চমকে দেওয়া পারফরম্যান্স করল জম্মু-কাশ্মীর? খোলসা করলেন বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। জানালেন, জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেটের একটা 'বিশেষত্ব' ঘোচানোর পরেই এসেছে সাফল্য।
২০১৮ সালে মেন্টর হিসাবে জম্মু-কাশ্মীরে যোগ দিয়েছিলেন ইরফান। সেসময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "একঝাঁক যুব ক্রিকেটার, যারা শুধু খেলতে চাইত। ওদের উন্নতিতে সাহায্য করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। মুম্বইয়ের উঠতি ক্রিকেটাররা যেমন দু'ঘণ্টা পথ ট্রেনে চেপে খেলতে আসত, সেই একই খিদে দেখেছিলাম জম্মু-কাশ্মীরের তরুণদের মধ্যে। একটা সুযোগের আশায় মন দিয়ে অনুশীলন করত।"
তবে ইরফানের মতে, সেসময়ে উপত্যকার ক্রিকেটে একটা 'বিশেষত্ব' ছিল। জম্মু আর কাশ্মীর-দুটো আলাদা ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল সেখানকার ক্রিকেট। ইরফান বলছেন, "জম্মু থেকে দু'জন নির্বাচক ছিলেন তাঁরা শুধু জম্মুর ক্রিকেটারদের দলে নিতে চাইতেন। একই অবস্থান ছিল কাশ্মীর অঞ্চলের নির্বাচকদেরও। কিন্তু বুঝতে হবে, প্রতিভা তো অঞ্চল দেখে আসে না। রাজ্যের যেকোনও এলাকা থেকেই প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা উঠে আসতে পারে।"
ইরফান জানান, নির্বাচক কমিটির প্রথম বৈঠকের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছিলেন তিনি। কারণ নির্বাচকরা মুক্তমনে ক্রিকেটের স্বার্থে দল বাছেননি। তারপর থেকে জম্মু-কাশ্মীরের সব জেলায় ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার ক্রিকেটারকে মাঠে নামানো হয়েছে। রশিখ সালাম, আকিব নবিরা জুনিয়র ক্রিকেট থেকেই উঠে এসেছেন। সেই ক্রিকেটারদের দাপটে আজ রনজির ফাইনালে উঠেছে জম্মু-কাশ্মীর, দেখে অভিভূত পাঠান। বোর্ড প্রেসিডেন্ট মিঠুন মানহাসও জম্মু-কাশ্মীরের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত।
