আগামী শনিবার থেকে শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে ভারত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে গেলে বাকি সাত ম্যাচের মধ্যে অন্তত পাঁচটায় জিততে হবে শুভমান গিলদের। শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় টিমের রেকর্ড খুব ভালো নয়। সংবাদ প্রতিদিন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলে দিলেন, টেস্ট জিততে গেলে ভারতীয় দলকে বড় রান তুলতে হবে।
প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কায় ভারতের রেকর্ড বিশেষ ভালো নয়। কী মনে হয় এই সিরিজ ভারতের জন্য কতটা কঠিন হতে চলেছে?
সৌরভ: অবশ্যই কঠিন। সিরিজ ফিফটি-ফিফটি। যে কোনও টিম সিরিজ জিততে পারে। আসল কথা, সিরিজ জিততে গেলে ভারতকে খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।
প্রশ্ন: একটা সময় বলা হত, ভারতীয় ব্যাটাররা সবচেয়ে ভালো স্পিন খেলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ব্যাটিং স্পিনের বিরুদ্ধে বেশ সমস্যায় পড়েছে। ঘরের মাঠে পরপর টেস্ট সিরিজ হার। নিউজিল্যান্ডের পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হোয়াইটওয়াশ।
সৌরভ: আমি বরাবর বলে এসেছি ঘরের মাঠে ভালো উইকেটে খেলতে হবে। খারাপ পিচে খেলে আপনি নিজেই নিজের টিমকে চাপের মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। ভারতীয় স্পিন কোয়ালিটি অসম্ভব ভালো। রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেলদের মতো স্পিনার রয়েছে। সেখানে খারাপ উইকেটে খেলার যৌক্তিকতা কোথায়? খারাপ পিচে খেললে মধ্য মানের স্পিনারকেও ভয়ংকর মনে হবে। তখন আর কোয়ালিটির তফাত বোঝা যায় না। একজন ভালো আর মধ্য মানের স্পিনারের কোয়ালিটিও প্রায় একইরকম হয়ে যায়। ঘরের মাঠে র্যাঙ্ক টার্নারে খেলার পক্ষপাতী আমি নই। ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসও কমে যায়।
প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কায় তো প্রায় একইরকম পিচ হবে।
সৌরভ: আমি জানি না ওখানে কীরকম উইকেট তৈরি করছে। তবে আমার মনে হয় না শ্রীলঙ্কা একেবারে র্যাঙ্ক টার্নারে খেলতে চাইবে। বরং উইকেট একটু পাটা হতে পারে। শুরুতে পেসাররা সুবিধে পেতে পারে। মহম্মদ সিরাজের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। দুর্দান্ত বোলার।
প্রশ্ন: ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
সৌরভ: টেস্ট জিততে গেলে বড় রান করতে হবে। অন্তত সাড়ে তিনশো-চারশো তুলতে হবে ভারতকে। না হলে সমস্যা হতে পারে। উপমহাদেশে চতুর্থ আর পঞ্চম দিনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শেষ দিকের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়। দ্রুত ম্যাচ বদলে যেতে পারে। এক-আধটা সেশনে অনেক ঘটে যেতে পারে। তাই টস জিতলে আগে ব্যাট করে বড় রান তুলতে হবে ভারতকে। এমনিতেই ভারতীয় ব্যাটিং বেশ ভালো। কেএল আর যশস্বী ওপেন করবে। তিন পাড়িক্কল। চারে শুভমান। পাঁচে ঋষভ। ছয় নম্বর জায়গাটা খুব ইন্টারেস্টিং হতে চলেছে। ধ্রুব জুরেল আর সরফরাজের খানের মধ্যে কাউকে একটা খেলাতে হবে। আমার মনে জুরেলই খেলবে। ভারতীয় 'এ' টিমের হয়ে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে রান করেছে। ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।
প্রশ্ন: আচ্ছা, একটা কথা বলুন। ইদানীং চোট-আঘাত সমস্যা সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফর থেকে জশপ্রীত বুমরাহ আর সাই সুদর্শন ছিটকে গেলেন চোটের জন্য।
সৌরভ: চোট-আঘাত ক্রিকেটের অঙ্গ। এখানে কারও কিছু করার থাকে না। এখন ক্রিকেট এখন বেড়ে গিয়েছে। প্রায় সারাবছর ক্রিকেট হচ্ছে। আইপিএলের পরই আয়ারল্যান্ড গেল টিম। তারপর আবার ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট। তারপর আবার শ্রীলঙ্কা সফর।
প্রশ্ন: জশপ্রীত বুমরাকে প্রথমে ফিট ঘোষণা করা হল। দু’দিনই পর আবার বলা হল, বুমরাহ শ্রীলঙ্কায় খেলতে পারবেন না। সাই সুদর্শন নিয়েও একই জিনিস। যা নিয়ে বিতর্কও হচ্ছে। সিওএ-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সৌরভ: একটা কথা মাথায় রাখতে হবে বুমরাহর বয়স বাড়ছে। কয়েক বছর আগেও মোটামুটি সব সিরিজে খেলত। এখন আর সেটা হবে না। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট মহম্মদ শামিকে নিয়ে বড্ড তাড়াহুড়ো করে ফেলল। এত তাড়াতাড়ি শামিকে বাদ দেওয়া উচিত হয়নি। শামি প্রচুর সাফল্য দিয়েছে। দেশের অন্যতম সেরা বোলার। আমি বিশ্বাস করি ওর এখনও অনেক কিছু দেওয়ার ছিল দেশকে। ছোট টেস্ট সিরিজগুলোতে কোনও সমস্যা নেই। যে সিরিজগুলো লম্বা সেখানে সেরা পেসারদের বিশ্রাম দিতেই হবে। ইংল্যান্ড গিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলল ভারত। সামনের বছর অস্ট্রেলিয়া আসবে। পাঁচটা টেস্ট রয়েছে। সব টেস্টে বুমরাহ খেলবে না। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। শামি-বুমরাহকে একসঙ্গে টিমে রাখা উচিত ছিল। যে দু'টো টেস্টে বুমরাহ খেলবে, সেখানে শামিকে বিশ্রাম দেওয়া হবে। যে টেস্টে শামি খেলবে সেখানে বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়া হবে। সহজ ব্যাপার। সঙ্গে সিরাজ থাকবে। বিদেশের মাঠে সিরিজ জিততে গেলে আপনাকে সেরা বোলারদের খেলাতেই হবে। শামি নিয়মিত পারফর্ম করছে। গত রনিজতে প্রায় সব ম্যাচ খেলছে। উইকেট নিয়েছে। টি-টোয়েন্টি খেলছে। বিজয় হাজারে খেলছে। রনজিতে কত ওভার বোলিং করেছে দেখুন। যার অর্থ ওর ফিটনেস নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। ওকে খেলানো উচিত ছিল ভারতের।
