বিশ্বকাপ উৎসবের মাঝেও সিএবিতে কেমন যেন বিষণ্ণতা। আসলে দিন দু'য়েক আগেও বঙ্গ ক্রিকেট স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। রনজি জয়ের স্বপ্ন। সেমিফাইনালে জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে বাংলা তখন বেশ ভালো জায়গায়। ফাইনালে কর্নাটকের বিরুদ্ধে কীরকম উইকেট হবে, সেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
আসলে এবার বাংলা ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলবে, একপ্রকার ধরে নেওয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। চূড়ান্ত হতাশ বঙ্গ কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। সামনের মরশুমে তিনি নিজে কী আর বাংলা কোচের দায়িত্বে থাকবেন? ক্রিকেটার হিসাবে বাংলাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। অধিনায়কের দায়িত্ব সামলেছেন। এরপর লক্ষ্মীর চার বছরের কোচিংয়ে বাংলা একবার ফাইনাল খেলেছে। একবার সেমিফাইনাল। গ্রুপ পর্বে সব টিম মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছে বাংলা।
শোনা যাচ্ছে, লক্ষ্মী নিজে আর বাংলা কোচের দায়িত্বে থাকতে চাইছেন না। ময়দানের এক অংশ মনে করছে, যে লক্ষ্মী গর্বের সঙ্গে বাংলা দলের হয়ে খেলেছেন, এ রকম বিপর্যয়ের পর তিনি হয়ত আর দায়িত্বে থাকতে চাইবেন না। যদিও সিএবি কর্তাদের একাংশ মনে করছে, লক্ষ্মী যথেষ্ট ভালো কোচিং করেছেন। গ্রুপে দুর্ধর্ষ পারফর্ম করেছে টিম। সেমিফাইনাল শুধু আড়াই ঘণ্টা খারাপ গিয়েছে। তার জন্য কোচ কী করবেন? টিমে একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটার। যার মধ্যে অনেকের প্রায় একশোর আশপাশে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে। তাঁদের কী এখন নতুন করে ব্যাটিংয়ের 'অ-আ-ক-খ' শেখাবেন কোচ? ক্রিকেটাররা যদি মাঠে নেমে পারফর্ম করতে না পারেন, তাহলে তার দায় শুধু কোচের কেন হবে?
এখন প্রশ্ন হল, লক্ষ্মী যদি কোচের দায়িত্বে না থাকেন, তাহলে সামনের মরশুমে কাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে? বেশ কয়েকটা নাম শোনা যাচ্ছে। যেমন চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত। সুলক্ষণ কুলকার্নি। যিনি আবার তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্রের মতো টিমের কোচের দায়িত্ব সামলেছেন। কোনও কোনও মহল থেকে আবার ঋদ্ধিমান সাহার নামও শোনা যাচ্ছে। তবে দ্রুত হয়তো কিছু হবে না। এটাও শোনা গেল, লক্ষ্মীর সঙ্গে সিএবি কর্তারা আগে বসতে চান। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
