বর্তমানে দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলিং কোচ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেই তিনি ভারতের ক্রিকেট পরিকাঠামো নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। প্রাক্তন ভারতীয় পেসার মুনাফ প্যাটেল বেঙ্গালুরুতে বোর্ডের উৎকর্ষ কেন্দ্র এখন হাসপাতালে পরিণত হয়ে গিয়েছে।
একটি পডকাস্টে মুনাফ বলেন, “কেউ চোট পেলে এনসিএ-তে যায় কেন? ফিট হওয়ার জন্য। কিন্তু এটা এখন অনেকটা হাসপাতালের মতো হয়ে গিয়েছে। আপনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসছেন, তারপর সরাসরি দলে ঢুকে পড়ছেন। কিন্তু আপনার ভুলগুলো কে ঠিক করছে? সেখানে বোলার বা ব্যাটারদের জন্য শুধুমাত্র ফিটনেস উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, তাঁদের সামগ্রিক দক্ষতার বিকাশেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।” গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, চোটগ্রস্ত ক্রিকেটাররা রিহ্যাবের জন্য এনসিএ গিয়েছে। তবে ক্রিকেটারদের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেই মত মুনাফের।
এখানেই থেমে থাকেননি প্রাক্তন এই ক্রিকেটার। ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। মুনাফের দাবি, ২০০০-০১ সালে রাজ সিং দুঙ্গারপুরের উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়ার ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ মডেল অনুসরণ করে এনসিএ গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই মডেলে আর তেমন কোনও পরিবর্তন বা আধুনিকীকরণ হয়নি। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মুনাফের কথায়, “খেলোয়াড়দের অনেকেই এনসিএ-তে যেতে ভয় পান। আসলে কেউই সেখানে যেতে চান না। কিন্তু জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত থাকায় সবাই নীরব থাকেন। সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় কেউ মুখ খুলতে চান না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, তা স্পষ্টভাবে বোঝা।” এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এনসিএ-র ভেতরে গেলে সব বোঝা যায়। আমি অনেকদিন ধরেই বলছি, এটাকে ১০০ শতাংশ বদলাতে হবে। তখন অস্ট্রেলিয়ার কোচিং ম্যানুয়াল এখানে প্রয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু ওরা সময়ের সঙ্গে নিজেদের আপডেট করেছে। আর আমরা এখনও ২৫ বছর আগের সেই ম্যানুয়ালই অনুসরণ করছি। এর তেমন পরিবর্তন হয়নি।” মুনাফের মন্তব্য ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
