আইপিএলের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়েই পাকিস্তান সুপার লিগ শুরু করেছিল পাক বোর্ড। আশা ছিল, আইপিএলের গগনচুম্বি সাফল্যকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। কিন্তু এগারো মরশুম বাদে আইপিএলকে চ্যালেঞ্জ করা তো দূর অস্ত, আইপিএলের ধারেকাছেও আসতে পারেনি। তার অন্যতম কারণ অর্থের অভাব। শেষে বাধ্য হয়ে আবারও আইপিএলকে নকল করে অভিনবত্ব আনার চেষ্টা করছে পাকিস্তান সুপার লিগ।
এবার থেকে পাকিস্তান সুপার লিগেও আইপিএলের মতো নিলাম। এতদিন পিএসএলে ক্রিকেটার কেনা হত ড্রাফট সিস্টেমে। সেটা অনেকটা লটারির মতো। ক্রিকেটারদের দাম নির্দিষ্ট থাকত। এবার থেকে সেখানেও আইপিএলের মতো নিলাম হবে। তবে ড্রাফট সিস্টেম পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে না। দেশি ক্রিকেটারদের নেওয়ার জন্য আগের মতোই ড্রাফট সিস্টেম থাকছে। আর বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য হবে নিলাম। পিএসএলের তরফে বিষয়টার নাম দেওয়া হয়েছে 'ড্রকশন'। এ বার থেকে হায়দরাবাদ এবং শিয়ালকোট নামে দু’টি দল খেলবে। সেই কারণে নিলামের ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে পিএসএল সূত্রে খবর।
আসলে এবার নতুন দুটি দল যোগ দেওয়ায় ক্রিকেটার ধরে রাখার নিয়ম নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে পিএসএলে। পুরনো দলগুলি যাতে সেরা ক্রিকেটারদের ধরে রাখতে পারে এবং নতুন দলগুলিও যাতে ভাল মানের ক্রিকেটারদের পায় এই ভারসাম্য তৈরি করাটা চ্যালেঞ্জ পাক বোর্ডের কাছে। সেজন্যই পিসিবি 'ড্রকশন' শব্দটি ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিস্তারিত কিছুই বলা হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, কিছু বিদেশি ক্রিকেটারকে ড্রাফটে না পাঠিয়ে নিলামে তোলা হতে পারে। যেমনটা আইপিএলে হয়। এভাবে নিলাম হলে ক্রিকেটাররা বেশি দাম পাবে। তাতে ভালো মানের বিদেশি আসার সম্ভাবনা বাড়ে। আসলে একই সময়ে আইপিএল ও পিএসএল হওয়ায় বেশিরভাগ বিদেশি আইপিএলের দিকে ঝুঁকে যান। আইপিএলে বাতিলরাই খেলেন পিএসএলে। এবার সে সমস্যা মেটাতে চায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি।
কিন্তু এখানে বড় একটা সমস্যা অর্থের। মোটামুটিভাবে পিএসএলের একটা দল তৈরি হয় ভারতীয় মুদ্রায় ১০-১১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ দলের ২৫ জনের মোট বেতন ওই ১০-১১ কোটি। অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের আশঙ্কা, নিলাম চালু হলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। যা চিন্তার। এত টাকা আসবে কোথা থেকে এই আশঙ্কা থেকেই অনেকে নতুন প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন।
