চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল প্রথম দিন। হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে দ্বিতীয় দিন ফেরার পরেই যেন সেই চোটের ভয়কে ছক্কায় উড়িয়ে দিলেন ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant)। কলম্বো টেস্টে লাহিরু কুমারার বাউন্সারকে যেভাবে গ্যালারির বাইরে পাঠালেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার, তাতে চমকে গেল গোটা স্টেডিয়াম।
অনেকক্ষণ ধরে ধৈর্য ধরেই খেলছিলেন পন্থ। তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলতে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে একের পর এক শর্ট বল করে যাচ্ছিলেন লাহিরু কুমারা, আসিথা ফার্নান্ডোরা। প্রথম দিন বাউন্সার সামলাতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন পন্থ। তাই দ্বিতীয় দিনও ভারতের উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে লক্ষ্য করে শর্ট বলের কৌশলেই ভরসা রেখেছিলেন শ্রীলঙ্কার পেসারেরা। কিন্তু এবার জবাবটা এল পন্থের ব্যাট থেকে।
ভারতের ইনিংসের ৯০তম ওভারের পঞ্চম বল। কুমারা শর্ট করতেই এবার আর বল ছাড়লেন না পন্থ। ফাইন লেগের দিকে এমন জোরে পুল করলেন যে, বল উড়ে গিয়ে সটান কলম্বোর মাঠের ছাদে গিয়ে পড়ল। এমনকী ছাদ পেরিয়ে বল গিয়ে পড়ল স্টেডিয়ামের বাইরে। কলম্বোর স্টেডিয়ামের ছাদে বসানো রয়েছে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল। পন্থের বিশাল ছক্কায় তারই একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্যামেরায় বারবার দেখানো হয়, কীভাবে প্যানেলটি ফেটে গিয়েছে। বলটিও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে সঙ্গে সঙ্গে চতুর্থ আম্পায়ার নতুন বল নিয়ে আসেন। বল বদলের পর ফের শুরু হয় খেলা।
পন্থের সেই ছক্কা দেখে সাজঘরে বসে থাকা ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরও হতবাক। তাঁর মুখের অভিব্যক্তিতেই বোঝা যাচ্ছিল, বল এত দূরে গিয়ে পড়বে, তা তিনিও ভাবেননি। মাঠে থাকা শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররাও তাজ্জব বনে যান। আর পন্থ? যেন কিছুই হয়নি এমন ভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। বিশাল ছক্কার পরেও মুখে সেই নির্বিকার অভিব্যক্তি। তবে কয়েক ওভার পরেই ফের চিন্তা বাড়ে ভারতীয় শিবিরে। কুমারার একটি বল এসে লাগে পন্থের ডান হাতের উপরের দিকে। ব্যথায় কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন তিনি। মাঠে ছুটে আসেন ফিজিও। দেওয়া হয় আইসপ্যাক। কিছুক্ষণ চিকিৎসার পর ফের ব্যাটিং শুরু করেন পন্থ।
প্রথম দিন অবশ্য কুমারার বল কবজিতে লাগার পর আর ব্যাট করতে পারেননি তিনি। ফিরে গিয়েছিলেন সাজঘরে। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সেই চোট নিয়ে সংশয় থাকলেও, এখনও পর্যন্ত পন্থকে দেখে তেমন কোনও সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। বরং শ্রীলঙ্কার শর্ট বলের জবাব দিচ্ছেন নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই। তাঁর সাহসিকতায় মুগ্ধ ক্রিকেট মহল। দ্বিতীয় টেস্টে ৩০৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে গেলেও ড্যামেজ কন্ট্রোল করেন পন্থ এবং ধ্রুব জুরেল। পন্থ অপরাজিত রয়েছেন ৬৩ রানে। জুরেল অপরাজিত ৫৯। লাঞ্চের আগে ভারতের রান ৬ উইকেটে ৪১৯।
