দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর পরই ছাঁটাই হয়েছেন। তারপর সূর্যকুমার যাদব আইপিএলেও ব্যর্থ। টিম ইন্ডিয়ায় আর ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কীভাবে বাদ পড়ার সঙ্গে মানিয়ে নিলেন? ঠিক কী অনুভূতি হয়েছিল? টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেই বা কী জানানো হয় সূর্যকে? সেসব নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
বিশ্বকাপে একেবারেই রানের মধ্যে ছিলেন না। ৩৫ বছর বয়সি ক্রিকেটারকে আর টানতে রাজি নয় বোর্ড। আপাতত লক্ষ্য ২০২৮-র অলিম্পিক ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সূর্য ভেবেছিলেন, আগামী দু'বছর দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। কিন্তু ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণার আগেই তাঁকে টিম ম্যানেজমেন্ট বাদ দেওয়ার কথা জানিয়ে দেয়। সূর্য বলছেন, "দল ঘোষণার দু-তিন আগেই আমাকে জানানো হয়, সময় হয়ে গিয়েছে। আমি কিছু বলিনি। কারণ দল নির্বাচন আমার হাতে নেই। আর নিশ্চয়ই দলের ভালোর জন্যই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই। আমি তৈরি। আবার যদি কখনও আমাকে প্রয়োজন হয়, ডাকবেন। চলে আসব।"
তারপর? দলঘোষণার পর কী অবস্থা হয়েছিল? মুম্বইকর ক্রিকেটার জানালেন, "দলে আমার নাম নেই দেখে মুচকি হেসেছি। আমি এরকমই। এর আগে যখন সমস্যায় পড়েছি, আমি মুচকি হেসেছি। অতীতের কথা ভেবেছি যে কীভাবে সুযোগ পেলাম। আমি এই দলকে আরও দু'বছর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তৈরি ছিলাম। কিন্তু অন্যদের ভাবনাকেও সম্মান করতে হয়। যদি দল অন্যের অধীনে ভালো ফল করে, তাতে কোনও সমস্যা নেই। আমি কখনই ভাবিনি, 'কেন শ্রেয়সকে অধিনায়ক করল?' কিন্তু হতাশ হয়েছিলাম।"
কেন? সূর্যর সংযোজন, "আমরা দু'বছর অপরাজিত, এশিয়া কাপের পর বিশ্বকাপ জিতেছি। সব ভালো চলছিল, তাহলে পরিবর্তনের কী খুব দরকার ছিল? আমি দেড়মাস ধরে বাড়িতে বসে ভেবেছি, 'কেন এটা হল? কেন এরকম করল?' আমাকে সবাই বোঝাত, এটা জীবনেরই অঙ্গ। কিন্তু দিনের শেষে আমি আর আমার পরিবার থাকতাম। প্রায় ৪০-৫০ দিন আমার কিছু করার ছিল না। আমি শুধু ভাবতাম, 'এবার কী করব? তাহলে কি অবসর নিয়ে নেব?' সেই সময় আমার স্ত্রী বলে, 'ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ফিরিয়ে আনো। যেরকম ২০ বছর আগে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলে।' তখন ভাবি, সত্যিই তো আমি কৃতজ্ঞ। মাত্র ৫ বছরে কত কিছু পেয়েছি। আর হয়তো ৩-৪ বছর খেলব। কিন্তু সেই পুরনো আবেগ দিয়েই খেলব।"
