বল দেখো, মারো। ক্রিকেট তো শুধু সেটা নয়। সে যতই টি-টোয়েন্টিকে 'পাওয়ার গেম' বলা হোক। সময় বুঝে স্ট্র্যাটেজি বদলাতে হয়, ধৈর্য্য ধরতে হয়। টানা জিততে জিততে কি সেটা ভুলতে বসেছিল টিম ইন্ডিয়া? যদি সেটা হয়, তাহলে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হার কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের জন্য শিক্ষা। প্রোটিয়ারা শিখিয়ে দিয়ে গেল কীভাবে চাপ নিতে হয়। বিশ্বকাপ সেমির স্বপ্ন এখনও অধরা নয়। কিন্তু তার জন্য অনেক কিছু শোধরাতে হবে টিম ইন্ডিয়াকে।
ভুলে ভরা স্ট্র্যাটেজি: এই দলে ওয়াশিংটন সুন্দরের কী ভূমিকা? ব্যাটে রান নেই, বলেও সফল নন। অথচ দলের সহ-অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল বাইরে বসে। ঠিক কোন যুক্তিতে, সেটা একমাত্র গৌতম গম্ভীরই জানেন। তাছাড়া দল চাপে পড়লে কী করতে হয়, সেটারও সম্ভবত কোনও পরিকল্পনা নেই কোচের হাতে। বা থাকলেও দলের প্লেয়ারদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছয় না। প্রশ্নের মুখে সূর্যর নেতৃত্বও। কেন একই ভুল বারবার করছেন দেখেও বরুণ চক্রবর্তী ও শিবম দুবেকে টানা বল করিয়ে গেলেন? সেখানেই তো ম্যাচের রাশ হাতছাড়া করে ফেলল ভারত।
চাপের মুখে ব্যর্থতা: 'গুরুত্বহীন' সিরিজ হোক বা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সাদামাটা প্রতিপক্ষ। ভারতের ব্যাটাররা গোলাবারুদ ছুড়তে অভ্যস্ত। কিন্তু চাপের মুখে পড়তেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং। বিশ্বকাপে বড় রান তাড়া করতে গেলে শুরুটা ভালো করতে হয়। কিন্তু ওপেনিং জুটি ব্যর্থ হওয়ায় চাপ আরও বাড়ল। দক্ষিণ আফ্রিকাও একটা সময়ে ৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০ রান ছিল। কিন্তু মিলার-ব্রেভিসরা ধৈর্য্য ধরেছিলেন। ভারতীয় ব্যাটারদের সেই ধৈর্য্য কোথায়? তিলক বর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর- দুজনেই ক্রিজের বাইরে এসে মারতে গেলেন এবং ডি’ককের হাতে বন্দি হলেন। কোনও প্রয়োজন ছিল কি?
অতি আত্মবিশ্বাস: বিশ্বকাপে টানা ১৭ ম্যাচে জয়। অবিশ্বাস্য রেকর্ড। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকেও হেলায় হারিয়েছে। এই তো মাস কয়েক আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন সূর্যরা। তাই কি অতি আত্মবিশ্বাস গ্রাস করেছিল অভিষেক শর্মাদের? ভারত অধিনায়ক তো ম্যাচের আগে রীতিমতো হুঙ্কার দিয়েছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা বোঝাল তারা আমেরিকা-পাকিস্তান নয়। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং, সব দিকে টেক্কা দিয়ে গেল প্রোটিয়ারা। ৭৬ রানে হার বিশ্বকাপে রানের নিরিখে ভারতের সবচেয়ে বড় হারের লজ্জা।
ওপেনিং জুটি: না, অভিষেক শূন্য রানে আউট হননি। এদিন শূন্য লেখা ছিল ঈশান কিষানের ব্যাটে। টানা চার ম্যাচে ভারতীয় কোনও না কোনও ওপেনারের ব্যাট থেকে রান আসেনি। পাকিস্তান ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বিপক্ষ অধিনায়ক প্রথম ওভারেই এসে উইকেট তুললেন। অভিষেক এদিন করলেন ১৫। একেবারেই স্বচ্ছন্দ নয়। কোথায়-কখন বল চালাবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। বিশেষ করে অফ স্টাম্পের বল পড়লেই দিক হারাচ্ছেন। জানসেন গতির হেরফের করতেই আউট! সঞ্জু স্যামসন কেন বাইরে বসে, কেউ জানে না।
বোলিংয়ে রান দেওয়ার প্রবণতা: আহমেদাবাদে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক আইডেন মার্করাম। নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেটা খেটে গেল। জশপ্রীত বুমরাহ যথারীতি ম্যাজিক দেখালেন। ভালো বোলিং করলেন অর্শদীপ সিংও। কিন্তু বরুণ-শিবম-হার্দিকরা চরম ব্যর্থ। আসলে এর আগে তুলনায় সহজ প্রতিপক্ষ ছিল। প্রথমে ব্যাট করায় বিপক্ষকে চাপেও ফেলা গিয়েছিল। আর এদিন পরিস্থিতি একটু এদিক-ওদিক হতেই টিম ইন্ডিয়ার কঙ্কালসার ছবিটা বেরিয়ে এল।
