আজ যে রাজা, কাল সে ফকির। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে এটাই অভিষেক শর্মার কাহিনি। মেগা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের নয়নের মণি ছিলেন তিনি। ওপেনিংয়ে তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে তিনশো পার করবে ভারত, এমনটাও ভেবে ফেলেছিল ভক্তকুল। কিন্তু সেই অভি-সিক্স ঝড় আর বিশ্বকাপে উঠল কই? বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালেও তিনি ব্যর্থ। তারপরই নেটদুনিয়ায় অভিষেককে নিয়ে সমালোচনার বন্যা।
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম তিন ম্যাচে শূন্যের হ্যাটট্রিক করেছিলেন অভিষেক। তার মাঝে অবশ্য অসুস্থ হয়ে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ১২ বলে ১৫ রান করেন। তারপর অবশ্য জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৩০ বলে ৫৫ রান করেছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে এটাই তাঁর সেরা পারফরম্যান্স। অনেকের আশা ছিল, সেমিফাইনালে একেবারে পাটা ব্যাটিং পিচ পেয়ে জ্বলে উঠবেন পাঞ্জাব দা পুত্তর। কিন্তু অভিষেক আবারও ব্যর্থ। ৭ বলে মাত্র ৯ রান করে আউট হয়ে যান। আগ্রাসী শট মারতে গিয়েই আবারও আউট তিনি।
অভিষেকের ব্যাটিং টেমপ্লেট নিয়ে বিশ্বকাপে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। সুনীল গাভাসকরের মতো কিংবদন্তি, 'শত্রু' পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা মহম্মদ আমির থেকে শুরু করে আম ক্রিকেটপ্রেমী-সকলেই মনে করছেন অভিষেক 'পাতি স্লগার'। ক্রিকেটে ‘স্লগার’ শব্দের অর্থ, যাদের টেকনিকে খামতি আছে। কিন্তু গায়ের জোরে শট মেরে সেই দুর্বলতা পূরণ করতে চায়। সেসময়ে আমিরের মন্তব্যের তুমুল বিরোধিতা করেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু সেমিফাইনালে ব্যর্থ হতেই ভারতীয়রাও অভিষেককে 'পাতি স্লগার' বলেই আক্রমণ করছেন, ঠিক যেমনটা করেছেন আমির।
এক্স হ্যান্ডেলে কেউ বলছেন, 'অভিষেকের মতো পাতি স্লগারকে খেলিয়ে যাচ্ছে ভারত, কিন্তু যশস্বী জয়সওয়াল বা রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের মতো প্লেয়াররা দলেই নেই।' কারোও মত, 'অভিষেককে কেন দিনের পর দিন ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও খেলিয়ে যাওয়া হচ্ছে?' অনেকের কথায়,'বিশ্বকাপে ব্যাট করতে গেলে অনেক দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। যেভাবে ঈশান কিষান এবং সঞ্জু স্যামসন ব্যাট করছে। কিন্তু অভিষেক প্রত্যেক বলেই ছক্কা মারতে চাইছে।' নেটিজেনদের মনের মণিকোঠা থেকে তো আগেই বাদ পড়ে গিয়েছেন অভিষেক। ফাইনালে প্রথম একাদশ থেকেও কি বাদ পড়বেন?
