সেটাও একটা মার্চ মাস। সেবারও টুর্নামেন্টের ফেভারিট ছিল ভারত। সেবার স্বপ্নভঙ্গ করে দিয়েছিলেন আন্দ্রে রাসেল, লেন্ডল সিমনস, জনসন চার্লসরা। সেই ক্যারিবিয়ানদের বাধা টপকে সদ্যই সেমিতে পা রেখেছে ভারত। কিন্তু সেমিতে ফের সেই ওয়াংখেড়ে। আর এবার প্রতিপক্ষ আরও বেশি সমীহযোগ্য। ইংল্যান্ড। যারা কিনা অতীতে সেমিফাইনালে বেগ দিয়েছে টিম ইন্ডিয়াকে।
২০২২ টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিতে এই ইংল্যান্ডের কাছে ১০ উইকেটে লজ্জার হারের মুখ দেখতে হয়েছিল। সুতরাং, এবার ভারত সাবধানী। তবে মেগা সেমিতে নামার আগে ভারতের চিন্তার জায়গা দুটি। এক, ওয়াংখেড়ের সবুজ গালিচা এবং দুই, টিমের দুই ফার্স্ট বয়ের ফর্ম।
পিচের ব্যাপারটা আগে বলা যাক। ওয়াংখেড়ের পিচ এখন পুড়ছে, আর তাতে সবুজের অধিক্য যথেষ্ট প্রকট। বুধবার মাঠে প্রবেশ করামাত্র পিচের কাছে চলে যান ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর। দু'জন বোর্ড কিউরেটরের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তারপরই পিচে জল দেওয়া শুরু হয়ে যায়। ওয়াংখেড়ে পিচের ভাবগতিক যাঁরা ভালো বোঝেন, তাঁদের কেউ কেউ বলছিলেন যে, মুম্বইয়ে অসহ্য গরম পড়ে গিয়েছে। নিয়মিত জল না দিলে পিচ ভেঙে যাবে। ঘাসও তাই রাখা হয়েছে। যাতে পিচের বাঁধুনি 'জীবিত' থাকে।
ভারতের অনুশীলনে অভিষেক। ছবি: সংগৃহীত।
ভালো। কিন্তু এটা সত্যি যে, ভারতীয় শিবির ওয়াংখেড়ে বাইশ গজ নিয়ে যথেষ্ট ফাঁপড়ে পড়েছে। টিমের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল বলে গেলেন, "প্রচণ্ড গরমের কারণে একটু জল দেওয়া হচ্ছে। পিচটা সামান্য নরম হয়ে রয়েছে। তাই একশো শতাংশ নিশ্চিত করে বুঝতে পারছি না, কী দাঁড়াবে শেষ পর্যন্ত?" যার মর্মর্থ সংশয়। কেউ কেউ পরে বললেন যে, পিচে যত ঘাস দেখা যাচ্ছে, অত মোটেও থাকবে না। ছেঁটে ফেলা হবে। ফেললেই ভালো। কারণ, ভারতীয় দলে জসপ্রীত বুমরাহ-অর্শদীপ সিংরা থাকলে, ইংল্যান্ডের জার্সিতেও একজন জোফ্রা আর্চার রয়েছেন। ভারতের মাটিতে কাপ সেমিফাইনালে একবার সবুজ পিচ পেয়ে গেলে, রক্ষা থাকবে তো?
অনুশীলনে বরুণ চক্রবর্তী। ফাইল ছবি।
তবে ওয়াংখেড়ে বাইশ গজ মোটেও গম্ভীরের ভারতের একমাত্র সমস্যা নয়। বরুণ চক্রবর্তীর লেংথ, অভিষেক শর্মার ফর্ম আনুষাঙ্গিক দুর্ভাবনা রয়েছে আরও। মজার কথা হল, বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই দুই তারকার উপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা করছিল ভারত। আইসিসির টি-২০ ক্রমতালিকায় এখনও শীর্ষে দুই তারকা। অতএব দুজনেই ফার্স্ট বয়। কিন্তু সেই দুই ফার্স্ট বয়ের কেউ ফর্মে নেই। লেংথ এবং নিজের ‘স্টক বল’ নিয়ে ঘোর ঝঞ্ঝাটে পড়েছেন বরুণ। বরুণের হাতে দু’টো গুগলি রয়েছে। প্রথমটা, কব্জি ব্যবহার করে প্রয়োগ করেন। দ্বিতীয়টা, আঙুল। যা সজোরে ডান হাতি ব্যাটারের ভেতরে আসে। যা তাঁর এতদিনের সফল ‘পাশুপাত’। বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত যার ‘প্রতিষেধক’ বার করতে পারেননি বিপক্ষ ব্যাটাররা। কিন্তু বিশ্বকাপে পারছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সর্বপ্রথম দেখিয়ে দিয়েছে, বরুণকে অফস্পিনার ভেবে খেললে, সামলে দেওয়া সম্ভব। নিছক সামলানো নয়, পাল্টা আক্রমণ করা সম্ভব। পরবর্তীতে যে পথ জিম্বাবোয়ে অনুসরণ করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে। স্মরণে রাখা প্রয়োজন, দু’একটা উইকেট পেলেও গত তিন ম্যাচে সম্মিলিত ১২২ রান দিয়েছেন বরুণ! যার পর তাঁকে আর যা-ই হোক, পূর্বের মতো রহস্য-পরিবৃত ঐন্দ্রজালিকের পর্যায়ে রাখা যাচ্ছে না।
আর অভিষেক বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ফর্ম, ফিটনেস এবং আত্মবিশ্বাস তিনটিই খুঁজছেন। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একটা হাফসেঞ্চুরি করেছেন বটে, কিন্তু সেটাও খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ইনিংস ছিল না। তবে সেমিফাইনালে টিমে বদলও সম্ভবত হচ্ছে না। অভিষেক খেলবেন। বরুণও খেলবেন। অন্তত তেমনটাই ভারতীয় শিবির সূত্রের খবর। শেষবেলায় এসে আর টিমে বদল চাইছে না ভারত। তাছাড়া দুই ফার্স্টবয়'কে এখনও ভরসা করেন কোচ গম্ভীর।
