shono
Advertisement
T20 World Cup

দুর্ধর্ষ বরুণ-অক্ষররা, নামিবিয়ার বিরুদ্ধে সহজ জয়ে পাক যুদ্ধের মহড়া সারল ভারত

ভারতের দেওয়া ২১০ রান তাড়া করতে নেমে নামিবিয়ার ইনিংস শেষ হল ১১৬ রানে। 'ঈগলস'দের হারিয়ে পাক যুদ্ধের ড্রেস রিহার্সালটা ভালোই সারলেন সূর্যকুমার, বরুণ চক্রবর্তীরা। তবে ম্যাচ জিতলেও পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হয়ে শ্রীলঙ্কা যাচ্ছে না টিম ইন্ডিয়া।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 10:34 PM Feb 12, 2026Updated: 12:10 AM Feb 13, 2026

ভারত: ২০৯/৯ (ঈশান ৬১, হার্দিক ৫২, গেরহার্ড ২০/৪, শিকোঙ্গো ৪১/১)
নামিবিয়া: ১১৬/১০, (স্টিনক্যাম্প ২৯, ফ্রাইলিঙ্ক ২২, বরুণ ৭/৩, অক্ষর ২০/২)
৯৩ রানে জয়ী ভারত।

Advertisement

ভারত ও নামিবিয়া। দুই দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে উইন্ডহুকের দূরত্ব প্রায় সাড়ে আট হাজার কিমি। দুই দেশের ক্রিকেটের দূরত্বটা হয়তো তার চেয়ে বেশি। তবে আটলান্টিক সাগরের তীরবর্তী আফ্রিকান দেশটি টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে যথাসাধ্য চেষ্টা করল। তবে 'অসম' দূরত্বটাকে মানতে হবেই। ভারতের দেওয়া ২১০ রান তাড়া করতে নেমে ১৮.২ ওভারে নামিবিয়ার ইনিংস শেষ হল ১১৬ রানে। 'ঈগলস'দের ৯৩ রানে হারিয়ে পাক যুদ্ধের ড্রেস রিহার্সালটা ভালোই সারলেন সূর্যকুমার, বরুণ চক্রবর্তীরা। 

দু'শোর উপর রান তাড়া করতে নেমে ভয়ভীত হয়ে থাকেনি নামিবিয়া। অর্শদীপের বলে মারতে গিয়ে ২২ রানে সাজঘরের রাস্তা দেখলেন জ্যান ফ্র্যাঙ্কলিন। ৩৩ রানে নামিবিয়ার প্রথম উইকেট পড়লেও রানের গতি কমেনি। ৫.৪ ওভারে ৫০ পার করে তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই তাদের দ্রুততম পঞ্চাশ। আর পাওয়ার প্লেতে উঠল ৫৭ রান। অর্থাৎ ওভার পিছু সাড়ে নয় করে তুলছিল দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এতক্ষণ তাঁর তুরুপের তাস লুকিয়ে রেখেছিলেন। তাঁরা জশপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর প্যাটেল। একে একে সেই তাসের ব্যবহারেই পুরোপুরি হড়কে গেল নামিবিয়া।

সিরাজের জায়গায় ফিরে নামিবিয়ার ইনিংসের সপ্তম ওভারে বুমরাহ দিলেন ৯ রান। তবে নতুন বলে কেন তিনি শুরু করলেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পরে। এর পরের ওভারের প্রথম বলেই জুটি ভাঙলেন বরুণ। ভারতীয় বোলারের রহস্যের হদিশ না পেয়ে ক্লিন বোল্ড লৌরেন স্টিনক্যাম্প (২৯)। এরপর অক্ষর এসে নামিবিয়ার অধিনায়ক এরাসমাসকের কাছে জোড়া ছক্কা খেয়ে ওভারে ১৪ রান দিলেন। তখনও নামিবিয়ার রানরেট নয়ের উপর। তাদের সমর্থকরা যখন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন। অঘটন কি হবে? ঠিক সেই সময় বরুণের ব্রেক থ্রু। স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে তিনি জোড়া সাফল্য পেলেন। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হলেন জান নিকোল লফ্টি-এটন (১৩)। বিনা স্কোরে বোল্ড হলেন জেজে স্মিট। বিপক্ষেরও যেন কোমর ভেঙে গেল সেখানে।

ফ্র্যাঙ্কলিনকে ফিরিয়ে অর্শদীপ। ছবি সংগৃহীত।

সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম ওভারের 'ভুল' আর করলেন না অক্ষর। মেডেন-সহ নামিবিয়ার অধিনায়কেকে ১৮ রানের মাথায় ফিরিয়ে যেন বুঝিয়ে দিলেন 'সব বলে ছক্কা হয় না'। ৮৮ রানে পাঁচ উইকেট খোয়ানোর পর ভারতের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। এরপর ক্রুগারকে আউট করলেন সেই অক্ষর। বুমরাহর নিখুঁত ইয়র্কারে ট্রাম্পেলম্যান (৬) সাজঘরের পথে হাঁটা দিলেন। ১৭ ওভারে বল করতে এসে পরপর উইকেট নিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। প্রথম ভারতীয় বোলার হিসাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের নজির হল না। তবে চার ওভারে ২১ রানে ২ উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, পাক ব্যাটারদেরও তাঁকে নিয়ে বাড়তি হোমওয়ার্ক করতে হবে। শেষে শিবম দুবের বলে হিট উইকেট হলেন জেন গ্রিন (১১)। ভারতও জয় পেল ৯৩ রানে। যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়। 

বৃহস্পতিবারের ম্যাচটা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে ভারতের ড্রেস রিহার্সাল ছিল। সেই ম্যাচে টস হারেন সূর্য। প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। অভিষেক শর্মার পরিবর্তে এদিন ওপেন করতে নামেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ৮ বলে ২২ রান করেন তিনি। অপর প্রান্তে ঝোড়ো ব্যাটিং করেন দুরন্ত ফর্মে থাকা ঈশান কিষানও। মাত্র ২৪ বলে ৬১ রানের ইনিংসে ছিল ছ'টি বাউন্ডারি এবং পাঁচটি ছক্কা। অতি আগ্রাসী ব্যাটিং করতে গিয়েই শেষ পর্যন্ত উইকেট খোয়ান। ঈশানের উইকেট পড়ার পরেই আচমকা ছন্দ হারিয়ে ফেলে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ। রান পাননি সূর্যকুমার (১২), তিলক বর্মা (২৫), রিঙ্কু সিংরা (১)। শেষবেলায় চালিয়ে খেলে ২৮ বলে ৫২ রানের হার্দিকের ইনিংসেই ২০০ রানের গণ্ডি পার করান হার্দিক। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে ভারত মাত্র ২৫ রানে ৫ উইকেট হারাল। যা পাকিস্তান ম্যাচের আগে চিন্তায় রাখবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। যদিও ভারতের দেওয়া ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু করলেও পুরো ২০ ওভার খেলতে পারল না তারা। বরুণ দু'ওভারে ৭ রান দিয়ে নিলেন ৩ উইকেট। অক্ষর ২, হার্দিক ২, বুমরাহ, অর্শদীপ, শিবম দুবে ১টি করে উইকেট ভাগ করে নিলেন।  

রবিবার ভারত-পাকিস্তান মহারণ। তার আগে গৌতম গম্ভীরদের ভাবাচ্ছে চোট-আঘাত, অধারাবাহিক মিডল অর্ডার। তাছাড়াও খেলা হবে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। যে মাঠে ইতিমধ্যেই দু'টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে পাকিস্তান। অর্থাৎ বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদিরা পরিবেশের সঙ্গে ইতিমধ্যেই মানিয়ে নিয়েছেন। আমেরিকা ও নামিবিয়াকে হারালেও টিম ইন্ডিয়াকে প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর নিজেও ভালো করেই জানেন এই ম্যাচের চাপ কতটা। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং পুরোপুরি ব্যর্থ। দ্বিতীয় ম্যাচে কিছুটা ভালো, কিছুটা 'কালো' ভারতীয় ব্যাটিং। নাহলে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়ার রান ২৪০-এ পৌঁছত। মনে রাখতে হবে, শ্রীলঙ্কায় কিন্তু ফ্ল্যাট ব্যাটিং পিচ নাও পেতে পারে ভারত।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement