প্রথমে গোটা বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি। তারপর ভারতের বিরুদ্ধে দল না নামানোর সিদ্ধান্ত। শেষবেলায় আবার ইউ টার্ন নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে নামার ঘোষণা। গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এই নাটকে সবচেয়ে বেশি যাঁদের ভুগতে হচ্ছে, তাঁরা হলেন সমর্থকরা। পাক বোর্ডের এই নাটকের ফলে শেষ মুহূর্তে আকাশছোঁয়া কলোম্বোর বিমান ভাড়া। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হোটেলের খরচও। ফলে অনেকের ওই মহারণ দেখার ইচ্ছা থাকলেও পকেটের রেস্তয় কুলোচ্ছে না।
টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বহিষ্কার করতেই তেড়েফুঁড়ে ওঠে পাকিস্তান। স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের প্রতি এহেন আচরণ তারা মোটেও বরদাস্ত করবে না। আইসিসির পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদ এবং বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে পাকিস্তান সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না তারা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বোর্ড কর্তা এবং আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে সুর নরম করে পাক বোর্ড। কোনও শর্ত না রেখেই অবশেষে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। সমস্যা হল গোটা ঘটনাক্রমে মেগা ম্যাচের এক সপ্তাহে আগে পর্যন্ত ম্যাচটা আদৌ হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার খাড়া ঝুলছিল।
যার ফলে দুটি সমস্যায় পড়েন সমর্থকরা। এক, ম্যাচ হবে কিনা না জানায় অনেকে টিকিট কাটেননি, বিমান বা হোটেল বুক করেননি। দুই, যারা আগেই টিকিট বুক করেছিলেন তাঁদেরও অনেকে ম্যাচ হবে না ধরে নিয়ে টিকিট বাতিল করে দেন। হোটেলের বুকিং বাতিল করে দেন। ৮ ফেব্রুয়ারির পর ম্যাচ হবে, এটা নিশ্চিত হয়ে যেতেই সকলে একসঙ্গে বুকিং শুরু করেন। যার অবধারিত ফলাফল বিমানের টিকিট, হোটেলের ভাড়া বৃদ্ধি।
জানা যাচ্ছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের যে কোনও শহর থেকে কলম্বোর বিমানের ভাড়া প্রায় ৩-৪ গুণ বেড়ে গিয়েছে। দিল্লি-মুম্বই থেকে কলম্বোর বিমান ভাড়া এমনিতে ৩০-৬০ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। সেখানে এখন টিকিট মূল্য প্রায় ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার। বিজনেস ক্লাসের টিকিট আড়াই লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। একই পরিস্থিতি কলোম্বোর হোটেলগুলিতেও। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অতি সাধারণ মানের হোটেলেও দৈনিক ভাড়া ৪০-৫০ হাজার টাকা। একটু ভালো মানের হোটেল হলেই সেই ভাড়া পেরিয়ে যাচ্ছে লক্ষ। যার ফলে সাধারণ দর্শককে ওই ম্যাচ দেখতে হলে আর পাঁচটা টুর্নামেন্টের তুলনায় ৩-৪ গুণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। আর এ সবটাই হচ্ছে ওই পাকিস্তানের নাটকের জন্য।
