ফুটবলের দেশ হিসাবেই তাদের চেনে সকলে। কিন্তু এবার ক্রিকেটদুনিয়ায় নিজেদের ছাপ রাখল তারা। বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল ইটালি। মাসছয়েক আগে ইতিহাস গড়ে টি-২০ বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পেয়েই ইতিহাস গড়ে ফেলেছিল তারা। এবার প্রথম জয় পেয়ে ইটালির ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখলেন জাস্টিন মোসকা-অ্যান্থনি মোসকারা। একেবারে একপেশে ম্যাচে নেপালকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইটে ওঠার স্বপ্ন জিইয়ে রাখল ইটালি।
ক্রিকেট বিশ্বকাপে এই প্রথমবার খেলছে ইটালি। তবে রবার্তো বাজ্জিওর দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে আগ্রহ থাকলেও খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিরাট ব্যবধানে হেরে যায় ইটালি। তারপর ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এবার টি-২০ বিশ্বকাপে হয়তো ইটালি কোনও ম্যাচ জিতবে না। অন্যদিকে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে প্রায় হারিয়ে দিচ্ছিল নেপাল। একেবারে শেষ বলে গিয়ে কোনওমতে ম্যাচ বাঁচায় ইংল্যান্ড। তাই ইটালির বিরুদ্ধে নেপাল সহজে জিতে যাবে বলেই ধরে নিয়েছিল ক্রিকেটমহল।
কিন্তু ক্রিকেট মহা অনিশ্চয়তার খেলা। তাই ম্যাচের ছবিটা একেবারে অন্যভাবে আঁকলেন ক্রিকেট দেবতা। ওয়াংখেড়েতে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন ইটালির অধিনায়ক হ্যারি মানেনতি। প্রথম থেকেই ইটালির স্পিনারদের সামনে নেপালের ব্যাটিং লাইন আপকে নড়বড়ে দেখায়। আট রানে প্রথম উইকেট হারায় নেপাল। তারপর থেকে কোনও ব্যাটারই উইকেটে থিতু হয়ে পালটা মার দিতে পারেননি। নেপালের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন আরিফ শেখ। ১৯.৩ ওভারেই গুটিয়ে যায় নেপালি ইনিংস।
১২৪ রানের টার্গেট ইটালির ব্যাটিং লাইন আপের পক্ষে কতখানি কঠিন হবে, প্রশ্ন ছিল। কিন্তু দুই ওপেনারের তাণ্ডবে মাত্র ১২.৪ ওভারেই ম্যাচ জিতে গেল ইটালি। দুই ওপেনার জাস্টিন মোসকা এবং অ্যান্থনি মোসকা যথাক্রমে ৬০ এবং ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪৪ বল বাকি থাকতে ম্যাচ গেল ইটালির ঝুলিতে। ম্যাচের আগে পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলে সকলের নিচে ছিল ইটালি। কিন্তু নেপালের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ের পর তারা উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে। পিছনে ফেলে দিয়েছে ইংল্যান্ডকেও।
