গত তিন বছরে ভারতীয় দল তিনটে আইসিসি ট্রফি জিতেছে। তিনবারই টিমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। কুলদীপ যাদব। সোমবার সন্ধেয় তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় বোঝা যাচ্ছিল, ঘরের মাঠে কাপ জয়ের হ্যাংওভার কাটেনি পুরোপুরি। তার মধ্যেই 'সংবাদ প্রতিদিন'-কে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ফাঁস করলেন টিম ইন্ডিয়ার বিশ্বজয়ের ইউএসপি।
প্রশ্ন: বিশ্বজয়ের পর কেমন উৎসব হল?
কুলদীপ: দারুণ। মাঠে একপ্রস্থ উদযাপন হয়েছে। এরপর হোটেলে ফেরার পর। সারা রাত আমরা আড্ডা দিয়েছি। তা ভোর পর্যন্ত চলেছে। দুর্দান্ত অনুভূতি। আবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়। সেট আরও স্পেশাল। ভরা গ্যালারি টিমের জন্য চিৎকার করেছে। সমর্থন করেছে। সেটা আরও মোটিভেট করে আমাদের।
প্রশ্ন: কাপ জেতার পর পুরো গালারি আপনাদের সঙ্গে উৎসব করছিল।
কুলদীপ: হুমম। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল পুরোটা।
প্রশ্ন: এখনও কাপ জয়ের হ্যাংওভার রয়েছে নিশ্চয়ই।
মাঠে একপ্রস্থ উদযাপন হয়েছে। এরপর হোটেলে ফেরার পর। সারা রাত আমরা আড্ডা দিয়েছি। তা ভোর পর্যন্ত চলেছে। দুর্দান্ত অনুভূতি। আবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়। সেট আরও স্পেশাল। ভরা গ্যালারি টিমের জন্য চিৎকার করেছে।
কুলদীপ: এখন দু'টো দিন এরকমই থাকবে। বিশ্বকাপ জয়ের ব্যাপারটাই আলাদা। একেবারে স্বর্গীয় অনুভূতি।
প্রশ্ন: ফাইনালে তো একেবারে নিখুঁত ক্রিকেট খেলল টিম।
কুলদীপ: একদম। সবকিছু একেবারে নিখুঁত। বলতে পারেন পারফেক্ট ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল। ওপেনিং থেকে শুরু করে শেষপর্যন্ত, সব একেবারে নিখুঁত হয়েছে। একেবারে পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়েছে।
প্রশ্ন: পরপর দু'বার বিশ্বকাপ জিতলেন।
কুলদীপ: একটা মিস করে যাচ্ছেন। মাঝে চাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছি। তিন বছরে তিনটে আইসিসি ট্রফি। এটাই প্রমাণ করে, আমাদের টিম কতটা শক্তিশালী।
প্রশ্ন: সেমিফাইনাল, ফাইনাল- দু'টো হাই প্রেসার ম্যাচে একটা টিম পরপর আড়াইশোর বেশ রান করছে, এরকম খুব একটা দেখা যায় না।
কুলদীপ: এটাই আমাদের টিমের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। ভয়ডরহীন ক্রিকেট। সেটা সব পরিস্থিতিতেই। গত দেড়-দু'বছর ধরে ঠিক এরকম ক্রিকেটই দল খেলে এসেছে। হাই রিস্ক ক্রিকেট। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে যদি দেখেন, আমরা টি-টোয়েন্টিতে আকছার দু'শো-আড়াইশো রান তুলেছি। ড্রেসিংরুমে ঠিক এই কথাই হয়েছিল। হার নিয়ে ভাবতে হবে না। মন খুলে ক্রিকেট খেলো। মন থেকে ভয় ব্যাপারটা একেবারে দূরে সরিয়ে রাখো। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলব। তাতে যদি এক-আধটা ম্যাচে রেজাল্ট এদিক-ওদিক হয়, তাতে ভাবার কোনও দরকার নেই। কিন্তু টেমপ্লেট বদলানো যাবে না। তাই আমরা দু'টো ম্যাচেই আড়াইশোর উপর রান করেছি। সঞ্জু দু'টো ম্যাচে একশোর খুব কাছে গিয়ে আউট হয়েছে (ইডেনে নটআউট ছিল)। কিন্তু তা নিয়ে ওর আফসোস নেই। ট্রফিটাই শেষ কথা।
হার নিয়ে ভাবতে হবে না। মন খুলে ক্রিকেট খেলো। মন থেকে ভয় ব্যাপারটা একেবারে দূরে সরিয়ে রাখো। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলব। তাতে যদি এক-আধটা ম্যাচে রেজাল্ট এদিক-ওদিক হয়, তাতে ভাবার কোনও দরকার নেই। কিন্তু টেমপ্লেট বদলানো যাবে না।
প্রশ্ন: এটাই টিমের ইউএসপি বলছেন?
কুলদীপ: একদম। টিমের আরও একটি বড় গুণ আছে। সবাই সবার পাশে থাকে। ভালো সময় হোক কিংবা খারপ সময়, একে অপরকে মোটিভেট করে। যখন সব কিছু ভালো চলে, তখন সব ঠিকঠাক থাকে। আসল হল কঠিন সময়ে টিমকে পাশে পাওয়া। ক্রিকেটে ভালো সময় যেমন থাকে, তেমনই খারাপও আসবে। খারাপ সময়ে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে সবাই আপনাকে আগলে রাখে। তাতে মনোবল অরও বেড়ে যায়।
প্রশ্ন: কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুটা এবার খুব ভালো হয়নি। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে গিয়েছিল।
কুলদীপ: গ্রুপে আমরা সব মাচ জিতেছিলাম। হ্যাঁ, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে আমরা বাজে ভাবে হেরেছি। ওটাই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে খারাপ মাচ ছিল আমাদের। তারপর সবাই আলোচনায় বসি। নিজেদের মধ্যে কথা হয়। তবে একটা কথা বিশ্বাস করুন, ওই হারের পর ড্রেসিংরুমে না পরিবেশ একটুও বদলায়নি। আগেও যেমন সবাই হাসিখুশি থাকত, ম্যাচের পরও একইরকম ছিল। ভীষণ রিলাক্সড। সবার বিশ্বাস ছিল, এই টিমের ঘুরে দাড়ানোর ক্ষমতা আছে। একটা ম্যাচে টিম হারতেই হারে। সেটা দিয়ে এই দলকে বিচার করলে চলবে না। যে কোনও ভালো টিমের আসল ক্যারেক্টর হল, দুর্যোগ কাটিয়ে কীভাবে কামব্যাক করে। আমরা সেটাই করে দেখালাম।
প্রশ্ন: পরবর্তী পরিকল্পনা কী?
কুলদীপ: আপাতত কয়েকটা দিন একটু বিশ্রাম নেন। তারপর আবার প্রস্তুতি শুরু করব। এবার আইপিএল আসছে।
