সঞ্জু স্যামসন ছোট থেকেই এরকম।
ভারতীয় ক্রিকেটে সঞ্জুর বিশেষ একটা নাম রয়েছে - কামব্যাক ম্যান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে প্রায় এগারো বছর আগে। কিন্তু এসময় যাবৎ খুব বেশি ম্যাচ খেলেননি। ওয়ানডে'র সংখ্যা কুড়ি পেরোয়নি। টি-টোয়েন্টি একটু বেশি। সেঞ্চুরি থেকে এখনও অনেকটা দূরে সঞ্জু। অন্য কেউ হলে কী করতেন জানা নেই। কিন্তু সঞ্জু এক মুহূর্তের জন্য কখনও হাল ছাড়েননি। সবসময় কামব্যাকের লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। টিম থেকে বাদ পড়েছেন। আবারও ফিরে এসেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথাই ধরুন। বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজে চূড়ান্ত ব্যর্থতা। যার ফলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুযোগ আসেনি। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে খেলেননি। কিন্তু সঞ্জু একটা কথা জানতেন। সুযোগ হয়তো আসবে। নিজেকে ফের প্রমাণ করবেন। ইডেনে মহা-চাপের ম্যাচে দু’শোর কাছাকাছি রান তাড়া করতে নেমে নায়ক। ওয়াংখেড়েতেও তাই। ভাবলে অবাক লাগে বিশ্বকাপের আগে সঞ্জু ছিলেন গলিঘুঁজিতে। আর এখন রাজপথে। অনেকে বলছেন, পুরোটাই রূপকথা। তবে এসব কোনও রূপকথা নয়। সবটাই সঞ্জুর পরিশ্রম।
ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটারের ছোটবেলার কোচ বিজু জর্জ বলছিলেন, “ও ছোট থেকেই ভীষণ পরিশ্রমী। তিরিশ-চল্লিশ কিলোমিটার ট্রাভেল করে প্র্যাকটিসে আসত। একটা দিনও কামাই করত না। অ্যাকডেমিতে যেখানে প্র্যাকটিস করল, তখন একটা কমন জায়গা ছিল। ওখানেই স্নান করে সঞ্জু স্কুলে চলে যেত। ফিরে আবার ট্রেনিং করত। ছোটবেলা থেকেই ও একটা কথা খুব বিশ্বাস করত। কঠোর পরিশ্রমের কোনও বিকল্প হয় না। সেই ফল পাচ্ছে। পরিশ্রমের ফল সবসময় মিষ্টি হয়। এখনও একইরকম পরিশ্রম করে। ওর ওয়ার্ক এথিক্স মারাত্মক।”
সঞ্জু নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটমহলে একটা কথা খুব বলাবলি চলে। তিনি নাকি নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ভারতীয় দলে ধারাবাহিক নন। কিন্তু সেসব নিয়ে সঞ্জুর মনে কখনও নেতিবাচক ভাবনা আসেনি। কামব্যাকের মন্ত্রের পাঠ ছোট থেকেই শিখেছিলেন তিনি। সঞ্জুর কোচের কথায়, “ছোট থেকেই ও এরকম। টিম থেকে বাদ পড়লেও কখনও ভেঙে পড়েনি। ও জানে কীভাবে কামব্যাক করতে হয়। ছোট থেকেই সেটা শিখেছে। ওকে শুধু একটা কথা বলেছি, সবসময় সাধারণ থেকো। মাটিতে পা রেখো চলো। নিজের ওয়ার্ক এথিক্স কখনও বদল করো না। সঞ্জু ঠিক সেটাই করে।”
না হলে দু'টো ম্যাচেই কেউ এরকম মহানায়ক হয়ে উঠতে পারেন নাকি!
