যত বড় 'বঞ্চনা', তত বড় হোক প্রত্যাবর্তন। ভারতকে জিতিয়ে যেন এটাই ইডেনের দেওয়ালে লিখে দিয়ে গেলেন সঞ্জু স্যামসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে 'কোয়ার্টার ফাইনালের' চাপ সামলে বড় রান তাড়া করে ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেন তিনি। ৫০ বলে ৯৭ রানের ইনিংসটা হয়তো ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ম্যাচের পর সঞ্জু বলে গেলেন, এই দিনটার জন্যই এতদিন ধরে ক্রিকেট খেলেছেন। সঙ্গে কৃতিত্ব দিয়ে গেলেন পূর্বসুরী রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি-মহেন্দ্র সিং ধোনিদের।
ইডেনের পিচে ১৯৬ রান তাড়া করাটা হয়তো অসাধ্য নয়। কিন্তু বিশ্বকাপের চাপও তো একটা ব্যাপার। চাপ! কীসের চাপ? সঞ্জু স্যামসন বোধহয় সেই শব্দটা শুনে ইডেনে নামেননি। ডাগআউটে বসে বসে হয়তো মনের মধ্যে একটা প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছিলেন। অগ্নিপরীক্ষায় নিজেকে প্রমাণ করে ‘বঞ্চনা’র জবাব দেব! ক্যারিবিয়ানদের দুর্ভাগ্য ও ভারতের সৌভাগ্য যে এই ম্যাচটায় তিনি সঞ্জু থেকে ‘সুপার’সঞ্জু হয়ে উঠলেন। ম্যাচ জিতিয়ে মাঠেই বসে পড়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর সাজঘরে গিয়ে ব্যাটে চুম্বন। বোঝাই যাচ্ছিল, ইনিংসটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ম্যাচের পর সঞ্জু বললেন, "যেদিন থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি, যেদিন থেকে দেশের জন্য খেলছি, সেদিন থেকে এই ইনিংসটার জন্য অপেক্ষা করেছি। আমার ক্রিকেট সফরে বহু উত্থানপতন ছিল। নিজের ক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছি। ভাবতাম, আমি কি পারব? কিন্তু এই দিনটার জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।"
সঞ্জুর বিশেষত্ব হল, খুব একটা জোরে মারার চেষ্টা করেন না। কিন্তু ক্লাস-টাইমিংয়ে যে টি-টোয়েন্টি শাসন করা যায়, তা ফের বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন সঞ্জু। মাঝের দিকে ধরে ইনিংস সাজিয়েছেন। ম্যাচ শেষ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। কারও স্মৃতিতে ফিরতেই পারে ‘চেজমাস্টার’ বিরাট কোহলির কথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতীয়দের মধ্যে কোহলিকে টপকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়লেন তিনি। সঞ্জু বলে গেলেন, "আমি বহু বছর ধরে এই ফরম্যাটে খেলছি। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের মতো ক্রিকেটারদের থেকে শিখেছি। সেটা আমাকে পরিপক্ব হতে সাহায্য করেছে। আমি দেখেছি এই কিংবদন্তিরা কীভাবে খেলেন, কীভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার গতি বদলান। সেভাবেই খেলেছি। কখনও ভাবিনি এরকম একটা ইনিংস খেলব। আজকের দিনটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা দিন।"
