জামশেদপুর এফসি এবং নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে বাদ দিয়ে আইএসএলের ১২টি ক্লাব একসঙ্গে কড়া চিঠি পাঠাল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনকে। পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে, ফেডারেশন যদি মনে করে আইএসএল (ISL) শুধুমাত্র ফেডারেশনের লিগ, তাহলে এর পুরো আর্থিক দায়ভার ফেডারেশনকেই নিতে হবে। আর যদি ক্লাবগুলোও এই লিগের অংশীদারিত্ব পায়, তাহলে লিগ পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্লাবগুলির কথাও গুরুত্ব দিতে হবে। অথচ ক্লাবদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই নিজেদের মনের মতো করে দীর্ঘমেয়াদি মার্কেটিং রাইটস দেওয়ার জন্য টেন্ডার ডেকে দিয়েছে। এরকম বহু অভিযোগ জানিয়ে ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সত্যনারায়ণকে চিঠি দিয়েছে আইএসএলের ১২টি ক্লাব।
কিছুদিন আগে আইএসএলের ক্লাবগুলিকে চিঠি দিয়ে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কয়েকটি কিস্তিতে পূর্ব ঘোষণামতো ১ কোটি টাকা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না দিলে প্রতিদিন ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে প্রতি ক্লাবকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন ফেডারেশনকে কড়া চিঠি দিয়েছে ক্লাবগুলি।
চিঠিতে ক্লাবগুলো জানিয়েছে, ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকা প্রথম কিস্তি জমা দেবে। তবে এই অর্থ দেওয়ার মানে এই নয় যে, ফেডারেশনের সব সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হচ্ছে—এমন নয়। ভবিষ্যতে ক্লাবগুলির আপত্তি বা অধিকার এই ইস্যুতে বজায় থাকবে।
কিছুদিন আগে আইএসএলের ক্লাবগুলিকে চিঠি দিয়ে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কয়েকটি কিস্তিতে পূর্ব ঘোষণামতো ১ কোটি টাকা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না দিলে প্রতিদিন ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে প্রতি ক্লাবকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এদিন ফেডারেশনকে কড়া চিঠি দিয়েছে ক্লাবগুলি।
ক্লাবগুলির অভিযোগ, সংশোধিত আর্থিক মডেল অনুযায়ী লিগ পরিচালনার সমস্ত অপারেশনাল খরচ ক্লাবগুলিকেই বহন করতে হচ্ছে, অথচ ফেডারেশনে তাদের থেকে কোনও আর্থিক দায়ভার বহন করছে না। তবুও মোট আয়ের থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ ফেডারেশন নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছে। ক্লাবগুলির মতে, যখন তারা লিগের ১০০ শতাংশ অপারেশনাল ব্যয় বহন করছে এবং সব কিছুর আর্থিক ঝুঁকি নিচ্ছে, তখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও একতরফাভাবে ফেডারেশন নেবে, এরকমটা হতে পারে না।
সবচেয়ে বড় আপত্তি উঠেছে ISL-এর দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে প্রকাশিত টেন্ডারকে কেন্দ্র করে। ক্লাবগুলির দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশের আগে তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি, এমনকি খসড়াও দেখানো হয়নি। ক্লাবগুলির বক্তব্য, ভবিষ্যতে কী অনুপাতে আর্থিক পরিকাঠামো হবে, কী পদ্ধতিতে লিগ চলবে, সঙ্গে লিগের বাণিজ্যিক অধিকার নির্ধারণ করবে এমন নথি তাদের না জানিয়ে প্রকাশ করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা।
ক্লাবগুলির বক্তব্য, ভবিষ্যতে কী অনুপাতে আর্থিক পরিকাঠামো হবে, কী পদ্ধতিতে লিগ চলবে, সঙ্গে লিগের বাণিজ্যিক অধিকার নির্ধারণ করবে এমন নথি তাদের না জানিয়ে প্রকাশ করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা।
এছাড়া চলতি মরসুমকে কেন্দ্র করে ফেডারেশনের আর্থিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ক্লাবগুলো। তাদের দাবি, সম্প্রচার আয় কমে যাওয়া, স্পনসরশিপ সংকট এবং মরসুম সংক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির মধ্যে ক্লাবগুলিকেই অধিকাংশ খরচ বহন করতে হয়েছে। অথচ একটি ডিজিটাল সম্প্রচার চুক্তি থেকে সম্ভাব্য আয়ের একটি বড় অংশ ফেডারেশন নিজেদের কাছে রাখছে, যা ক্লাবগুলির মতে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে অযৌক্তিক। স্পোর্টিং দিক থেকেও ক্লাবগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, অসম ভাবে হচ্ছে হোম–অ্যাওয়ে ম্যাচ, অপারেশনাল অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক বৈষম্যের কারণে এই মরসুমের আইএসএলকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতা হিসেবে মান্যতা দেওয়া কঠিন। এই পরিস্থিতিতে অবনমন কার্যকর করা হলে তা প্রতিযোগিতার খারাপ ফলের জন্য নয়, বরং কাঠামোগতভাবে একটি ক্লাবকে বাদ দেওয়া হবে বলে তারা দাবি করেছে। নোটিশে প্রতিদিন এক লক্ষ টাকা জরিমানার মতো কঠোর এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের বিষয়েও ক্লাবগুলো আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের পরিবেশের সঙ্গে এরকম কঠোর ভাষা ব্যবহার সঙ্গতিপূর্ণ নয়। চিঠির শেষে ক্লাবগুলো এটাও জানিয়েছে, তারা আলোচনায় প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা হতে হবে স্বচ্ছতা, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। ক্লাবগুলির বক্তব্য, আইএসএল সম্পূর্ণভাবে ফেডারেশনের লিগ হয়, তবে আর্থিক দায়ভারও ফেডারেশনকেই বহন করতে হবে। আর যদি এটি ক্লাবগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের লিগ হয়, তাহলে ক্লাবদের কথাও ফেডারেশনকে শুনতে হবে।
