ভারত (প্রথম ইনিংস): ২৮৮/২ (পাড়িক্কল ১৩১*, রাহুল ৭৭, প্রভাত জয়সূর্য ৭৭/১)
দু'বছর আগে টেস্ট অভিষেক। তারপর অপেক্ষা করতে হল আরও দু'বছর। অবশেষে গলের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই ১৩৪ বলে তিন অঙ্কের রানে পৌঁছে নজর কাড়লেন বাঁহাতি ব্যাটার। দু'বছর পর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে টিম ইন্ডিয়ার কোনও ব্যাটার সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গলে ৬০০তম টেস্টের প্রথম দিনেই অ্যাডভান্টেজে টিম ইন্ডিয়া। ভারতের রান ২ উইকেটে ২৮৮। তবে দিনের শেষে শুভমানদের উদ্বেগে রাখবে কেএল রাহুলের চোট।
৮০তম স্বাধীনতা দিবসে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শুভমান গিল। সরফরাজ খান বা আকিব নবি সুযোগ পাননি। তিন নম্বরে খেল্লেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। যদিও তার আগে অসাধারণ শুরু করেন দুই ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল এবং কেএল রাহুল। বিশেষ করে আগ্রাসী মেজাজে খেলছিলেন বাঁহাতি তারকা। তবে ৩৭ বলে ৩২ রানের মাথায় নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় যশস্বীকে। এরপরেই রাহুলের সঙ্গে ১৫০ রানের জুটি গড়েন দেবদত্ত।
তিন নম্বর জায়গাটাও যেন নতুন করে নিজের করে নিলেন দেবদত্ত। ২০২৪ সালে শুভমান গিলের পর এই পজিশনে ভারতের হয়ে টেস্ট সেঞ্চুরি এল তাঁর ব্যাট থেকে। সাই সুদর্শন চোটের কারণে সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ায় সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন। সিরিজ শুরুর আগেও ছন্দে ছিলেন। কলম্বোয় শ্রীলঙ্কা একাদশের বিরুদ্ধে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। গত আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সি গায়ে তাঁর পারফরম্যান্সও নির্বাচকদের নজর কেড়েছিল।
গলের পিচে প্রথম দিন ব্যাট করা তুলনামূলক সহজ হলেও মাঝেমধ্যেই বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল বৃষ্টি। কিন্তু কোনও কিছুই দেবদত্তকে বিচলিত করতে পারেনি। পেস হোক বা স্পিন, কোনও কিছুই তাঁকে টলাতে পারেনি। নিখুঁত ইনিংস খেলেছেন। চা পানের বিরতির পর ৭৭ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন রাহুল। তার পরেই আসে মাহেন্দ্রক্ষণ। দেবদত্তের অনবদ্য সেঞ্চুরির পর কোচ উচ্ছ্বসিত গৌতম গম্ভীরকেও দেখা যায়। সাই সুদর্শনকে দীর্ঘদিন তিন নম্বরে সুযোগ দেওয়া হলেও ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। যদিও শ্রীলঙ্কা সফরের আগে ভারত 'এ'-র হয়ে জুন-জুলাইয়ে দু'টি সেঞ্চুরি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত পায়ের আঙুলের চোটে সিরিজ থেকেই ছিটকে যেতে হয় তাঁকে।
সেই শূন্যস্থান পূরণ করলেন আরেক বাঁহাতি– দেবদত্ত পাড়িক্কল। গলের মাটিতে প্রথম দিনেই বুঝিয়ে দিলেন, সুযোগ এলে তা কাজে লাগানোর ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। দিনের শেষে তিনি অপরাজিত ১৩১ রানে। তাঁর ইনিংস সাজানো ১২টি চার, ১টি ছক্কা দিয়ে। কেবল সেঞ্চুরি করাই নয়, একবিংশ শতাব্দীতে তিনে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় বাঁহাতি ব্যাটার হিসাবে রেকর্ডবুকে নাম তুলে নিলেন পাড়িক্কল। এই নজির আগে ছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। ২০০২ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিনে নেমে ১৩৬ রান করেছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক।
দেবদত্তের সঙ্গে ২৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন ঋষভ পন্থ। অধিনায়ক গিল (১৬) রান না পেলেও বিরাট কোনও 'অঘটন' না ঘটলে নিশ্চিত ভাবেই বড় রানের পথে এগোচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। তবে দিনের শেষে রাহুলের চোট নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তায় থাকবে ভারত। ১৬২ বলে ৭৭ রানে পৌঁছনো রাহুল চা-বিরতির পর বেশিক্ষণ ব্যাট করতে পারলেন না। পায়ের পেশিতে টান ধরায় অস্বস্তিতে পড়েন তিনি। মাঠে ছুটে আসেন ফিজিও। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রাহুলকে।
