জিম্বাবোয়ে: ১২৫/৭ (ওয়েসলি ৩৯, তাদিওয়ানাশে ২৭*, ময়ঙ্ক ১৮/২, প্রিন্স ১৯/২)
ভারত: ১২৬/৩ (বৈভব ৫০, ঈশান ৩৫, মুজারাবানি ২৬/২, এনগারভা ৩০/১)
৭ উইকেটে জয়ী ভারত।
আয়ারল্যান্ডে হোয়াইটওয়াশ। ইংল্যান্ডেও লজ্জার হার। পরাজয়ে জর্জরিত টিম ইন্ডিয়ার প্রতিপক্ষ এবার তুলনায় কমজোরি জিম্বাবোয়ে (India vs Zimbabwe)। দেখার ছিল, শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে প্রথম জয় পায় কি না ভারত। হারারের সেই দ্বৈরথে হেসেখেলে জিতল 'মেন ইন ব্লু'। নেপথ্যে আঁটসাঁট বোলিং। ২১ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২২ গজে আগুন ছোটালেন ময়ঙ্ক যাদব। জিম্বাবোয়ে ৭ উইকেটে ১২৫ রানের বেশি তুলতে পারল না। জবাবের প্রত্যাবর্তন ঘটানো বৈভব সূর্যবংশীও (Vaibhav Sooryavanshi) ঝড় তুলল। ফলে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয় পেতে অসুবিধা হল না ভারতের।
শ্রেয়স আইয়ার আগেই জানিয়েছিলেন, অতীতের কথা না ভেবে তাঁরা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলবে। অধিনায়কের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখলেন ভারতের তরুণ বোলাররা। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতীয় পেস আক্রমণ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করল। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স। তাঁর ভরসার প্রতিদান দেন তরুণ বোলাররা। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলে ফিরলেন ময়ঙ্ক যাদব। একই সঙ্গে অভিষেক হল আইপিএলে গুজরাত টাইটান্সের হয়ে ভালো খেলা তরুণ পেসার অশোক শর্মার। আরেক পেসার প্রিন্স যাদব। সব মিলিয়ে ভারতের বোলিং আক্রমণে ছিল একঝাঁক তরুণ মুখ। দলে ফিরেছেন রিঙ্কু সিংও।
প্রথম ওভার করতে এলেন ময়ঙ্ক। ২১ মাস পর জাতীয় দলের জার্সিতে নেমে প্রথম বলেই ঘণ্টায় ১৪৯ কিলোমিটার গতিতে বল করে ওপেনার বেনেটকে সাজঘরের রাস্তা দেখান। শুধু গতি নয়, তাঁর বোলিংয়ে ছিল অসাধারণ নিয়ন্ত্রণও। অন্য প্রান্ত থেকে প্রিন্স যাদবও দুর্দান্ত বোলিং করেন। আরেক ওপেনার বেন কারানকে ফেরালেন। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে জিম্বাবোয়ে। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা মাত্র ৬ রান করে শিবম দুবের শিকার হন। শেষদিকে নিচের সারির ব্যাটাররা কিছুটা লড়াই করায় জিম্বাবোয়ে কোনওমতে ১০০-র গণ্ডি পার করে।
১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মেজাজে ছিলেন প্রত্যাবর্তন ঘটানো বৈভব। বৈভবকে নির্ভয়ে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন টিম ইন্ডিয়ার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। তাঁর মতে, ব্যর্থতার চিন্তা মাথায় আনলে খেলোয়াড় নিজের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলবে। সেই সময় শুধু টিকে থাকার চেষ্টা করবে। যা সেরাটা বের করে আনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মনে রাখতে হবে হারারের এই মাঠ বৈভবের কাছে বিশেষ। এখানেই চার মাস আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছিল সে। এই মাঠেই ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে ম্যাচ জিতিয়েছিল বাঁহাতি তারকা। বৃহস্পতিবারও বৈভব-ঝড় দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। ১৮ বলে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি হাঁকাল ১৫ বছরের বিস্ময় কিশোর। তবে ব্যক্তিগত মাইলস্টোন পূর্ণ করার পর রিচার্ড এনগারভার বলে অফসাইডে সরে গিয়ে মারতে গিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
বৈভবের আগে অবশ্য ফিরে গিয়েছেন অভিষেক শর্মা। ৮ বলে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১। ব্লেজিং মুজারাবানির বলে তিনি ফিরলেন। প্রথম উইকেটের পতনের পর বৈভবকে দমানো যায়নি। তার ইনিংসে ছিল চারটে চার, চারটে ছক্কা। জিম্বাবোয়ের বোলারদের পাড়ার বোলারে পরিণত করে ভারতকে চালকের আসনে বসিয়ে দেওয়ার কাণ্ডারি সে-ই। বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পাশাপাশি সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটার হিসাবে হাফসেঞ্চুরির নজিরও গড়েছে বৈভব। মাত্র ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে দেশের জার্সি গায়ে ইতিহাস লিখলেন বাঁহাতি তারকা।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল জিব্রাল্টারের লুইস ব্রুসের দখলে। তিনি ২০২১ সালে মাল্টার বিপক্ষে ১৬ বছর ৫৬ দিন বয়সে প্রথম টি-টোয়েন্টি হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই রেকর্ড এখন বৈভবের নামে। শুধু বিশ্বরেকর্ডই নয়, পূর্ণ সদস্য দেশের ব্যাটারদের মধ্যেও সবচেয়ে কম বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অর্ধশতকের নজির গড়েছে ভারতের এই বিস্ময় কিশোর। এর আগে এই নজির ছিল আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজের। ২০১৯ সালে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষেই ১৭ বছর ২৯৬ দিন বয়সে প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি করেছিলেন। বৈভবের পাশাপাশি এই ম্যাচে রান পেয়েছেন ঈশান কিষান। টিম ইন্ডিয়ার উইকেটরক্ষক করেন ২৪ বলে ৩৫। ২৮ রানে অপরাজিত থেকে মাত্র ১৩.২ ওভারে ভারতকে জয়ের সরণিতে পৌঁছে দেন শ্রেয়স আইয়ার।
