স্টাফ রিপোর্টার : সপ্তাহভর প্যাচপ্যাচে গরম। চাতকের মতো চেয়ে ছিল আমজনতা। শনিবারের বিকেলে মাথায় তিন ফোঁটা পড়তেই ‘হুররে’ বলে চিৎকার করে উঠল একদল। আবহাওয়া দপ্তরও জানিয়ে দিল, ভিজতে পারে উইকএন্ড। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ সহ ঝাড়খণ্ডের উপর অবস্থান করছে ঘূর্ণাবর্ত। অন্যদিকে রাজস্থান থেকে ঝাড়খন্ডের উপর আড়াআড়ি ভাবে রয়েছে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এই দুই জোড়া ফলার জেরেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে আজ রবিবারও। ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও।
[সার্জেন্টের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে লালবাজারে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ধরনা যুবতীর]
শনিবার বিকেলেই একপশলা বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। কোথাও টুপটাপ তো কোথাও ঝিরঝিরি। সঙ্গে ছিল ঝোড়ো হাওয়া। দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বয়ে গিয়েছে। এরমধ্যেই রবিবার শহরে আইপিএল-এর হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। টিকিট কিনে এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে আমজনতা। “কালবৈশাখী হলে ম্যাচটা হবে তো?” এই উদ্বেগ ঘুরঘুর করছে অনেকেরই মাথায়। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এমন গোটা চারেক ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলেই এপ্রিলের গুমোট কাটবে। কমবে গ্রীষ্মের দাবদাহ। শনিবার উত্তরবঙ্গ-সহ পশ্চিমের জেলাগুলিতে বৃষ্টি হয়। সঙ্গে ছিল ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। সপ্তাহান্তে কলকাতা-সহ আশপাশের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস জানিয়েছেন, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। যার জেরে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে পরিমণ্ডলে। দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কালবৈশাখীর জন্ম হয় মূলত ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহারের মালভূমি এলাকায়৷ এসব জায়গায় একাধিক মেঘপুঞ্জ তৈরি হওয়ার পর যদি কখনও একসঙ্গে মিলে যায়, তখনই কালবৈশাখীর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আর ঝাড়খণ্ডের উপর ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করায় সেটি মালভূমির গরম হাওয়া জলীয় বাষ্পের মিশ্রণকে উপরে তুলে কালবৈশাখীর পরিস্থিতিকে আরও জোরালো করেছে। তবে উত্তরবঙ্গে এত বৃষ্টি কেন? কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের উপ মহানির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঝাড়খণ্ডের উপর তৈরি বজ্রগর্ভ মেঘমালা উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে সেখানে বৃষ্টি ঘটাচ্ছে।
চলতি বছর মার্চ মাস ‘শুকনো’-ই থেকেছে। কিন্তু এপ্রিলের শুরুর দিনই ঝড়-জলের মুখ দেখেছে কলকাতা-সহ দক্ষিণের জেলাগুলি। গত বছর এমনটা ছিল না। সে বছর মার্চে শহর বৃষ্টি পেয়েছিল ১৩৮.৯ মিলিমিটার। যা ছিল দশ বছরের রেকর্ড! এবছর বৃষ্টি না হওয়ায় মাঝ মার্চে শহরের তাপমাত্রা বেড়েছিল চড়চড়িয়ে। চলতি মার্চে শহরে তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ৩৮ ডিগ্রি। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতেই কালবৈশাখীর ধাক্কায় শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দুই-ই নেমে আসে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯-এর ঘরে নেমে ভেঙে দেয় দশ বছরের পুরনো রেকর্ড। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে দু’ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
[পারফিউম বিক্রির ছদ্মবেশে ‘বান্টি-বাবলি’র ডাকাতি, সোনারপুরে শোরগোল]
The post সপ্তাহান্তে বৃষ্টির আমেজ শহরে, চিন্তার ভাঁজ ক্রিকেটপ্রেমীদের কপালে appeared first on Sangbad Pratidin.
