বয়স মাত্র ১৫ বছর। ভারতের ক্রিকেটভক্তদের নয়নমণি। আইপিএলের মঞ্চ ছাড়িয়ে ভারতের জার্সি গায়ে চাপিয়ে ফেলেছে। বৈভব সূর্যবংশী এই বয়সেই তারকা। প্রচুর ভক্ত। প্রচারের আলো সবসময়। তার সঙ্গে অনেক বিজ্ঞাপন। এখন দিনেই প্রায় ১.৫ কোটি ২ টাকা আয়। কিন্তু ঝুঁকিও কি থাকছে না? যতই হোক বয়স তো মাত্র ১৫। এত টাকা-প্রচার-জনপ্রিয়তার মধ্যে কি 'ব্র্যান্ড' বৈভবের আড়ালে থাকা কিশোরের ক্ষতি হচ্ছে?
১৪ বছর বয়সে প্রথম আইপিএলে সুযোগ পায়। ১.১ কোটি টাকা দিয়ে কিনে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। তারপর চার-ছক্কার বন্যা, সেঞ্চুরি। এবার আইপিএলের সেরা ক্রিকেটার। এখনও ভোট দিতে পারে না, গাড়ি উপহার পেলেও চালানোর যোগ্যতা নেই। বিহারের কিশোর আইপিএলের জন্য মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত দেয়নি। তাতে কী? একদিনের ব্র্যান্ড শুট তাকে কোটিপতি করে দিতে পারে। এই বয়সে শচীন তেণ্ডুলকরও আর্থিক ও জনপ্রিয়তায় এই জায়গায় পৌঁছননি।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তার 'ব্র্যান্ড' মূল্য আকাশছোঁয়া। একটি অনুষ্ঠানে বা শুটিংয়ে যোগ দিতে দৈনিক ১.৫ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেয়। আগামী দু'বছর এই ফর্ম ধরে রাখলে অঙ্কটা দৈনিক ৩-৪ কোটি টাকায় পৌঁছবে। ব্র্যান্ডগুলো শুধু আজকের বৈভবের উপর রাজি ধরছে না, তারা এখন থেকেই সেই ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে চাইছে। কারণ ১৮ বছরে পৌঁছলে বৈভব আইনি দিক থেকে অনেক স্বাধীনতা পাবে। তখন কার সঙ্গে চুক্তি করবে, কী দর হাঁকবে, তার নিশ্চয়তা নেই।
কিন্তু এই যে বৈভবকে নিয়ে এত মাতামাতি, তাতে ক্রিকেট কেরিয়ারে প্রভাব পড়বে না তো? সেরকমই আশঙ্কা অনেকের। কোটি কোটি টাকার প্রভাবে ভেসে যাবে না তো? সেটা নিয়ে কিন্তু ইতিমধ্যে সাবধান হয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। তার জন্য আলাদা বাণিজ্যিক উপদেষ্টা রয়েছে। তার সঙ্গে ওই সংবাদমাধ্যম আরেকটি প্রশ্নও তুলেছে। হয়তো তার চুক্তির সঙ্গে বোর্ডের স্পনসর আলাদা। সেখানে বিবাদ বাঁধতে পারে। ১৮ বছর হওয়ার পর সে নিজে স্বাধীনতা পাবে। তখন যদি কোনও চুক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তখন আগের সংস্থাগুলো আইনি জট পাকাবে না তো? তাতে ক্রিকেট থেকে মনঃসংযোগ সরে যেতে পারে। ফলে বর্তমান উত্তেজনা ও উন্মাদনার মধ্যে ঝুঁকিও থাকছে বৈভবের জন্য।
