বৃহস্পতিবারই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের জন্য ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা হয়েছে। সেই দলে ঢুকে পড়েছেন বীরেন্দ্র শেহওয়াগ, রাহুল দ্রাবিড়দের মতো কিংবদন্তিদের পুত্ররা। অথচ ভারতের মূল দলে অনবদ্য পারফর্ম করা, আইপিএলের মঞ্চ মাতানো বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীর নাম ওই তালিকায় নেই। সেটা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু কেন ওই দলে নেই বৈভব? নেপথ্যে রয়েছে বিসিসিআইয়ের এক নিয়ম।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ খেলবে ভারতীয় যুব দল। সেই সিরিজে সুযোগ পেয়েছেন বীরেন্দ্র শেহওয়াগের পুত্র আর্যবীর এবং রাহুল দ্রাবিড়ের পুত্র অন্বয়। আর্যবীর বিশেষজ্ঞ ব্যাটার। অন্বয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন আর্যবীর। তাঁর ব্যাটিংয়ে অনেকেই বাবার ছায়া দেখতে শুরু করেছেন। কর্নাটকের ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ কিছু দিন ধরেই পরিচিত নাম অন্বয়। স্কুল ক্রিকেট থেকেই তাঁর প্রতিভার কথা শোনা গিয়েছে। উইকেটের পিছনে যেমন দক্ষতা দেখিয়েছেন, তেমনই ব্যাট হাতেও নজর কেড়েছেন। আর্যবীর এবং অন্বয়ের নাম ওই দলে থাকা নিয়ে কারও মনে প্রশ্ন নেই। কিন্ত বৈভব কেন সুযোগ পেলেন না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।
আসলে বৈভবের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ না পাওয়ার মূল কারণ বিসিসিআইয়ের একটি নিয়ম। ২০১৬ সালে বিসিসিআই একটি নিয়ম করে। বলে দেওয়া হয়, একজন ক্রিকেটার একটিই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন। একের বেশি নয়। বৈভব ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছে। তাই তাঁকে আর পরবর্তী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভাবা হবে না। মূলত বেশি বেশি তরুণ প্রতিভাকে সুযোগ দেওয়া যায়, সেটা নিশ্চিত করতেই ওই নিয়ম করা হয়। অতীতে ওয়াশিংটন সুন্দর-সহ একাধিক ক্রিকেটার এই একই কারণে একাধিক বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাননি।
যেহেতু বৈভবকে আর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলানো হবে না, তাই তাঁকে ওই দলের জন্যও ভাবা হচ্ছে না। অবশ্য বৈভব এখন জাতীয় টি-২০ দলের নিয়মিত সদস্য। সদ্যই আয়ারল্যান্ড এবং জিম্বাবোয়ে সিরিজে খেলে এসেছেন। এরপর এশিয়ান গেমসের দলেও তাঁর নাম রয়েছে। ফলে এমনিও তাঁকে হয়তো অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ভাবা হত না। তবে জাতীয় দলে খেলাটা কোনওভাবেই তাঁর অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য বাধা নয়।
