‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’। সেই বিষবৃক্ষ। যা ভারতের গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ও সার্বভৌমত্ব চূর্ণ করতে চায়। মাওয়ের মানসপ্রকল্প ‘কালাচারাল রেভোলিউশন’ দ্বারা চালিত কালচারাল মার্কসবাদীগণের বক্তব্যও এক– ‘ডেস্ট্রয় দ্য ওল্ড ওয়ার্ল্ড: ফোর্জ দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড’। কিন্তু সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে কি এ দেশের নিজস্ব কৃষ্টিকে হত্যা করা যায়! লিখছেন, জিষ্ণু বসু।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির বিভিন্ন ধারার নবীন প্রজন্মের অনেক নেতৃস্থানীয় ছেলেমেয়ের সঙ্গে আমার সহজ বন্ধুত্ব আছে। কয়েকজন উচ্চশিক্ষিত, অত্যন্ত ভদ্র, রুচিশীল, আর আপন স্বার্থের বাইরের সমাজের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য ভাবেন। এমনই একটি ছেলে, যিনি সেই সংগঠনের ছাত্র শাখার সর্বভারতীয় স্তরের দায়িত্ব ছিলেন, বললেন, ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’-এর সমর্থক বলে যাঁরা দাবি করেন, তাঁরাও নাকি এটি কী ‘বস্তু’– সঠিকভাবে জানেন না।
লেখাপড়ার সূত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তিন দশকের বেশি সম্পর্ক। অতি বামপন্থী শিক্ষক ও বন্ধুদের কাছে অনেক সোজাসাপটা প্রশ্নের উত্তর পাইনি। তাঁরাও উচ্চশিক্ষিত, তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন। কিন্তু প্রশ্নগুলি তাঁদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তবে উত্তর আসেনি। অনেক পরে বুঝেছি– সেই মানুষটিও ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’-কে সঠিকভাবে চিনে উঠতে পারেননি। কয়েকটি বিন্দুকে বিচ্ছিন্নভাবে না-দেখে যদি জুড়ে দেওয়া যায়, তবে অনেক সময় একটা অবয়ব ফুটে ওঠে। ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’-এর চেহারা ভারতের জনমানসে স্পষ্ট হওয়া একান্ত জরুরি। তার আপাতদুর্ভেদ্য যুক্তিজালের কতগুলি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য আছে। ভারত, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যময়। এই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর স্বার্থে এটি যে কত বড় চ্যালেঞ্জ, তা বোঝাটা এখনকার পরিস্থিতিতে খুব জরুরি।
১৯৭০ সালের ৩০ ডিসেম্বর। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন হলেন উপাচার্য অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেন। শেষ পর্যন্ত এই দেবদুর্লভ ছাত্রদরদি মানুষটির নির্দয় হত্যাকারী, ও পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কেউই শাস্তি পায়নি। হত্যাকারীর ধনী ডাক্তার পিতা কোন প্রভাব খাটিয়ে ছেলেকে কানাডায় পাঠিয়েছিলেন, সে এক অজ্ঞাত রহস্য। তারপর সারা জীবন আয়েশ করে কাটিয়েছে অধ্যাপক সেনের হত্যাকারী। এই সাংঘাতিক নৃশংস ঘটনাটিকে একদল তথাকথিত শিক্ষিত মানুষ সযত্নে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছেন। এই ‘কনস্পিরেসি অফ সাইলেন্স’ বা নৈঃশব্দ্য ও আড়ালের ষড়যন্ত্র– ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের ‘বাস্তুতন্ত্র’-র অন্যতম সাফল্য। এখনও দশজন শিক্ষিত মানুষকে প্রশ্ন করলে, ন’জনই হয়তো অধ্যাপক সেনের আত্মত্যাগের বিষয়ে বিশেষ কিছু বলতে পারবেন না।
২০২০ সালে ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’-এর সহিংস বিরোধিতার সময়, বা ২০২১ সালে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার দিনগুলিতে ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’-এর ভূমিকা স্পষ্টতর। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘রেজিস্ট, রিজেক্ট অ্যান্ড রেবেল’ (Resist, Reject and Rebel)–এই তিনটি অস্ত্র যেমন রাস্তায় আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ, তেমনই কালচারাল মার্কসবাদীরা এহেন ত্রিশক্তিকে মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও ব্যবহার করেছেন।
১৯৭০ সালে চিনে চেয়ারম্যান মাও-য়ের নেতৃত্বে পুরোদমে চলছে ‘কালচারাল রেভোলিউশন’। সেই বিখ্যাত পোস্টার, হাতুড়ি হাতে রেড গার্ড, তার পায়ের নিচে থেঁতলে যাচ্ছেন বুদ্ধদেব, যিশু খ্রিস্ট, গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পরম্পরাগত সব উত্তরাধিকার। পোস্টারের ক্যাপশনে লেখা– ‘ডেস্ট্রয় দ্য ওল্ড ওয়ার্ল্ড: ফোর্জ দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড’। অর্থাৎ পুরনো পৃথিবী ধ্বংস করো, নতুন পৃথিবী গড়ো। যদিও এখনকার বিশ্বজুড়ে গবেষণায় উঠে এসেছে সেই সাংস্কৃতিক বিপ্লবে হত্যার ব্যাপকতা। চেয়ারম্যান প্রায় ২ কোটি মানুষকে হত্যা করেছিলেন। ‘চিনের চেয়ারম্যান’-কে নিজেদের চেয়ারম্যান মনে করা ছেলেটি কেবল একজন অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেনকে মেরেছিল।
তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনের (থুত্থুকোডি) ‘স্টারলাইট কপার স্মেলটিং ফ্যাক্টরি’-তে ২০১৮ সালে পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলনের নামে ভয়ানক বিক্ষোভ করা হয়েছিল পরিকল্পনামাফিক। ১০০ দিন টানা প্রতিরোধ চলে, তারপর পুলিশের গুলিতে ১৩জন মানুষের মৃত্যু হয়। এই সমগ্র চক্রান্তের মূল নায়ক সংমুগম থাঙ্গাসামি ওরফে আর. এস. মুগিলান ২০১৯ সালে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে হঠাৎ উধাও হয়ে যান। অনেক পরে তামিলনাড়ু পুলিশ তাঁকে ঝাড়খণ্ডের এক প্রত্যন্ত বনগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে। দেশের অন্যতম নামকরা ‘কালচারাল মার্কসবাদ’ নিয়ন্ত্রিত পোর্টালে যে ভিডিও স্টোরি এখনও লভ্য।
আর. এস. মুগিলানের সেই সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবেশিত পরিবেশের তথ্যগুলিই হুবহু আছে বলে অভিযোগ। কিন্তু মুগিলানকে সামনে রেখে দেশজোড়া বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কথা বলা নেই, আর, বেদান্ত লিমিটেডের তামার কারখানা বন্ধ হওয়ার পরে থুত্থুকোডির ১০ হাজার কর্মহীন পরিবারের উল্লেখও নেই। এমনই আন্দোলন ভারতে বিভিন্ন স্থানে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করার সময় করা হয়েছে, যদুগোড়া ইউরেনিয়াম খনি বন্ধের দাবিতে করা হয়েছে। মজার তথ্য, পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে কমিউনিস্ট চিন পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থানে। অথচ সে বিষয়ে এই ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’-এর বাস্তুতন্ত্র একটি
কথাও বলে না।
বাংলাদেশের আন্দোলনের সময় ছাত্রদের কীভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তি মদত দিচ্ছিল, ভারতবিরোধী বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন কতরকম রসদ জোগান দিচ্ছিল, তা বোঝার জন্য খুব গভীর গবেষণার প্রয়োজন ছিল না।
২০২৩ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যা করে বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপ্নদীপ। মফস্সলের গরিব ঘরের ছাত্র স্বপ্নদীপ বহুতল হোস্টেল থেকে ঝাঁপ দিয়ে পড়ার সময় চিৎকার করে বলেছিল যে, সে সমকামী নয়। স্বপ্নদীপের স্কুল স্তরে ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’, ‘এলজিবিটিকিউআইপ্লাস’ এখনও গভীর ভাবে পৌঁছাতে পারেনি। কিন্তু কলকাতার তারকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এর মার্কেটিং চলেছে জোরকদমে। বর্ণালি মিছিল হয়েছে, ২০১৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ত্রিকোণ পার্ক পর্যন্ত স্লাট ওয়াক হয়েছে, স্যানিটরি ন্যাপকিন দিয়ে পোস্টার তৈরি হয়েছে, লিঙ্গনিরপেক্ষ শৌচালয় তৈরি করতে বাধ্য করা হয়েছে। এবং দুষ্টু ছাত্ররা বুঝেছে ‘এলজিবিটিকিউআই’ অস্ত্র ব্যবহার করে নবাগত ছাত্রকে র্যাগিং করলেও কেউ কিছু বলার সাহস করবে না। ছত্রিশগড়-ওড়িশা সীমান্তে মালকানগিরি জেলায় পূর্ববঙ্গ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের বহু দিন থেকে রাখা হয়েছে। কংগ্রেস সরকার কিছুটা আকস্মিক উদ্বাস্তুর চাপে বিভ্রান্ত হয়ে, কখনও-বা নিতান্ত উপেক্ষার জন্য তফসিলি উপজাতির জন্য সংবিধান বর্ণিত পঞ্চম অনুচ্ছেদভুক্ত জমিতে ওই সর্বস্বান্ত মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করে। তাই এখনও ওসব বাঙালি উদ্বাস্তু জমির দলিল, পাট্টা বা কোনও সরকারি বণ্টন দলিল দেওয়া সম্ভব হয়নি।
নকশাল-মুক্ত ভারত অভিযানের প্রভাবে মালকানগিরি জেলায় দশকের পর দশক ধরে চলা অতিবামপন্থী গতিবিধি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ওই শক্তিকে শেখানো হয়েছে রাষ্ট্রই প্রধান শত্রু। তাই তারা শিকার রূপে বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের বেছে নিয়েছে। এই বছর ফ্রেব্রুয়ারি মাসে একেবার অতিবিপ্লবী পদ্ধতিতে মালকানগিরি জেলার এমভি ৪৭ ব্লকের কোয়াররাখেলগুড়া গ্রামে বাঙালিদের ৫৬টি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হল। গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেক অপরাধীর অতিবামপন্থী যোগাযোগ আছে বলে অভিযোগ। পার্শ্ববর্তী সবক’টি শহরের আরবান নকশাল বাস্তুতন্ত্র এই ভয়ানক ঘটনাকেই সমর্থন করছে। বর্তমান ভারতে ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’-এর মূল লক্ষ্য দু’টি। এ-দেশের সভ্যতা-সংস্কৃতি থেকে ‘নতুন’ মানুষ তৈরি হোক। আপনার নাতি বা নাতনি শৈশবে স্কুলে গিয়ে দেখবে তার সহপাঠীদের মধ্যে এমন বহু বাচ্চা রয়েছে, যার বাড়িতে কেবল দু’জন মা বা দু’টি বাবা। আর-একটি বিষয়ও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, এই মহাশক্তি আসলে ভারতীয় গণতন্ত্রের বিরোধী। ভারতীয় গণতন্ত্রকে ব্যর্থ করতে গেলে সিপিআই(এম)-এর মতো আদর্শনিষ্ঠ দলের থেকে আঞ্চলিক দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন করা প্রয়োজন! তাই বিগত দশকে ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’ প্রভাবিত বৈদ্যুতিন মাধ্যম, দৈনিক পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগ পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে চোখ বন্ধ করে তাদের সমর্থন দিয়েছে।
২০২০ সালে ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’-এর সহিংস বিরোধিতার সময়, বা ২০২১ সালে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার দিনগুলিতে ‘কালচারাল মার্কসিজ্ম’-এর সে ভূমিকা স্পষ্টতর। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘রেজিস্ট, রিজেক্ট অ্যান্ড রেবেল’ (Resist, Reject and Rebel)– এই তিনটি অস্ত্র যেমন রাস্তায় আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ, তেমনই কালচারাল মার্কসবাদীরা এহেন ত্রিশক্তিকে মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও ব্যবহার করেছেন। সমাজমাধ্যমে কালচারাল মার্কসবাদীরা তিনটি ‘R’– মানে ‘প্রতিরোধ’, ‘বর্জন’ ও ‘বিদ্রোহ’-র সমর্থনে তীব্র জনমত তৈরিতে সদাসক্রিয়। এসব আন্দোলন আপাতভাবে যুবপ্রজন্ম মানে ‘জেন জি’ বা ‘জেন আলফা’ প্রজন্মের নামে চালানো হয় বটে, তবে সেগুলির সুদূরপ্রসারী নীল নকশা ও বাস্তবায়ন সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে ঘটানো হয়, মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয়। সৌজন্যে– ‘কালচারাল মার্কসবাদ’-এর বাস্তুতন্ত্র।
এই বছর ফ্রেব্রুয়ারি মাসে একেবার অতিবিপ্লবী পদ্ধতিতে মালকানগিরি জেলার এমভি ৪৭ ব্লকের কোয়াররাখেলগুড়া গ্রামে বাঙালিদের ৫৬টি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হল। গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেক অপরাধীর অতিবামপন্থী যোগাযোগ আছে বলে অভিযোগ।
বাংলাদেশের আন্দোলনের সময় ছাত্রদের কীভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তি মদত দিচ্ছিল, ভারতবিরোধী বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন কতরকম রসদ জোগান দিচ্ছিল, তা বোঝার জন্য খুব গভীর গবেষণার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ৪ জুন ২০২৪ থেকে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত এই বাস্তুতন্ত্র একতরফা ভূমিকা নিয়েছিল। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-কে ‘জেন জি আপরাইজ’ বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এরও মাথায় বসে আছে সেই একই চালিকাশক্তি। অভিজিৎ দীপকে মিলিয়েনিয়াল, এখনকার ভারতের ‘জেন জি’ বা ‘জেন আলফা’-র দুঃখ-যন্ত্রণা বোঝার আগ্রহ বা ক্ষমতা কোনওটাই তাঁর নেই। ফলে ‘সিজেপি’-র বিড়াল এক-এক করে ঝুলি থেকে বেরিয়ে এসেছে। ভারতীয় গণতন্ত্র-বিরোধী সবক’টি শক্তি এই নাটকের সক্রিয় কুশীলব। ‘ওকোজিম’-এর পরিচিত সংগঠক সিজেপি-কে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ‘আই অ্যাম আ প্রাউড এলজিবিটি মাদার’ টি-শার্ট পরিহিতা মহিলা যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে। গোপালচন্দ্র সেন থেকে স্বপ্নদীপের দেহের উপর লাল কালিতে আরশোলায় আঁকাবাঁকা পায়ে স্পষ্ট লেখা: ‘ডেস্ট্রয় দ্য ওল্ড ওয়ার্ল্ড: ফোর্জ দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড’। কিন্তু সত্যিই কোন ‘পুরনো’ পৃথিবী ধ্বংস করে কোন ‘নতুন’ পৃথিবী গড়া হবে?
