shono
Advertisement
BRICS

একমঞ্চে মোদি, জিনপিং, পুতিন! ট্রাম্পের 'স্বেচ্ছাচারিতা' খর্ব করবে ব্রিকস?

আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলির জোটের বিপ্রতীপে সবচেয়ে শক্তিশালী মঞ্চ হয়ে উঠেছে ব্রিকস।
Published By: Biswadip DeyPosted: 01:19 PM Sep 12, 2026Updated: 01:19 PM Sep 12, 2026

নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের আয়োজন ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারিতা খর্ব করতে পারে। মোদি, জিনপিং, পুতিনের 'এক' হওয়া অবশ্যই একটি 'ঘটনা'।

Advertisement

'ব্রিক্স' দেশভুক্ত দেশগুলির ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন আবার নয়াদিল্লিতে। একইসঙ্গে হাজির রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা-সহ ২৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিশ্বে এখন যে-দু'টি প্রধান যুদ্ধ চলছে তার দুই কুশীলব পুতিন ও পেজেস্কিয়ান উপস্থিত দিল্লিতে। সাত বছর পর ফের ভারতে জিনপিং। এই তিন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক যাবতীয় কৌতূহলের কেন্দ্রে।

ব্রিকস হল আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলির জোটের বিপ্রতীপে সবচেয়ে শক্তিশালী মঞ্চ। উন্নয়নশীল ও উদীয়মান দেশগুলির তথা 'গ্লোবাল সাউথ'-এর নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার বিষয়ে ভারতের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা তা পূরণের লক্ষ্যে এবং আমেরিকা ও উন্নত বিশ্বের দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করেও রাশিয়া, চিন ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে ব্রিকস বড় সুযোগ এনেছে ভারতের কাছে।

বিশ্বে এখন যে-দু'টি প্রধান যুদ্ধ চলছে তার দুই কুশীলব পুতিন ও পেজেস্কিয়ান উপস্থিত দিল্লিতে। সাত বছর পর ফের ভারতে জিনপিং। এই তিন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক যাবতীয় কৌতূহলের কেন্দ্রে।

এবারের অ্যাজেন্ডায় রয়েছে খাদ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ করার মতো বিশ্বের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি। এছাড়াও ডলারকে সরিয়ে রেখে স্থানীয় মুদ্রায় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়টিও। ফলে, ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনের সাফল্য নিঃসন্দেহে ভারতকে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর নেতার আসনে বসাতে পারে।

তবে ভিন্নমতও রয়েছে। তা বলছে, এর আগে দিল্লিতে ব্রিকসের আসর বসলেও তা ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ। ভারতকে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর নেতৃত্বে তো বসাতে পারেইনি, দেশের অন্যান্য কূটনৈতিক লক্ষ্যপূরণেও বিফল। চিন ও রাশিয়া ভারতের সহযোগী হলেও এত দিনেও এই তার সমর্থন নিয়ে ভারত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পদ লাভকরেনি। 'গ্লোবাল সাউথ'-এর নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পদ পাওয়া জরুরি। ব্রিকসের নেতা রূপে ভারত তার সহযোগী দেশগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়াতেও পারেনি। চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে একটি ব্যণিজ্যিক সম্পর্ক ভারতের রয়েছে। সেখানে ব্রিকস থাকা না থাকা তত গুরুত্বপূর্ণ নয়।

অ্যাজেন্ডায় রয়েছে খাদ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ করার মতো বিশ্বের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি। এছাড়াও ডলারকে সরিয়ে রেখে স্থানীয় মুদ্রায় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়টিও।

ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলির উপর অধিক নির্ভরশীল। অনেকের মতে, ব্রিকসের মতো কোনও জোটকে গুরুত্ব না দিয়ে ভারত আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ালে বেশি লাভবান হবে।
তবে এসব যুক্তি যতই প্রখর হোক, ব্রিকসের মতো জোট বিশ্ব ব্যবস্থায় বহুপাক্ষিকতা এনে আপাতত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারিতা খর্বে কার্যকর হতে পারে। মোদি, জিনপিং, পুতিন, পেজেস্কিয়ানের এই মুহূর্তে দিল্লিতে 'এক' হওয়া অবশ্যই একটি 'ঘটনা'।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement