ফেলুদা, ব্যোমকেশের পর আবির চট্টোপাধ্যায় এবার ‘সুবর্ণ সেন’। টলিউডে আরও এক গোয়েন্দার আবির্ভাব। নতুন অ্যাডভেঞ্চার শুরু আগামী এপ্রিলে। লিখছেন সোমনাথ লাহা।
ফেলুদা-ব্যোমকেশ-কিরীটী-শবর-এর পর এবার বড়পর্দায় আবির্ভাব ঘটতে চলেছে আরও এক গোয়েন্দার। তিনি হলেন সুবর্ণ সেন। পেশায় অক্সফোর্ডের ইতিহাসের অধ্যাপক। যিনি পরিচিত সোনাদা নামে। এহেন সোনাদা এবার তার দুই সহকারী আবির ও ঝিনুকের সঙ্গে বেরবেন গুপ্তধনের অনুসন্ধানে। আর বড় পর্দায় সোনাদার এহেন অ্যাডভেঞ্চারের সাক্ষী থাকবেন দর্শকরা।
প্রসঙ্গত, এই প্রথমবার বইয়ের পাতা থেকে নয়, সরাসরি কোনও গোয়েন্দার পদার্পণ হতে চলেছে সেলুলয়েডে। এখানেই শেষ নয়। সূত্রের খবর, ফেলুদা-ব্যোমকেশ-কিরীটী-শবর-এর মতোই সোনাদাকে ঘিরেও তৈরি হতে চলেছে ফ্র্যানচাইজি। আর এই সোনাদা ফ্র্যানচাইজিরই প্রথম ছবি ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’। পরিচালনায় ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়। এটিই তাঁর প্রথম ছবি। প্রযোজনায় এসভিএফ (শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মস)। নিবেদনের দায়িত্বে রয়েছেন শ্রীকান্ত মোহতা ও মহেন্দ্র সোনি। তবে চমক রয়েছে অন্য জায়গায়। এসভিএফ-র পাশাপাশি এই ছবির অন্যতম প্রেজেন্টার পরিচালক অরিন্দম শীল।
[এবার কি বলিউড হার্টথ্রব রণবীর সিংয়ের নায়িকা ‘ভাইরাল’ প্রিয়া?]
ছবিতে সোনাদার চরিত্রে রয়েছেন আবির চট্টোপাধ্যায়। ব্যোমকেশ, ফেলুদার পর এবার প্রোফেসর সুবর্ণ সেন ওরফে সোনাদার ভূমিকার বড় পর্দায় আগমন ঘটছে আবিরের। সোনাদার অন্যতম দুই সহকারীর চরিত্রে অর্থাৎ আবির ও ঝিনুকের ভূমিকায় দেখা যাবে অর্জুন চক্রবর্তী (সব্যসাচী চক্রবর্তীর ছোট পুত্র) এবং ‘প্রজাপতি বিস্কুট’ খ্যাত অভিনেত্রী ঈশা সাহাকে। এ ছাড়াও ছবিতে তিনটি বিশেষ চরিত্রে রয়েছেন অরিন্দম শীল, গৌতম ঘোষ ও কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। বিশেষ চরিত্রে দেখা যাবে রজতাভ দত্তকে।
প্রসঙ্গত বড়পর্দায় প্রথমবার পরিচালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটতে চলা ধ্রুব দীর্ঘ সময় মুম্বইতে কাজ করেছেন রিলায়েন্স এন্টারটেনমেন্টের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসাবে। ছোটদের অতি প্রিয় ‘শক্তিমান’-র অ্যানিমেশন ভাবনা তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। ২০০৭-এ শুভেন্দু দাশমুন্সির সঙ্গে যৌথভাবে ধ্রুব লিখেছিলেন ‘লাল পাহাড়ের কথা’ ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্য। এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা ভাল যে, শুভেন্দু পেশাগত দিক থেকে বসিরহাট-কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক। এছাড়া বহু বিজ্ঞাপনী ছবি তৈরি করেছেন ধ্রুব নিজে। ছবির সিনেমাটোগ্রাফার সৌমিক হালদার, সংগীত পরিচালনায় বিক্রম ঘোষ। সম্পাদনায় সঞ্জীব দত্ত। শিল্পনির্দেশক তন্ময় চক্রবর্তী। কলকাতা ছাড়াও ছবির শুটিং হয়েছে বোলপুরে।
[ছেলের নাম তৈমুর দিয়েছিলেন করিনা-ই, কেন জানেন?]
নিজের ছবি প্রসঙ্গে পরিচালক ধ্রুব জানান, “আমি প্রায়শই ভাবতাম যে ফেলুদা-ব্যোমকেশ-কিরীটী-র মতো আইকনিক চরিত্রের স্রষ্টারা আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। তাই সেই গল্পগুলি তো আর লেখা হবে না। তাহলে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা নতুন গল্প কীভাবে পাবে? সেই জায়গা থেকেই সুবর্ণ সেন ওরফে সোনাদার চরিত্রটা মাথায় আসে। যার সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারে বেরতে পারবে বাঙালি। তবে কী ধরনের গুপ্তধনের সন্ধানে সোনাদা রওনা দেবে সেটা পর্দায় দেখতে হবে।”
ফ্র্যানচাইজি প্রসঙ্গে ধ্রুবর অভিমত “কাহিনি, চিত্রনাট্য শোনার পরেই শ্রীকান্তদা বলেন, আমি তিনটি ছবি ভাবছি কিনা। আমি কিছু বলার আগেই উনি বুঝতে পেরেছিলেন যে আমি নতুন ফ্র্যানচাইজির কথা ভাবছি।” তবে অরিন্দম শীল, গৌতম ঘোষ, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় প্রসঙ্গে ধ্রুবর মত, “এঁরা তিনজনে ভাল পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি দারুণ অভিনেতাও। আমি কৃতজ্ঞ যে ওঁরা আমার অনুরোধ মেনে এই ছবিতে কাজ করছেন।”
ছবিতে সোনাদা চরিত্রে আবির প্রসঙ্গে ধ্রুবর মন্তব্য, “সোনাদা চরিত্রটা আবিরের সঙ্গে একদম মানানসই। লুক টেস্টের পরে ওঁকে দেখে আমি চমকে গিয়েছিলাম। তবে আবির ছাড়াও ঈশা ও অর্জুনের লুকও দর্শকদের চমকে দেবে।”
তবে ছোটদের কথা মাথায় রেখে এই ছবি তৈরি করা। ধ্রুব জানান, “ছবিতে অশ্লীল সংলাপ, মদ, সিগারেট থাকবে না। যাতে বাচ্চারা আনন্দ করে ছবিটা দেখতে পারে।” ভবিষ্যতে বইয়ের পাতাতেও সোনাদাকে নিয়ে আসার ইচ্ছে রয়েছে পরিচালকের। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২৭ এপ্রিল মুক্তি পাবে ‘গুপ্তধনের সন্ধানে’।
The post টলিউডে আরও এক গোয়েন্দার আবির্ভাব, এবার গুপ্তধনের খোঁজে সোনাদা appeared first on Sangbad Pratidin.
