কিংবদন্তি অভিনেতা দেব আনন্দের ছেলে সুনীল আনন্দের প্রয়াণের শোকস্তব্ধ সিনেমহল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শিল্পমহলে শোকের ছায়া। সঙ্গীতমহলে নক্ষত্রপতন। জীবনাবসান বিষ্ণুপুর ঘরানার কিংবদন্তি ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী এবং গবেষক পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল একশো বছর।
শহরের এক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবাদপ্রতীম এই শতায়ু সঙ্গীতশিল্পী। দিন কয়েক আগে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায়। অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ধরা পড়লে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
গত ৮ জুলাই হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয় কিংবদন্তি ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী এবং গবেষক পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেসময় চিকিৎসায় বেশ ভালোই সাড়া দিয়েছিলেন। পাঁচ দিন আগে দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে ফিরে আসার পর ফের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।
কিন্তু, জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন শতায়ু শিল্পী পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর বাবাকে পুনরায় মঞ্চে দেখার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন তাঁর পুত্র। যুদ্ধ জয় করে ফেরার পর সেটাই ছিল পরবর্তী লক্ষ্য। অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগণিত অনুরাগী তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন। আরও একবার তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মোহিত চেয়ে চেয়েছিলেন।
কিন্তু, সেই ইচ্ছে অপূর্ণ রেখেই পরলোক গমন করলেন স্বনামধন্য সঙ্গীতশিল্পী অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধদুপুরে হৃদরোগ কেড়ে নিল শিল্পীর প্রাণ। অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯২৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। কিছুদিন আগেও মঞ্চে পারফর্ম করেছেন। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গীতের তালিম দিয়েছেন। শতবর্ষ পূরণের সেই বিশেষ দিনে মঞ্চে প্রায় চল্লিশ মিনিটের বেহাগ মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনেছিলেন শ্রোতারা।রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ সঙ্গীতের কেরিয়ারে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার।
প্রয়াত পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
বাবা সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিষ্ণুপুর ঘরানায় দীর্ঘদিন তালিম নিয়েছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ঘরানার মিশেলে তাঁর নতুন সৃষ্টি সকলকে মুগ্ধ করেছিল। গুরু পূর্ণিমার দিনই অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন গ্রাস করল অমাবস্যার অন্ধকার!
