সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল দু’জনের৷ পরিচালক এবং অভিনেত্রীর সম্পর্ক৷ তা পেরিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক৷ একসময় বাবা-মেয়ের মতো কাছাকাছি চলে এসেছিলেন দু’জনে৷ তাঁরা মৃণাল সেন এবং মমতা শংকর৷
[শেষ হল ‘অক্লান্ত পদাতিক’-এর পথচলা, শোকের ছায়া চলচ্চিত্র জগতে]
১৯৫৫ সালে জন্মান মমতা শংকর৷ উদয় শংকর এবং অমলা শংকরের মেয়ে বলে কথা, তাই নাচের সঙ্গে তাঁর প্রায় নাড়ির টান রয়েছে বলাই যায়৷ আপাদমস্তক নাচ পাগল এক মেয়ে ভুলেও ভাবেননি অভিনয়ের জগতে পা রাখবেন৷ কিন্তু না, রুপোলি পর্দা থেকে আর দূরে সরে থাকা হল কই? বরং চলে এলেন বিনোদুনিয়ায়৷ সৌজন্যে মৃণাল সেন৷ তাঁর হাত ধরে অভিনয় জগতে অভিষেক মমতা শংকরের৷ প্রত্যন্ত জেলার আদিবাসীদের কাহিনি ‘মৃগয়া’ দিয়ে অভিনয় জগতে পা রাখলেন তিনি৷ মনে ভয় ছিল, এক্কেবারে প্রথম কাজ৷ কিছুই জানা নেই৷ লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন শুনেই কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যেত সবকিছু৷ কিন্তু একজন সদ্য অভিনয় জগতে পা রাখা কিশোরীকে দিয়েও ঠিক কীভাবে সিনেমার প্রয়োজনীয় চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে হয়, তা জানতেন মৃণাল সেন৷ পরিচালকের মৃত্যুর দিন বারবারই মমতা শংকরের মনের কোণে ভেসে উঠছে অভিনয় জীবনের শুরুর দিনগুলির কথা৷ অভিনেত্রীর কথায়, ‘মৃগয়া’ থেকেই পরিচালক-অভিনেত্রীর সম্পর্কটা বদলে যায় শিক্ষক-ছাত্রীর সম্পর্কে৷
[নির্ঝঞ্ঝাট-সমান্তরাল জীবনের বাইরেও একটা ‘ভুবন’ আছে, দেখিয়েছিলেন মৃণাল সেন]
এরপর একের পর এক বছর গড়ায়, ধীরে ধীরে অভিনেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠা পান মমতা শংকর৷ বাড়তে থাকে দু’জনের সম্পর্কের বয়স৷ বিচ্ছেদ নয়, বরং যতদিন এগোতে থাকে সম্পর্কে আরও গভীর হতে শুরু করে৷ তৈরি হয় ব্যক্তিগত সম্পর্ক৷ ভালবেসে অভিনেত্রীকে ‘মম’ বলে ডাকতেন পরিচালক৷ বাধাবন্ধনকে অগ্রাহ্য করে আজ অমৃতলোকের পথে কালজয়ী পরিচালক৷ আর ফিরে পাওয়া যাবে না তাঁকে৷ তবে অসামান্য প্রতিভাশীল মানুষটির সঙ্গে দিনের পর দিন শুটিংয়ের ছোট ছোট স্মৃতিই আজ অভিনেত্রীর কাছে বড্ড দামি৷ চোখের জল মুছতে মুছতে স্মৃতির পাতা ওলটালেন তিনি৷ অভিনেত্রী বলেন, ‘‘একবার শুটিংয়ে টোকিও গিয়েছিলাম৷ মামস হয়েছিল৷ সেই সময় হাজার ব্যস্ততা ছিল কাকুর৷ তাও ঠিক বাবার মতো দুপুরের এবং রাতের খাবারের জোগাড় করেছিলেন৷ ভোলেননি চিরাচরিত অভ্যাসে মম বেঁচে আছে কি না জিজ্ঞাসা করতে৷’’
[ভারতীয় চলচ্চিত্রে যুগাবসান, প্রয়াত পরিচালক মৃণাল সেন]
স্ত্রী গীতা সেনও আপন করে নিয়েছিলেন মমতাকে৷ প্রায় প্রতি রাতেই এগারোটা নাগাদ ফোনে কথা হত পরিচালক-অভিনেত্রীর৷ ফোন ধরেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় পরিচালক প্রিয় ‘মম’-কে বলতেন, ‘‘আমি বেঁচে আছি৷ গীতা ভাল আছে৷’’ নিজের খোঁজখবর জানানোর পর ‘মম’ বেঁচে আছেন কিনা, সেই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে ভুলতেন না ‘ভুবন সোম’৷ নীল আকাশের পথে পাড়ি দিয়েছেন৷ আজকের দিনে অভিনেত্রীর কানে বড়ই বাজছে সেই ‘মম’ ডাক৷ চোখের জল যেন বাঁধ মানছে না তাঁর৷ দ্বিতীয়বার বাবাকে হারানোর মতো যন্ত্রণা অনুভব করছেন ‘মম’৷ এমন সাহসী পরিচালক আর পাওয়া যাবে না হয়তো, শোকের সাগরে ভাসতে ভাসতে একটাই আশঙ্কা অভিনেত্রীর৷
The post ‘দ্বিতীয়বার পিতৃবিয়োগের যন্ত্রণা পাচ্ছি’, মৃণাল সেনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ‘মম’ appeared first on Sangbad Pratidin.
