অস্তমিত যাত্রা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ক্লাসিক অভিনয় ধারার শেষ প্রতিনিধি, কিংবদন্তি যাত্রা অভিনেতা অসীম কুমার আর নেই। ৩১ জুলাই মাঝরাতে বাঙুর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান যাত্রা জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।
পূর্ববঙ্গের ননীক্ষীর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মহান শিল্পী চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মাতিয়ে রেখেছিলেন যাত্রামঞ্চ। ১৯৬৪ সাল থেকে ২০১৪—একটানা দীর্ঘ ৫০ বছর পেশাদার যাত্রায় সক্রিয় ছিলেন অসীম কুমার। ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা 'চূয়া চন্দন' পালায় 'চন্দন' চরিত্রের মাধ্যমে প্রথম তিনি যাত্রামঞ্চে পা রাখেন। শতরূপা নাট্য কোম্পানির সেই শুরু। তারপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
একে একে তিনি আলো ছড়িয়েছেন শ্রীরাধা নাট্য কোম্পানি, শ্রীমা নাট্য কোম্পানি, নাট্য ভারতী, নিউ গণেশ অপেরা, শিল্পী তীর্থ, মোহন অপেরা, নট্ট কোম্পানি, লোকশিল্প, রাজদূত অপেরা এবং সত্যনারায়ণ অপেরার মতো বহু নামী সংস্থায়।
তাঁর ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য কালজয়ী পালা। 'পথের ছেলে', 'সাবিত্রী সত্যবান', 'নিঝুম রাতের কান্না', 'শতাব্দীর স্বপ্ন', 'হাটে বাজারে', 'সাধক বামাখ্যাপা', 'মাদার ইন্ডিয়া', 'গঙ্গা যমুনা', 'বিবি আনন্দময়ী', 'ডাক হরকরা', 'জয় সন্তোষী মা', 'রামের বনবাস', 'নিশিপুরের বৌ', 'শাখা দিয়ে কিনলাম', 'জাত সপেছি কৃষ্ণ পায়ে' থেকে শুরু করে 'আইনের দেবী অন্ধ'—প্রতিটি পালাতেই তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
তৎকালীন সময়ের তিন কিংবদন্তি অভিনেত্রী জ্যোৎস্না দত্ত, বীণা দাশগুপ্ত ও বেলা সরকারের বিপরীতে তাঁর রসায়ন ছিল দেখার মতো। হঠাৎই আকস্মিক শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। যাত্রা গবেষক অভিজিৎ সেনের মতে, অসীম কুমারের প্রয়াণে প্রকৃত অর্থেই যাত্রার ক্লাসিক অভিনয় ধারার শেষ শিল্পী চলে গেলেন। মঞ্চে পর্দা নামল এক সোনালি যুগের।
