টোকাটুকি রুখতে মহিলা পরীক্ষার্থীদের পোশাক খুলে তল্লাশি নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল হাওড়ার সাঁকরাইল গার্লস হাইস্কুলে। এই ঘটনা নিয়ে এবার তদন্ত শুরু করল হাওড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। সোমবার সকালে শিক্ষা সংসদের তরফে তিনজনের একটি তদন্তকারী দলকে পাঠানো হয় সাঁকরাইল গার্লস হাইস্কুলে। সেখানে তদন্তকারী দলের সদস্যরা ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। এই তদন্তকারী তলের মধ্যে ছিলেন জেলা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা সংসদের দুজন মহিলা এ আই ও একজন পুরুষ এ আই। এই প্রসঙ্গে হাওড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার সাহা বললেন, "অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা শিক্ষা সংসদের তরফে তদন্ত শুরু করেছি। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি আমরা অভিযোগকারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চালাবো। প্রয়োজনে তদন্তের স্বার্থে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দপ্তরে দুপক্ষকেই ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে। এই তদন্তের ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট তৈরি হবে। সেই রিপোর্টে যদি দেখা যায় অভিযোগকারীদের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তরুণী ও মহিলা পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগে কিছু মহিলা বাউন্সার রীতিমতো তাঁদের পোশাক খুলে তল্লাশি চালিয়েছে। পরীক্ষায় টোকাটুকি রুখতে এই তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ডিপ্লোমা ইন এলিমেন্টারি এডুকেশন এর পরীক্ষা চলাকালীন মহিলা পরীক্ষার্থীদের পোশাক খুলে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাঁকরাইল গার্লস হাইস্কুলে। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই পরীক্ষায় এইভাবে পোশাক খুলে মহিলাদের দেহ তল্লাশি চালানোর নামে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ওই স্কুলে পরীক্ষা দিতে আসা বহু তরুণী ও মহিলা পরীক্ষার্থীরা এই বিষয়ে সাঁকরাইল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশও এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সাঁকরাইল গার্লস হাইস্কুলের ফাইল ছবি।
তরুণী ও মহিলা পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগে কিছু মহিলা বাউন্সার রীতিমতো তাঁদের পোশাক খুলে তল্লাশি চালিয়েছে। পরীক্ষায় টোকাটুকি রুখতে এই তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, তাঁরা পরীক্ষার দিনগুলিতে পরীক্ষা শুরুর আগে পোশাক খুলে তল্লাশিতে আপত্তি জানালেও সে কথা কানে তোলা হয়নি। একটি সরকারি স্কুলের ভিতর বেসরকারি সংস্থার বাউন্সারদের কাজে লাগিয়ে কীভাবে তল্লাশি চালানো হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মহিলাদের অভিযোগ, শুধু পোশাক নয়, রীতিমতো তাঁদের অন্তর্বাসও খোলা হয়। তাঁদের গোপনাঙ্গে হাত দেওয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে অন্তর্বাস খুলিয়ে তা ভিডিও করা হয় বলেও অভিযোগ তোলেন মহিলা পরীক্ষার্থীরা। আর এই ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামল হাওড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ।
