shono
Advertisement

‘ভাল লিড রোল নেই মাসের পর মাস’, একান্ত সাক্ষাৎকারে যন্ত্রণার কাহিনি শোনালেন রণবীর

"হতাশা, রাগ, ক্ষোভ, সাহস আমি নিজে অনুভব করেছি", কেন একথা বললেন বলিউডের 'বাজিরাও'?
Posted: 06:58 PM Apr 23, 2021Updated: 06:58 PM Apr 23, 2021

ঝুঁকি নেওয়ার সাহস প্রয়োজন। একান্ত সাক্ষাৎকারে বললেন অভিনেতা রণবীর সিং (Ranveer Singh)। শুনলেন বিদিশা চট্টোপাধ‌্যায়।

Advertisement

কেরিয়ারের গোড়ায় বহুবার প্রত‌্যাখ‌্যাত হয়েও আজ আপনি সুপারস্টার। আপনার স্ট্রাগল পিরিয়ডের কথা একটু বলুন, কীভাবে লক্ষ্যে স্থির ছিলেন?

শুরুর দিকে এমন অনেক সময় এসেছে, যখন আমার মনে হয়েছে আর বোধহয় কিছু করতে পারব না। আর আশা নেই। বলিউডের (Bollywood) এই বিশাল বিনোদন জগতের দরজা ঠেলে ঢুকে পড়া যেন অসম্ভব! কিন্তু হাল ছেড়ে দিইনি। আমাকে লোভী বলতে পারেন, বোকাও বলতে পারেন, কিন্তু যেটা বলতে চাই, নিজের উপর থেকে বিশ্বাস পুরোপুরি হারিয়ে ফেলিনি কখনও। গোড়ার দিকে যখন কিছু ছিল না তখনও আমি একইরকমভাবে পরিশ্রমী, খুঁতখুঁতে, সাবধানী ছিলাম কাজের ব‌্যাপারে। একটা সময় ছিল, যখন দিনের পর দিন বসে আছি ফোনের অপেক্ষায় অথচ রিং হচ্ছে না, কিংবা ভাল লিড রোল নেই, মাসের পর মাস। তখন বিশ্বাস হারাইনি। মনে হয়েছিল পারব, অসম্ভব নয় কিছুই। কঠিন সময়েও ফোকাস্ড ছিলাম। আর আজ এই বিশ্বাসই আমাকে আমার স্বপ্নপূরণ করতে সাহায‌্য করেছে।

আপনি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন, আপনার চেহারা নায়কসুলভ নয়, এমনটা বলা হয়েছিল। এবং আপনি স্টার কিডও নন। অথচ আজ আপনি ইয়ুথ আইকন। সম্প্রতি আপনি ‘অ‌্যাডিডাস’-এর ব্র‌্যান্ড অ‌্যাম্বাসেডর হয়েছেন। স্টারডমের যাত্রাপথে সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?

নবীন অভিনেতা, বিশেষ করে যারা ইন্ডাস্ট্রির বাইরের, তারা যখন আমার কাছে উপদেশ চাইতে আসে, আমি সবসময় তাদের বলি–সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যাই করবে, তার কার্যকারণ যেন ঠিক হয়। অভিনয় ভালবাসো বলে অভিনয় করবে। অভিনয় পেশার সঙ্গে খ‌্যাতি এবং অর্থ জড়িয়ে আছে বলে যদি কেউ এই কাজে যোগ দেন সেটা ঠিক নয়। অর্থ বা খ‌্যাতির মোহ একধরনের ট্র‌্যাপের মতো। তাই এই শিল্পের প্রতি ভালবাসা থেকে কাজটা করা উচিত। আর একটা জিনিস আমি কাজ করতে গিয়ে শিখেছি সেটা হল, নিজের প্রতি সৎ থাকা। অভিনেতা নিজের প্রতি সৎ এবং খাঁটি হলে তার কাজেও সেই প্রতিফলন ঘটবে। তুমি যা নও, তা হওয়ার চেষ্টা কোরো না। কে কী বলবে সেটা না ভেবে অরিজিনাল থাকাটাই শ্রেয়। আর হ্যাঁ, রিস্ক নেওয়ার সাহসটা থাকতে হবে। যত বেশি ঝুঁকি, পুরস্কার তত বড়। হয়তো ভুল হবে, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষাও হবে।

[আরও পড়ুন: আসানসোল দক্ষিণে ‘স্ট্রিট ফাইটার’ সায়নীকে জেতান, আরজি মমতার]

প্রতিভাবান মিউজিশিয়ানদের জন‌্য আপনি লঞ্চ করেছিলেন আপনার ইন্ডিপেনডেন্ট মিউজিক রেকর্ড লেবেল ‘ইঙ্কইঙ্ক’। এই পদক্ষেপ কেন?

অনেক প্রতিভাবান শিল্পী আছেন যাঁরা অনেক পরিশ্রম করেন এবং অপেক্ষা করে থাকেন সেই অমোঘ মুহূর্তের জন‌্য যেটাকে আমরা ‘সুযোগ’ বলি। সুযোগের অভাবে অনেকে হারিয়ে যায়। আমি যখন স্ট্রাগল করছি তখন বুঝেছি এর মূল‌্য। তাই আমার মতো যারা স্বপ্ন দ‌্যাখে তাদের যাত্রাপথটা একটু মসৃণ করতে চেয়েছি। তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করার জন‌্য একটা প্ল‌্যাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছি। আমার মতো করে আমি কৃতজ্ঞতাবোধ এবং ভালবাসা এই প্রজন্মকে, এই পৃথিবীকে ফিরিয়ে দিতে চাই।

আপনার উত্থান একজন আন্ডারডগের উত্থান। এবং তেমন ব‌্যক্তিত্বদের নিয়ে তৈরি হওয়া ছবির লিড রোলে আপনি। যেমন ‘৮৩’ কিংবা ‘জয়েসভাই জোরদার’। নিজের জীবন থেকে কতটা ধার করতে হয়েছে এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে?

বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করার সময় ব‌্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকেই ধার করতে হয়। আর এই ধরনের আন্ডারডগ চরিত্রের প্রতি আমি সবসময় সহানুভূতিশীল, কারণ, আমার জীবনটাও সেইরকম। ‘গালি বয়’ ছবিতে একটা সংলাপ ছিল, যেটা অনেকটা আমার জীবনেরই কথা। ‘আমার চারপাশ অনুযায়ী আমি স্বপ্ন বদলাব না। বরং আমি যে স্বপ্ন দেখি, সেই অনুযায়ী আমার চারপাশের বাস্তবকে বদলাতে হবে।’ ‘গালি বয়’-এর ‘মুরাদ’ কিংবা ‘৮৩’-র কপিল দেব অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছিল, এই বিশ্বাসে বিশ্বাস রেখেই। তাই এমন চরিত্রে অভিনয় করার সময় আমি খুব সৎ থেকে অভিনয় করতে পেরেছি। কারণ, তাঁদের হতাশা, রাগ, ক্ষোভ, সাহস আমি নিজে অনুভব করেছি।

[আরও পড়ুন: ‘জীবন ঘোর অনিশ্চিত’, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণার নতুন টুইটে কীসের ইঙ্গিত?]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement