চা শিল্পের গৌরব ফেরাতে দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াংয়ে টি টেস্টিং অর্থাৎ চা-এর স্বাদ নির্ধারণের কোর্স চালু করেছে চা পর্ষদ। চা বণিকসভাগুলো মনে করছে দক্ষ টি টেস্টারের সংখ্যা এখনও তুলনামূলকভাবে কম। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর চাহিদা রয়েছে। চায়ের গুণমান নির্ধারণ, ব্লেন্ডিং, নিলাম ও রপ্তানিতে টি টেস্টারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। দার্জিলিং চায়ের বিশ্ববাজারে সুখ্যাতি থাকায় বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনও বাড়ছে। ওই কারণে চা পর্ষদ স্বীকৃত কোর্স চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে ছেলেমেয়েদের চাকরির সুযোগ বাড়বে।
সম্প্রতি দার্জিলিং টি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সূচনা হয়। চা পর্ষদের ডেপুটি চেয়ারপার্সন সি মুরুগন জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে। যাঁরা চায়ের গুণমান উন্নত করা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্বাদ যাচাই, মান নিয়ন্ত্রণ করবে। এগ্রিকালচার স্কিল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং অনুমোদিত এই কোর্সগুলি তৈরি করা হয়েছে। চা পর্ষদের লক্ষ্য এই কোর্সের মাধ্যমে দক্ষ টি টেস্টার এবং টি সোমেলিয়ার তৈরি করা। এর ফলে ভারতীয় চায়ের মানোন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চা সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে প্রকাশিত বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা হয়েছিল, দার্জিলিং পাহাড়ে পুরনো বাগানগুলো চাঙ্গা করতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে উচ্চ ফলনশীল চারা রোপণ করা হবে। রাসায়নিক কীটনাশকমুক্ত পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হবে। চা রপ্তানি সম্প্রসারিত করতে বিশেষ রপ্তানিকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে যেখানে গুণগতমান যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী চা বাগানগুলোকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী চা বাগানগুলির উন্নতিতে এখন নজর ডবল ইঞ্জিন সরকারের।
