সুন্দর পোশাক আর দারুণ মেকআপের পরেও যদি চুল উসকোখুসকো দেখায়, তবে পুরো সাজটাই মাটি! রেশমি, ঝলমলে চুল পেতে আমরা কত কী-ই না করি। কিন্তু দামি প্রোডাক্ট ব্যবহার করার পরও কি কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে? হতে পারে আপনার কিছু ভুল অভ্যাসই এর জন্য দায়ি। চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ঠিক কী করা উচিত আর কোনটা এড়িয়ে চলাই ভালো, তা নিয়ে জরুরি পরামর্শ দিলেন বলিপাড়ার খ্যাতনামা হেয়ার স্টাইলিস্ট অমিত ঠাকুর। অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের চুলের সৌন্দর্যের নেপথ্যেও রয়েছেন ইনিই। সম্প্রতি চুলের সেরা ও ক্ষতিকর অভ্যাসগুলোকে নম্বর দিয়ে গুরুত্ব বিচার করেছেন তিনি।
ফাইল ছবি
(১) রাতে শ্যাম্পু করে ভেজা চুলে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। অমিত ঠাকুরের মতে, এটি চুলের মারাত্মক ক্ষতি করে। তিনি এই অভ্যাসকে দিয়েছেন মাত্র ১/১০! ভেজা স্ক্যাল্পে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে। ফলে খুশকি, স্ক্যাল্পে চুলকানি ও অস্বস্তি বাড়ে।
(২) অন্যদিকে, ভেজা চুল আঁচড়ানোকে তিনি নম্বর দিয়েছেন বড় একটা শূন্য (০/১০)! কারণ ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে। এই সময় জোরে আঁচড়ালে টান পড়ে চুল ছিঁড়ে যায়। চুল কিছুটা শুকানোর পর বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে আলতো হাতে জট ছাড়ানোই সঠিক নিয়ম।
ফাইল ছবি
(৩) মাথায় আলতো হাতে তেল ম্যাসাজ করাকে তিনি দিয়েছেন ৮/১০। স্ক্যাল্পে হালকা মালিশ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং মনও শান্ত থাকে। তবে খুব জোরে ঘষাঘষি করা একদম চলবে না।
(৪) আবার চুলে তেল, ঘাম বা ধুলো জমে থাকলে 'ডাবল শ্যাম্পু' করার পক্ষে তিনি সওয়াল করেছেন। একে দিয়েছেন ৯/১০। দু’বার শ্যাম্পু করলে স্ক্যাল্প ও চুল ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। তবে খুব নোংরা না হলে রোজ ডাবল শ্যাম্পু করার দরকার নেই, এতে চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।
ফাইল ছবি
(৫) চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে নিয়মিত ট্রিম বা ডগা ছেঁটে ফেলাকে তিনি পূর্ণ নম্বর (১০/১০) দিয়েছেন। এতে চুল দ্রুত না বাড়লেও ফাটা ডগা ছড়িয়ে পড়ে না। ফলে চুল দেখায় স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
(৬) পাশাপাশি, সুতির বদলে সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহারের অভ্যাসকে দিয়েছেন ৮/১০। সিল্কে ঘর্ষণ কম হওয়ায় ঘুমের মধ্যে চুল কম জট পাকায়, ফ্রিজি ভাব কমে এবং চুল ভাঙা রোধ হয়।
তারকা স্টাইলিস্টের এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললেই আপনার চুলও হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যবান ও ঝলমলে।
