ত্বকের যত্ন নিতে নিত্যনতুন প্রসাধনী ব্যবহার করেন? এমন অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু প্রসাধনসামগ্রীর বহর বাড়ালেই কি ত্বক ভালো থাকবে? রূপটানের পর যদি হঠাৎ ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে গলদ রয়েছে পরিচর্যার পদ্ধতিতেই। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে সেই অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিলেন শাহিদপত্নী মীরা কাপুর (Mira Kapoor)। দু'বছর আগে ঠিক কোন ভুলে নিজের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তা জানিয়ে ভক্তদের সতর্ক করলেন তিনি। জানালেন, ত্বকের সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি প্রসাধনী ব্যবহারের চেয়ে সঠিক ও সীমিত পরিচর্যাই বেশি কার্যকর।
ফাইল ছবি
রূপটান শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় ক্যামেরার সামনে জেল্লা ছড়ালেও, তার পরের পরিণতি হতে পারে মারাত্মক। মীরা কাপুরের মতে, বড় কোনও অনুষ্ঠান বা শুটের পর অতিরিক্ত সাজগোজের প্রভাবে ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ভুল করে ত্বকে একের পর এক রাসায়নিক প্রয়োগ করতে থাকেন। যার ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বা 'স্কিন ব্যারিয়ার' সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মীরা তিনটি বড় ভুলের কথা তুলে ধরেছেন। প্রথমত, অতিরিক্ত বা কড়া ফেসওয়াশ ব্যবহার করার ভুল। ফেসওয়াশ ব্যবহারের পর যদি ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক বা টানটান মনে হয়, তবে তা ত্বকের সুরক্ষাকবচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ। ত্বককে অতিরিক্ত পরিষ্কার করার চেষ্টা হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই সর্বদা মৃদু বা ‘জেন্টল ক্লিনজার’ বেছে নিন।
ফাইল ছবি
দ্বিতীয়ত, দ্রুত ফলের আশায় একাধিক শক্তিশালী উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করার ভুল। বিএইচএ, ভিটামিন সি বা গ্লাইকোলিক অ্যাসিডের মতো উপাদানগুলি একসঙ্গে ত্বকে প্রয়োগ করলে ত্বকের স্বাভাবিক টান নষ্ট হয়। মুখ জ্বালা করতে থাকে। ফলে ত্বকের সংবেদনশীলতা অনেকটাই বেড়ে যায়। একসঙ্গে একাধিক উপাদান না মেখে নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী তা মেপে ব্যবহার করাই শ্রেয়।
তৃতীয়ত, সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ‘ট্রেন্ড’ অন্ধভাবে অনুসরণ করবেন না। 'স্লাগিং'-এর মতো ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পদ্ধতি শুষ্ক জলবায়ুর দেশের জন্য উপযোগী হলেও, ভারতের মতো আর্দ্র আবহাওয়া এবং ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে তা একেবারেই অনুপযুক্ত। আবহাওয়া, পরিবেশ এবং নিজস্ব ত্বকের ধরন বুঝে প্রসাধনসামগ্রী নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, হাজারো সেরাম বা প্রসাধনী বদলে ফেলার চেয়ে মূল পরিচর্যায় নজর দেওয়া উচিত। প্রতিদিনের রুটিনে একটি মৃদু ফেসওয়াশ, উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন রাখা আবশ্যক। নতুন কোনও উপাদান যুক্ত করতে চাইলে তা ধীরে ধীরে সহ্যক্ষমতা বুঝে ব্যবহার করুন। তবে ব্রণের সমস্যা যদি মারাত্মক রূপ নেয়, তবে ঘরোয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে সরাসরি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ত্বকের যত্নে মূল চাবিকাঠি হল— সরলতা, সামঞ্জস্য এবং সঠিক ধারাবাহিকতা।
