shono
Advertisement

Breaking News

Toxic Film Review

মাত্রাতিরিক্ত রক্তারক্তি, যৌন সুড়সুড়িতে দুর্বল 'টক্সিক'! অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট যশের

কেমন হল যশ, কিয়ারা আডবানি, নয়নতারার সিনেমা 'টক্সিক'? পড়ুন রিভিউ।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 06:03 PM Aug 26, 2026Updated: 07:42 PM Aug 26, 2026

অন্ধকার জগৎ, গ্যাংস্টার গাথা সিনেদুনিয়ার পর্দায় নতুন নয়, তবুও সিনেমার একাধিক প্রচারঝলকে যে খেলা দেখিয়েছেন 'কেজিএফ' স্টার যশ, তাতে মাসখানেক ধরেই আসমুদ্রহিমাচলের সিনেপোকাদের অ্যাড্রিনালিন রাশ তুঙ্গে। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বছর চারেক বাদে বড়পর্দায় প্রত্যাবর্তন করলেন ঠিকই, কিন্তু 'টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস'-এ দর্শকের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারলেন দক্ষিণী সুপারস্টার যশ? কৌতূহল সর্বত্র।

Advertisement

তিন ঘণ্টার এহেন পালঙ্ক কাঁপানো ঠুনকো পৌরষের দম্ভ দেখানোর জন্য গীতু মোহনদাসের কুর্নিশ প্রাপ্য কিনা, সেই আলোচনা এই পরিসরে না করাই শ্রেয়। আপাতত পুঁতিগন্ধময় শৈশবের জ্বালাযন্ত্রণা নিয়ে বেড়ে ওঠা 'টক্সিক' 'রায়া'র কথা বলা যাক। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই যে দুধের বদলে পেয়েছে রক্তের স্বাদ!

দ্বৈত চরিত্রে 'টক্সিক' যশের অভিনয় প্রশংসনীয়।

বলিউড হোক বা দক্ষিণী ছবির বক্স অফিসে বাজিমাত করতে 'আলফা মেল' ট্রেন্ডই যে বর্তমানে নির্মাতাদের একমেবাদ্বিতীয়ম অস্ত্র হয়ে উঠেছে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। তবে এযাবৎকাল সিনেজগতের পুরুষ পরিচালকদের হাত ধরে পর্দায় সেসব কর্মকাণ্ড ফুটে উঠলেও এই প্রথম সাহস করে কোনও মহিলা পরিচালক উগ্র পৌরুষের দাপট দেখালেন। তিন ঘণ্টার এহেন পালঙ্ক কাঁপানো ঠুনকো পৌরষের দম্ভ দেখানোর জন্য গীতু মোহনদাসের কুর্নিশ প্রাপ্য কিনা, সেই আলোচনা এই পরিসরে না করাই শ্রেয়। আপাতত পুঁতিগন্ধময় শৈশবের জ্বালাযন্ত্রণা নিয়ে বেড়ে ওঠা 'টক্সিক' 'রায়া'র কথা বলা যাক। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই যে দুধের বদলে পেয়েছে রক্তের স্বাদ! সেখান থেকেই এক গ্যাংস্টারের উত্থান। বোমাবাজি, গোলাগুলি, হাইভোল্টেজ অ্যাকশন সিকোয়েন্স, বারুদের গন্ধে ম-ম করা 'লার্জার দ্যন লাইফ' সিনেমায় ঠাসা রগরগে সব যৌনগন্ধী দৃশ্য। 'টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস'-এর নাম আর যাবতীয় প্রচারঝলকেই বোঝা গিয়েছিল যে এই 'সর্বনাশী খেলা' প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। আশা ছিল, বড়পর্দায় এহেন 'গ্যাংস্টার গেম' আরও জমে উঠবে। তবে শুরুর পনেরো মিনিটেই চিত্রনাট্যে তাল কাটার আভাস মিলল। এক 'টক্সিক' পুরুষের একাধিক নারীসঙ্গ, নারীদের হেয় করা সংলাপে যখন প্রেক্ষাগৃহের গর্ভগৃহে হাসি কিংবা করতালির রোল পড়ে, তখন সিনেমাকে সমাজের দর্পণ বলা কতটা যুক্তিযুক্ত? সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

সিনেমার দৃশ্যগুলিতে নারীরা যেন শুধুই ভোগ্যপণ্য! অথযা রক্তারক্তি, যৌন সুড়সুড়িমূলক দৃশ্যে ঠাসা যশের 'টক্সিক'-এর ক্ষেত্রে 'অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট' প্রবাদবাক্যটি একেবারে অক্ষরে অক্ষরে খাটে।

সিনেমার দৃশ্যগুলিতে নারীরা যেন শুধুই ভোগ্যপণ্য!

গল্পের প্রেক্ষাপট ১৯৪০-এর দশকের গোয়া। পর্তুগিজদের আস্ফালনে তখন সৈকত শহরে ক্যাসিনো, মাদক ব্যবসার রমরমা। স্থানীয় গ্যাংস্টারদের সঙ্গে বিরোধ। এমন আবহেই দিদি গঙ্গার (নয়নতারা) সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা রায়ার। শৈশবে যে পিতৃহত্যার সাক্ষী। জন্মলগ্নেই মায়ের হাতে বাবাকে খুনের সাক্ষী থাকা রায়ার জীবন অভিশপ্ত। সেখান থেকেই নারীদের প্রতি তাঁর 'টক্সিক' মনোভাব জন্মায়। কতটা 'টক্সিক'? সেই ঝলক গোটা সিনেমাজুড়ে পরতে পরতে একাধিক নারীসঙ্গে আসক্ত রায়া দেখিয়েছে। দিদি গঙ্গাই একমাত্র নারী তার জীবনে যার এককথায় যে কোনও পরিস্থিতিতে জীবন বাজি রাখতেও দু'বার ভাবে না সে। বাগদত্তা রেবেকা (তারা সুতারিয়া), প্রেমিকা নাদিয়া (কিয়ারা আডবানি) থেকে স্ত্রী মেলিসা (রুক্মিণী বসন্ত) সকলেই রায়ার 'টক্সিক' পৌরষের শিকার। তবে গল্পে একমাত্র এলিজাবেথ-ই (হুমা কুরেশি) রায়ার প্রতিপক্ষ। ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের ছবিতে চিত্রনাট্যজুড়ে একাধিক সংলাপে নারীদের হেয় করার নিদর্শন রেখেছেন পরিচালক গীতু। কীরকম? এক দৃশ্যে যশকে বলতে শোনা যায়- 'কোনও নারীর রেশ কাটাতে হলে আমি আরেক নারীর কাছে যাই। এত নৈতিকতার কোনও প্রয়োজন নেই।' সিনেমার দৃশ্যগুলিতে নারীরা যেন শুধুই ভোগ্যপণ্য! অথযা রক্তারক্তি, যৌন সুড়সুড়িমূলক দৃশ্যে ঠাসা যশের 'টক্সিক'-এর ক্ষেত্রে 'অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট' প্রবাদবাক্যটি একেবারে অক্ষরে অক্ষরে খাটে। কারণ মেগাবাজেট সিনেমায় সুদৃশ্যপট সিনেম্যাটোগ্রাফি, কমার্শিয়াল ছবির সব উপকরণ মজুত থাকলেও চিত্রনাট্যের বাঁধুনি অত্যন্ত অপরিপক্ক। ক্ষণে ক্ষণে কেন রক্তগঙ্গা বইছে? কেনই বা তড়িৎগতিতে শয্যাসঙ্গিনী বদলাচ্ছে? ঠাহর করা দায়! তবে দ্বৈত চরিত্রে যশের অভিনয় অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভালো লাগে পরিণত কিয়ারা আডবানিকে দেখতে। তারা সুতারিয়া যথাযথ। 'লেডি বস' ভূমিকায় নয়নতারাকে মানিয়ে যায়। স্বল্প উপস্থিতিতে হুমা কুরেশি ভালো। শেষপাতে রুক্মিণী বসন্ত খোলা হাওয়ার মতো স্বাদ দিলেও সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় গীতু মোহনদাসের 'আলফা মেল' গাথা উদ্ধার করতে অপারগ। প্রথমার্ধের স্লথ গতির গল্প দ্বিতীয়ার্ধে প্রাণ পেলেও বাঁধনছাড়া চিত্রনাট্যে প্রত্যাশাপূরণ করতে পারল না 'টক্সিক'।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement