রসনাতৃপ্তিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতের জয়জয়কার! এ আর নতুন কী? এই বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতির দেশে স্বাদে-গন্ধে ভারতীয়রা আজও একসূত্রে বাঁধা। আর এই রান্নার মহিমা শুধু স্বাদেই আটকে নেই। এমনকী তা পৌঁছে গিয়েছে গিনেস বুকের পাতায়। কখনও বিশালাকার কড়াই। কখনও বা তাজ্জব করা রন্ধন আয়োজন। আমাদের রোজকার পরিচিত কিছু খাবারই গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজেদের নাম খোদাই করে নিয়েছে। সেই অবিশ্বাস্য রন্ধনযজ্ঞের গল্প জানেন কি?
ছবি: সংগৃহীত
১৪ টনের বিরিয়ানি মহোৎসব
বিরিয়ানি মানেই পরম শান্তির আস্বাদ। ২০০৮ সালে দিল্লির একদল শেফ তৈরি করেছিলেন পৃথিবীর বৃহত্তম বিরিয়ানি। তার ওজন শুনলে ভিরম খাওয়ার জোগাড়! ওজন ছিল—১৪.০৬ টন! হাজার হাজার কেজি চাল, মাংস, ঘি আর মশলা মিশিয়ে তৈরি হয়েছিল এই শাহী পদ। বিশাল পাত্রে তৈরি হলেও স্বাদের বিন্দুমাত্র খামতি ছিল না।
ছবি: সংগৃহীত
খিচুড়ির বিশ্বজয়
খাবারের তালিকায় খিচুড়ি অত্যন্ত সাধারণ হলেও, এর রেকর্ড কিন্তু অসাধারণ। ২০১৭ সালে দিল্লির 'ওয়ার্ল্ড ফুড ইন্ডিয়া' অনুষ্ঠানে শেফ সঞ্জীব কাপুরের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন শেফ মিলে তৈরি করেন ৯১৮ কেজি খিচুড়ি। চাল ও ডালের এই পুষ্টিকর পদটি রেকর্ড গড়ার পর বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল অনাথ ও দুঃস্থদের মধ্যে।
ছবি: সংগৃহীত
পাহাড়প্রমাণ বুন্দিয়া লাড্ডু
মিষ্টি ছাড়া আমাদের যেকোনও উৎসব ভাবাই যায় না। ২০১৬ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের তাপেস্বরামের এক মিষ্টি ব্যবসায়ী পিভিভিএস মল্লিকার্জুন রাও তৈরি করেন এক দানবীয় বুন্দির লাড্ডু। যার ওজন ছিল ২৯,৪৬৫ কেজি! বেসন, চিনি, ঘি আর ড্রাই ফ্রুটসের এই পাহাড়প্রমাণ মিষ্টি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।
ছবি: সংগৃহীত
সাড়ে ৫৪ ফুটের দোসা
দক্ষিণ ভারতীয় দোসা কার না প্রিয়? কিন্তু ২০১৪ সালে হায়দরাবাদের ২৯ জন শেফ মিলে যা করলেন, তা ছিল কল্পনাতীত। তাঁরা তৈরি করেছিলেন ১৬.৬৮ মিটার (প্রায় ৫৪ ফুট ৮ ইঞ্চি) লম্বা একটি দোসা। অত লম্বা হলেও দোসার চিরাচরিত মুচমুচে ভাব এবং স্বাদ ছিল একদম নিখুঁত।
ছবি: সংগৃহীত
১৪৫ কেজির চাপাটি
রোজকার চেনা রুটিও যে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পারে, তা আর কে ভেবেছে? ঘটনাটি গুজরাটের জামনগরের। ২০১২ সালে এক উৎসবে তৈরি হয় বিশ্বের বৃহত্তম চাপাতি বা রুটি। যার ওজন ছিল ১৪৫ কেজি। একটি বিশেষ ৩ মিটার বাই ৩ মিটার ধাতব চাটুর ওপর এই রুটি সেঁকতে লেগেছিল বহু মানুষের যৌথ প্রয়াস।
