বৈশাখের চড়া রোদে কার্যত নাজেহাল দশা রাজ্যবাসীর। এই চরম গরমে শরীর সুস্থ রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ! আবহাওয়া দপ্তরের চোখরাঙানির পাশাপাশি চিকিৎসকরাও দিচ্ছেন আগাম সতর্কবার্তা। তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে বমি, মাথাঘোরা বা হজমের সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে ওষুধের চেয়েও বেশি জরুরি সঠিক খাদ্যাভ্যাস। পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের শরীরের বড় অংশই জল। গরমে ঘামের মাধ্যমে সেই জল দ্রুত বেরিয়ে যায়। তাই শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখা এবং জলের ভারসাম্য বজায় রাখাই সুস্থ থাকার একমাত্র পথ। জ্বালাপোড়া গরমে কী খাবেন আর কী খাবেন না? জেনে নিন।
ফাইল ছবি
১) গরমে সুস্থ থাকার প্রধান হাতিয়ার হল জলীয় খাবার। এই তালিকায় প্রথম নাম লেবু জল। চিনি এড়িয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে নিলে এটি ক্লান্তি দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। শরীরকে চনমনে রাখতে ডাবের জলের জুড়ি মেলা ভার। প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটে ভরপুর এই পানীয় খনিজ লবণের ঘাটতি মেটায়। সকালে বা রোদে খাটাখাটুনির পর ডাবের জল অমৃত সমান।
ফাইল ছবি
২) ফল ও সবজির ক্ষেত্রে শসা ও তরমুজ আপনার পরম বন্ধু হতে পারে। শসায় প্রায় ৯৫ শতাংশই জল। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, তরমুজ যেমন জল সরবরাহ করে, তেমনি শরীরে যোগায় তাৎক্ষণিক শক্তি। টিফিনে বা বিকেলের জলখাবারে এই দুই ফল অবশ্যই রাখুন।
ফাইল ছবি
৩) পেটের স্বাস্থ্য ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। রায়তা বা ঘোল হিসেবে দই খেলে হজম ভালো হয়। সঙ্গে যদি সামান্য পুদিনা পাতা যোগ করা যায়, তবে তা শরীরের জ্বালাপোড়া ভাব কমাতে সাহায্য করে।
ফাইল ছবি
৪) তবে গরমে বর্জনীয় তালিকার দিকেও নজর দেওয়া দরকার। কফি বা চা অত্যন্ত প্রিয় হলেও, গরমে এগুলি শরীরে জলের অভাব বা ডিহাইড্রেশন তৈরি করে। তাই ক্যাফিন জাতীয় পানীয় কমিয়ে বরং আম পান্না বা ছাঁস বেছে নিন। অতিরিক্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ ভারী খাবার এই সময়ে এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ তা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তাই বাসি খাবার এড়িয়ে টাটকা রান্না করা খাবার খাওয়াই বুদ্ধিমত্তার কাজ।
নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়ায় সামান্য বদল আনলেই গ্রীষ্মের এই দাবদাহকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব। সুস্থ থাকতে প্রচুর জল পান করুন। এবং শরীরের প্রয়োজন বুঝে শীতল খাবার বেছে নিন।
