সঙ্গী থাকতেও সহকর্মীর প্রতি মানসিকভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়ছেন, কিন্তু স্বীকার করতে চাইছেন না। হয়তো কেবল বাকিদের নয়, নিজেকেও এ কথাই বলছেন যে উলটোদিকের মানুষটি নিছক বন্ধু হয় আপনার। কিন্তু তারপরেও তাল কাটছে। একদিকে যেমন আপনার মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই পার্টনারের সঙ্গে সম্পর্কটির অবস্থাও টালমাটাল।
কাউকে ভালো লাগা মানেই কি প্রতারণা? এই প্রশ্ন যদি আপনি নিজেকে করে থাকেন, তাহলে বিষয়টা নিয়ে খতিয়ে ভাবার সময় এসেছে। প্রতারণা সবসময় শারীরিক হয় না। কখনও কখনও এর সূচনা হয় নিরীহভাবেই। হয়তো সহকর্মীটি আপনাকে আপনার জীবনসঙ্গীর চাইতেও বেশি বুঝতে পারছে বলে মনে হচ্ছে। তার মতামত আপনার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাহলে খুব সম্ভবত আপনি জড়িয়ে পড়েছেন ‘ইমোশনাল এফেয়ারে’।
এ ধরনের সম্পর্ক শুরু হয় ফ্লারটিং বা সাধারণ বন্ধুত্ব দিয়েই। কিন্তু দ্রুত তাতে আবেগের অনুপ্রবেশ ঘটে। গড়ে ওঠে এমন সম্পর্ক, যা সাধারণত নিজের সঙ্গীর সঙ্গে থাকার কথা।
অচিরেই ‘ইমোশনাল এফেয়ারে’ জড়িয়ে পড়ছেন কি-না, বুঝে নিন ৫টি লক্ষণ দেখে।
১. সবকিছু প্রথমে তাকেই বলতে ইচ্ছে করে। কাজে মজার কিছু ঘটেছে, ভালো কোনও খবর পেয়েছেন, অথবা দিনটা খুব খারাপ গিয়েছে— কোনও কিছু না ভেবেই সঙ্গীর আগে সেই ব্যক্তিকে মেসেজ করেন।
২. সঙ্গীর সঙ্গে যা শেয়ার করেন না, তাও তাকে জানান নির্দ্বিধায়। প্রতিটি সম্পর্কেই আলাদা ইকুয়েশন কাজ করে, কিন্তু আবেগ যেকোনও সীমানাকেই ঝাপসা করে দেয়। হয়তো এই মানুষটিকে এমন কথাও বলে ফেলেন আপনি, যা সঙ্গীকেও বলেননি কখনও।
৩. তার মেসেজ আপনার মন ভালো করে দেয়। নির্দিষ্ট সময় মেসেজ না এলে, মাত্রাতিরিক্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন। এমন পর্যায়ে নিজেকে প্রশ্ন করতেই হয়, সত্যিই কি আপনাদের সম্পর্ক কেবলমাত্র বন্ধুত্বে থেমে রয়েছে?
৪. আপনাদের বন্ধুত্ব ঠিক কেমন, তা কাউকে ব্যাখ্যা করতে গেলে অস্বস্তি হয়। খেয়াল করুন, আপনি কি অকারণেই অন্যদের থেকে লুকাচ্ছেন এই বন্ধুটির কথা? হয়তো চ্যাট ডিলিট করেন। হয়তো কতটা কথা বলেন, তা সঙ্গীর কাছে উল্লেখ করেন না। অথবা বন্ধুত্বটিকে অত্যন্ত সামান্য হিসেবে দেখান, কারণ জানেন পুরো বিষয়টি জানলে সঙ্গী অস্বস্তি বোধ করবেন।
৫. কল্পনা করে বসেন, এই বন্ধুটির সঙ্গে সম্পর্কে থাকলে জীবন কেমন হত। মনে মনে সঙ্গীর সঙ্গে তার তুলনা করেন। পরক্ষণেই নিজেকে বোঝান যে এসব নিছকই হালকা চালের কল্পনা।
আপনি কি অকারণেই সহকর্মীর চ্যাট ডিলিট করছেন?
মাঝেমধ্যে এমন চিন্তা আসতেই পারে। কিন্তু তা বাস্তব সম্পর্ক থেকে পালানোর নিয়মিত মানসিক আশ্রয় হয়ে উঠলে ভেবে দেখা প্রয়োজন। হয়তো আপনি নিজেও বুঝতে পারছেন, স্বাভাবিক বন্ধুত্বের পর্যায়ে থেমে নেই সম্পর্কটি।
সচেতন হতে হবে আজই। প্রয়োজনে সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন, প্রয়োজনে দূরত্ব নির্ধারণ করুন সহকর্মীটির সঙ্গে। 'গোয়িং উইথ দ্য ফ্লো' নীতি মেনে এগিয়ে চললে কঠিনতর হবে আসন্ন ভবিষ্যত।
