বর্ষায় ঘন ঘন সর্দিকাশি, জ্বরজারি লেগে থাকে। কড়া ওষুধে মুখের স্বাদও যায়, গা ম্যাজম্যাজও লেগেই থাকে। বাড়ির বড়রা তাই বলেন, এমন সমস্যার সঙ্গে পাকাপাকিভাবে লড়তে প্রয়োজন নিয়মিত চবনপ্রাশ খাওয়ার। কিন্তু বাজারচলতি চবনপ্রাশে সামান্য হলেও কৃত্রিম উপাদান মেশানো হয়। মেয়াদ বাড়াতে, যোগ করা হয় প্রিজারভেটিভও।
তাই হাতে খানিক সময় থাকলে, একেবারে খাঁটি উপাদানে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলা যায় চবনপ্রাশ (Make Chyawanprash at Home)। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। শরীর হতে ভিতর থেকে মজবুত। নিয়মিত সেবন করতে পারলে গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত— কখনওই হাঁচি-কাশিতে ভুগতে হবে না।
বানাতে যা যা লাগবে—
• ১ কেজি তাজা আমলকি
• ১ কাপ খাঁটি ঘি
• ৫০০ গ্রাম গুড় (গ্রেট করা)
• ২–৩ টেবিলচামচ মধু
• ২টি তেজপাতা
• বড় টুকরোর দারুচিনি (২ ইঞ্চি মতো মাপের)
• ১০–১২টি লবঙ্গ
• ১০–১২টি সবুজ এলাচ
• ১ চা-চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো
• ১ টেবিলচামচ শুকনো আদার গুঁড়ো
• অর্ধেক জায়ফল
কীভাবে বানাবেন?
আমলকিগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। অল্প জলে সেদ্ধ করুন বা স্রেফ ভাপেও সেদ্ধ করা যায়। যতক্ষণ না নরম হয়ে ফেটে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত ভাপে রাখতে হবে। ঠান্ডা হলে, বীজ ফেলে দিন। নরম অংশ ব্লেন্ডারে দিয়ে মিহি পেস্ট তৈরি করুন।
শুকনো খোলায় এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, গোলমরিচ ও তেজপাতা হালকা আঁচে প্রায় ৩০ সেকেন্ড নেড়ে নিন। এগুলোর সঙ্গে শুকনো আদার গুঁড়ো ও জায়ফল মিশিয়ে, একেবারে শুকনো গুঁড়ো করে নিন। এতে যেন কোনওভাবেই জল না মেশে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কড়াইয়ে ঘি গরম করুন। তাতে আমলকির পেস্ট দিয়ে কম আঁচে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন, যাতে অতিরিক্ত জল শুকিয়ে যায়। একসময় মিশ্রণটিতে চকচকে ভাব আসবে। এবার গ্রেট করা শুকনো গুড় ও তৈরি করা মসলার গুঁড়ো যোগ করুন এতে। আবারও কম আঁচে নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না মিশ্রণটি ঘন হয়ে কড়াইয়ের পাশ ছেড়ে আসতে শুরু করে। মিশ্রণটি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। এরপর মধু মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। ব্যস, বাড়িতেই তৈরি দোকানের মতো চবনপ্রাশ।
পরিষ্কার, শুকনো ও বায়ুরোধী কাচের বোতলে ভরে রাখুন। ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করতে পারলে প্রায় ৩ মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে চবনপ্রাশ। তবে কোনওভাবেই জল লেগে গেলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, বা সাদা ফাঙ্গাসের পরত গজিয়ে যেতে পারে এর উপর।
