ইস্টবেঙ্গলের মহিলা দলের সাফল্যের রথ ছুটছেই। টানা দু'বার ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ জয়। সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বার এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে লাল হলুদ। যার নেপথ্যে কোচ অ্যান্টনি অ্যান্ড্রুজ (Anthony Andrews)। এবার তাঁর সামনে নতুন দায়িত্ব। ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্বের পাশাপাশি ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা দলের সহকারী কোচ হিসাবে কাজ শুরু করলেন ৩০ বছরের অ্যান্টনি। এমন গুরুদায়িত্ব পেয়ে কী বলছেন তিনি?
এই মুহূর্তে তাসখন্দে রয়েছে ভারতীয় দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের আগে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দু'টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে তারা। প্রথম ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে। রবিবার দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে ভারত। তার আগে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে টানা দ্বিতীয়বার পৌঁছনোর পর অ্যান্টনি বললেন, "প্রাথমিক পর্বে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্যও আমাদের অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। মাত্র চার সপ্তাহ সময় পেয়েছিলাম। আবহাওয়া, মাঠের সমস্যা, বিদেশি ফুটবলারদের দেরিতে আসা, ভিসার সমস্যা– সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সহজ ছিল না। তবু যতটা সময় পেয়েছি, ইন্ডোরে অনুশীলন করেছি। পরপর দু'বার যোগ্যতা অর্জন করতে পেরে আমি খুব খুশি। কৃতিত্ব পুরোপুরি ফুটবলারদের।"
এই মুহূর্তে তাসখন্দে রয়েছে ভারতীয় দল। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের আগে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দু'টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে তারা।
গত মরশুমে ইতিহাস তৈরি করেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসাবে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে ম্যাচ জিতেছিল তারা। যদিও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের নাসাফের কাছে হেরে নকআউটে ওঠা হয়নি। এবার সেই খামতিগুলি শুধরে আরও ভালো ফল করতে চান অ্যান্টনি। তবে তাঁর মতে, গ্রুপের দলগুলির শক্তির উপর অনেকটাই নির্ভর করবে পরিকল্পনা। "চিনের উহান জিয়াংদার মতো দলের বিরুদ্ধে আমরা আগেও খেলেছি। এবার যদি এমন গ্রুপে পড়ি যেখানে দলগুলি টেকনিক্যালি খুব শক্তিশালী, তাহলে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি হবে। আমাদের হাতে সময় আছে। গ্রুপ তৈরি হওয়ার পরে প্রতিপক্ষদের বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করব," মন্তব্য অ্যান্টনির।
আইডব্লিউএলে ১৩টি ম্যাচ কি এশিয়ার সেরা ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট? অ্যান্টনির সাফ কথা, "অবশ্যই নয়। ১৩টি ম্যাচ যথেষ্ট নয়। আমরা আরও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার চেষ্টা করি। ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সঙ্গে সপ্তাহে চার দিন অনুশীলন করি। কোথায় আমাদের ঘাটতি রয়েছে, সেটা বোঝার চেষ্টা করি। কিন্তু আরও ম্যাচ দরকার। এটাই ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান চিত্র। তবে দেশের হয়ে যখন উচ্চ স্তরে খেলতে নামছি, তখন অভিযোগের কোনও জায়গা থাকা উচিত নয়।"
ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের মূল লক্ষ্য মালয়েশিয়ায় এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন করা। সুইডেনের কোচ জোয়াকিম আলেক্সান্দারসনের সঙ্গে কাজ করবেন অ্যান্টনি।
এবার জাতীয় দলের নতুন দায়িত্ব। ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের মূল লক্ষ্য মালয়েশিয়ায় এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন করা। সুইডেনের কোচ জোয়াকিম আলেক্সান্দারসনের সঙ্গে কাজ করবেন অ্যান্টনি। তাঁর কথায়, "এই মুহূর্তে আমার কাজ হল দলকে যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করা। কোচিং স্টাফ হোক বা ফুটবলার, এআইএফএফ অনূর্ধ্ব-১৭ সেট-আপে সঠিক লোকজনকে নিয়ে আসার উপর জোর দিচ্ছে। আমাদের দলে ভালো একটা কোর গ্রুপ রয়েছে, যাদের যোগ্যতা অর্জনের ক্ষমতা আছে। একই সঙ্গে আমরা এই মেয়েদের ভবিষ্যতের কথাও ভাবছি। সেখানেই আমার ভূমিকা।’’
আলেক্সান্দারসনের সঙ্গে কাজের ব্যাপারে সতর্ক অ্যান্টনি। "কীভাবে তাঁকে সাহায্য করতে পারি, সেটা বুঝতে হবে। শেষ পর্যন্ত দলটা তিনিই চালাবেন। এই দু'টি প্রস্তুতি ম্যাচ শেষ হলে দলের শক্তি বুঝতে পারব। তখনই কীভাবে অবদান রাখতে পারি, সেটাও পরিষ্কার হবে।" উজবেকিস্তানের পর ফিলিপিন্সের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। এরপর এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ইরাক, সিরিয়া এবং মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। অ্যান্টনির কথায়, "এই দলটা খুবই স্পেশাল। ওরা কিন্তু ভালো কিছু করে দেখানোর ব্যাপারে ক্ষুধার্ত। তাই অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আমার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০০ শতাংশ আমরা যোগ্যতা অর্জন করব। কোনও সন্দেহ নেই। আমাদের সেটা করতেই হবে।"
