shono
Advertisement
Argentina football

'ফকল্যান্ড আমাদের', গর্জে উঠেছিলেন মেসিরা, ইংল্যান্ড-বধের দিনকেই 'ফুটবল দল দিবস' ঘোষণা আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপ জয়ের দিন নয়, বরং ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনকেই জাতীয় ফুটবল দল দিবস হিসাবে বেছে নিল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা করেছে, প্রতি বছর ১৫ জুলাই জাতীয় ফুটবল দল দিবস পালন করা হবে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 09:18 PM Aug 06, 2026Updated: 09:22 PM Aug 06, 2026

বিশ্বকাপ জয়ের দিন নয়, বরং ইংল্যান্ডকে হারানোর দিনকেই জাতীয় ফুটবল দল দিবস হিসাবে বেছে নিল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা করেছে, প্রতি বছর ১৫ জুলাই জাতীয় ফুটবল দল দিবস পালন করা হবে। সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্মরণীয় সেমিফাইনাল এবং ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপ নিয়ে দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

Advertisement

এখনও পর্যন্ত তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিশ্বজয়ের দিন নয়, গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর দিনটিকেই বেছে নিয়েছে এএফএ। সেই ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। অবিশ্বাস্য এই জয়ের ফলে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। দেশজুড়ে নেমে আসে উৎসবের ঢেউ।

এএফএ-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, '২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আলবিসেলেস্তের ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় জয়কে স্মরণ করতেই ১৫ জুলাই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এক গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেসের গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। সেই জয়ে গোটা দেশ উল্লাসে রাস্তায় নেমে আসে।' তবে এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠেই ফুটবলারেরা একটি ব্যানার তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল, 'ফকল্যান্ড আমাদেরই।'

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ স্বশাসিত এলাকা হলেও ১৮৩৩ সাল থেকে সেটা ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে। তবে আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, দ্বীপগুলি তাদের ভূখণ্ডের অংশ। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে কড়া পদক্ষেপ করে বুয়েনস আইরেস। আর্জেন্টিনার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিওপোল্ড গালতিয়েরির নির্দেশে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালায় আর্জেন্টাইন সেনা। এর জবাবে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দক্ষিণ আটলান্টিকে যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সেনা পাঠান। টানা ৭৪ দিনের যুদ্ধের পর অবশেষে আত্মসমর্পণ করে আর্জেন্টিনা। ফকল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ থাকে ব্রিটেনের হাতেই। ভয়াবহ এই যুদ্ধে প্রায় ৬৫০ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সৈন্যর মৃত্যু হয়।

এই ফকল্যান্ড যুদ্ধের আচঁ এসে পড়ে ১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে। যুদ্ধের চার বছর পর ‘ফুটবল রাজপুত্র’ দিয়াগো মারাদোনা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কুখ্যাত সেই হ্যান্ড অফ গড গোলটি করেন। আবার দ্বিতীয় গোলটি করেন ৬ জনকে কাটিয়ে। যাকে বলা হয়, শতাব্দীর সেরা গোল। সাড়ে চার দশক পরে এসেও সেই যুদ্ধের আঁচ এসে পড়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও। যেদিন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও বাজিমাত করেছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এবার সেই ১৫ জুলাইকে প্রতিবছর ফুটবল দিবস হিসাবে পালন করবে আর্জেন্টিনা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement