ইন্ডিয়ান সুপার লিগ থেকে নাম তুলে নিয়েছে জামশেদপুর এফসি (Jamshedpur FC)। এই পরিস্থিতিতে টাটা গোষ্ঠীর কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাল অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে জানিয়েছেন, ভারতীয় ফুটবল এবং ফুটবলারদের স্বার্থে টাটা যেন ভারতীয় ফুটবলের মূলস্রোতে থেকে যায়।
জুনিয়র ডেভলপমেন্টে টাটা যে অনেকদিন ধরেই খরচ করে চলেছে, এই বিষয় কারও অজানা নেই। কিন্তু ‘টাটা’-র মতো কর্পোরেট সংস্থা ভারতীয় ফুটবল থেকে বিদায় নিলে তা যে কতটা ক্ষতি, সেটা জামশেদপুর এফসির ফুটবলাররা যেরকম বুঝতে পারছেন। সেরকম দেশের আপামর ফুটবল অনুরাগীর পাশাপাশি বুঝতে পারছেন কল্যাণ চৌবেও। আইএসএলে অংশগ্রহণের জন্য ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ৫৫ লক্ষ টাকা করে প্রথম কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল ১৪টি ক্লাবের। সেই তালিকায় ছিল জামশেদপুর ও ইন্টার কাশীও। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ জুলাই করা হয়। ইন্টার কাশী টাকা মিটিয়ে দিলেও জামশেদপুর তা করেনি। শেষ পর্যন্ত আইএসএল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নেয় তারা।
‘টাটা’-র মতো কর্পোরেট সংস্থা ভারতীয় ফুটবল থেকে বিদায় নিলে তা যে কতটা ক্ষতি, সেটা জামশেদপুর এফসির ফুটবলাররা যেরকম বুঝতে পারছেন। সেরকম দেশের আপামর ফুটবল অনুরাগীর পাশাপাশি বুঝতে পারছেন কল্যাণ চৌবেও।
জামশেদপুরের সিইও মুকুল চৌধুরী ফেডারেশনকে পাঠানো ইমেলে জানান, ক্লাব চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তারা আইএসএল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর ফেডারেশন জামশেদপুর কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তটি আবার ভেবে দেখার জন্য ১২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের এক্সিকিউটিভ কমিটির মিটিংয়ের পর সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে কল্যাণ চৌবে বলেন, "টাটা সিদ্ধান্ত বদলালে এআইএফএফ সবচেয়ে বেশি খুশি হবে। ফুটবলার এবং ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে টাটাদের শীর্ষ স্তরের লিগে থেকে যাওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। ওদের যে কোনও পরামর্শ গ্রহণ করতে আমরা প্রস্তুত।" টাটা গোষ্ঠীর এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আর্থিক কারণে হতে পারে না বলেও মনে করেন এআইএফএফ সভাপতি। তাঁর কথায়, "মাত্র ১.১ কোটি টাকা খরচ বাঁচানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। টাটার মতো বড় সংস্থা নিশ্চয়ই অন্য কোনও বড় পরিকল্পনা বা কৌশল মাথায় রেখেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
ভারতীয় ফুটবলে টাটা গোষ্ঠীর অবদানের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, "ভারতীয় ক্রীড়াজগতে টাটার অবদান অনস্বীকার্য। ফুটবলে টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকেই দেশের যুব ফুটবলের ভিত তৈরি হয়েছে। আমিও সেই অ্যাকাডেমির ছাত্র। ১৯৮৭ সাল থেকে ২৭৫ জনেরও বেশি ফুটবলার সেখান থেকে উঠে এসেছেন।" তিনি আরও জানান, নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোর গুঞ্জন ছিল। কিন্তু ইউরোপে জুনিয়র পর্যায়ে সাফল্যের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে টাটা।
তিনি আরও জানান, নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোর গুঞ্জন ছিল। কিন্তু ইউরোপে জুনিয়র পর্যায়ে সাফল্যের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে টাটা।
অন্যদিকে, টাটা স্টিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুন্দরা রামম জানিয়ে দিয়েছেন, জামশেদপুর এফসিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা নেই। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সাম্প্রতিককালে আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত নয়। রামম বলেন, "এটি সম্পূর্ণ আমাদের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত। আইএসএলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা মনে করেছি, আমাদের শক্তির জায়গা হল তৃণমূল স্তরে ফুটবলার তৈরি করা। সেই ঐতিহ্যেই ফিরতে চাই।"
তাঁর সংযোজন, "এটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়। আমরা ফুটবল ছেড়ে যাচ্ছি না। বরং সেই জায়গায় ফিরছি, যেখানে কয়েক দশক ধরে ভারতীয় ফুটবলে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে টাটা স্টিল। শুধু ফুটবল নয়, হকি, তিরন্দাজি, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স-সহ ১৯টি খেলায় আমরা কাজ করছি।" আইএসএল থেকে নাম তুলে নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখতে হাতজোড় করে অনুরোধ করেছেন জামশেদপুর ফুটবলাররা। সুনীল ছেত্রী এবং সন্দেশ জিঙ্ঘান নাম না তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন টাটা গোষ্ঠীকে। এবার একই সুরে সুর মেলাল এআইএফএফ। তবে আপাতত নিজেদের অবস্থানেই অটল দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী।
