মেসির জন্য সাজানো ঘরটির দরজা খুললেই যেন সামনে ফুটবল-ইতিহাস। বারাসতের ন’পাড়ার বাসিন্দা সন্দীপ মিত্রের ১২ ফুট বাই ৯ ফুটের সেই ঘরটিতে রয়েছে আটটি ব্যালন ডি’অরের রেপ্লিকা, কাতার বিশ্বকাপের কয়েনের রেপ্লিকা, কলকাতায় মেসির খেলা দেখার টিকিট। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে প্রিয় তারকার বিদায়ের পর সেই ঘরই তাঁকে উৎসর্গ করেছেন সন্দীপ। নাম ‘গ্রেটেস্ট অফ অল ফেম’।
মেসির শেষ বিশ্বকাপের আগে গত ১৭ জুন নিজের খরচে ঘরটি সাজানোর কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির প্রথম ম্যাচের ছবি থেকে জাতীয় দলের হয়ে ৪৮ সেকেন্ডে লাল কার্ড দেখার মুহূর্ত-ঠাঁই পেয়েছে সবই। রয়েছে বার্সেলোনার হয়ে হেড ও বাইসাইকেল কিকে গোল এবং উয়েফার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের ছবিও। ঘরের দেওয়ালেও আর্জেন্টিনার ছোঁয়া। একটি নীল-সাদা জার্সির আদলে সাজানো। বিশ্বকাপের আগে টানা ৩৯ দিন ধরে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও ছবি কেটে ১০০ পাতার ‘মেসি কোলাজ’ও বানিয়েছেন সন্দীপ।
মেসির নামে সংগ্রহশালা। নিজস্ব চিত্র।
মেসির প্রতি তাঁর টান বহু দিনের। ২০১১ সালের ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মেসির খেলা দেখেছিলেন। সম্প্রতি সল্টলেক স্টেডিয়ামেও গিয়েছিলেন, যদিও সামনে থেকে দেখা হয়নি। রাত জেগে টেলিভিশনে খেলা দেখেছেন বছরের পর বছর। সন্দীপের কথায়, ‘‘শেষ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মেসির স্মৃতিগুলি এক জায়গায় রাখতে এই ঘর তৈরি করেছিলাম। এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর বিদায়ের পর ঘরটি মেসির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছি। ভবিষ্যতে মেসিকে নিয়ে তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে গবেষণা করতে চাই।’’
পুরনো রেডিও, ক্যামেরা, গ্রামোফোন, পোস্টাল স্টাম্প, কয়েন সংগ্রহের নেশা রয়েছে সন্দীপের। তবে সকালে চায়ের কাপ হাতে কিংবা রাতে মেয়েকে পাশে নিয়ে যে ঘরটির সামনে বসেন, সেটিই এখন তাঁর সংগ্রহের সবচেয়ে আবেগের জায়গা। মেসি মাঠে না থাকলেও বারাসতের এই ছোট্ট ঘরে থেকে গিয়েছে তাঁর এক ভক্তের ভালোবাসা।
