৯৬ বছরের বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) ইতিহাসে এটাই প্রথম রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচ। সেই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে কানাডা (South Africa vs Canada Match Report)। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে তারা। ৯২ মিনিটে স্টিফেন ইউস্তাকিওর দুর্দান্ত ভলিতে আসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জয়ের পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কানাডার 'হেডস্যর' জেসি মার্শ। ফুটবলারদের কৃতিত্ব দিয়ে তিনি বলেন, "তোমরাই কানাডার নায়ক। তোমাদের জন্য এই খেলার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।"
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে কানাডা কোচ বলেন, "খেলা শেষে মাঠেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলাটা কেউ কেউ বাড়াবাড়ি মনে করেন। কিন্তু আমি পরোয়া করি না। এমন মুহূর্তে ওদের কৃতিত্ব জানানো দরকার ছিল। ওরাই তো দেশের ফুটবলের ইতিহাস বদলে দিয়েছে।" গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের ফলে কানাডাকে ভ্যাঙ্কুভারের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নকআউট ম্যাচ খেলতে হয়। এটাও একটা নজির। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার নকআউট খেলতে ভিনদেশে যেতে হয় কোনও দলকে। তবে সোফাই স্টেডিয়ামে হাজার হাজার কানাডিয়ান সমর্থকের উচ্ছ্বাস দেখে কখনওই মনে হয়নি, তারা বিদেশের মাঠে খেলছে।
জয়ের উচ্ছ্বাস কানাডা ফুটবলারদের। ছবি সংগৃহীত।
মার্শের কথায়, "আমরা আমেরিকায় খেলতে অভ্যস্ত। ভ্যাঙ্কুভারে খেলতে না পারায় হতাশ ছিলাম। কিন্তু ছেলেরা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিয়েছে।" শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কোর মুখোমুখি হবে কানাডা। এই প্রসঙ্গে মার্শের মন্তব্য, "আমাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ করে নেওয়া। এখন আমরা চাপ মুক্ত হয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।"
কানাডার মানুষকেও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি আমেরিকান কোচ মার্শ। তাঁর কথায়, "কানাডার মানুষের ভাবধারা আমার সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যায়। তারা কথার চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এই দলের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য গর্বের।" গোলের নায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিও বলেন, "আমরা কখনও বিশ্বাস হারাইনি। আমরা ভাইয়ের মতো একে অপরের জন্য লড়েছি। এই জয় আমাদের প্রাপ্য। তবে কাজ এখনও শেষ হয়নি।"
