ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে একমাসও বাকি নেই। মেগা টুর্নামেন্টের সম্প্রচার আদৌ হবে কিনা, এখনও জানেন না ফুটবলপ্রেমীরা। এহেন পরিস্থিতিতে সমস্যা আরও বাড়ল প্রসার ভারতীর সিদ্ধান্তে। তারা সাফ জানিয়ে দিল, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের দায়িত্ব নিতে বাধ্য নয় দূরদর্শন। আদালতে এই কথা জানিয়ে দিয়েছে প্রসার ভারতী। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভারতে বসে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখা যাবে আদৌ?
ভারতবর্ষে ফুটবলপ্রেমীর অভাব নেই। দেশ র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স-স্পেনের ম্যাচ দেখার দর্শক প্রচুর পরিমাণে আছেন। ২০২৬ ও ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানোর জন্য ভারতে সম্প্রচারের স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ফিফা। প্রথমে এই স্বত্বের দাম রাখা হয় প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৩০ কোটি টাকা। কিন্তু কোনও সংস্থা ম্যাচ দেখানোর আগ্রহ দেখায়নি। বাধ্য হয়ে ফিফা সম্প্রচার স্বত্ব নামিয়ে আনে ৩৫ মিলিয়ন ডলারে। কিন্তু অবস্থা বদলায়নি।
বুধবার দিল্লি হাই কোর্টের কাছে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচার করতে প্রসার ভারতী দায়বদ্ধ নয়। তবে বিশ্বকাপ যে দূরদর্শনে সম্প্রচারিত হবে না, সেকথাও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত কোথায় কীভাবে বিশ্বকাপ দেখবেন ভারতীয়রা, উত্তর এখনও অজানা।
এহেন পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হন কয়েকজন ফুটবলপ্রেমী। তাঁদের আবেদন, ফিফা বিশ্বকাপকে ইতিমধ্যেই জাতীয় মর্যাদাসম্পন্ন টুর্নামেন্ট হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। এই টুর্নামেন্ট যদি দূরদর্শনের মতো চ্যানেলগুলিতে সম্প্রচার করা না হয় তাহলে সেটা সংবিধানের কিছু অংশ লঙ্ঘন করবে। যেহেতু প্রসার ভারতীর কাছে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের যাবতীয় পরিকাঠামো রয়েছে, তাই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশ্বকাপ সম্প্রচার করা উচিত-এমনটাই দাবি ছিল আবেদনকারীদের।
সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে দিল্লি হাই কোর্ট নোটিস পাঠায় কেন্দ্র এবং প্রসার ভারতীকে। উচ্চ আদালত নির্দেশ দেয়, দূরদর্শন এবং ডিডি স্পোর্টসে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ মানছে না প্রসার ভারতী। বুধবার দিল্লি হাই কোর্টের কাছে তারা জানিয়ে দিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচার করতে প্রসার ভারতী দায়বদ্ধ নয়। তবে বিশ্বকাপ যে দূরদর্শনে সম্প্রচারিত হবে না, সেকথাও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত কোথায় কীভাবে বিশ্বকাপ দেখবেন ভারতীয়রা, উত্তর এখনও অজানা।
