আবার একটা ডার্বি। তাও আবার ডুরান্ড কাপ ফাইনাল। এবার ক্লাব ফুটবলের মরশুমটা শুরুই হয়েছিল ডার্বি দিয়ে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে মোহনবাগান ১-০ গোলে জিতেছিল ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। আমি আড়াই দশকেরও বেশি সময় ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে জড়িত। এই শতাব্দী শুরুর আগে মোহনবাগানে এসেছিলাম। তারপর মাঝে একটা বছর বাদ দিলে ভারতেই আছি। খেলা ছাড়ার পর কোচিংও করাচ্ছি। কিন্তু ডার্বির মতো হাই ভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে মরশুম শুরু হতে খুব একটা দেখিনি।
মরশুমের প্রথমেই ডার্বি হওয়ায় মাঠে সেই মানের লড়াই দেখতে পাওয়া যায়নি। যাওয়ার কথাও নয়। আসলে কলকাতার দুই প্রধানের লড়াইটা ভারতীয় ফুটবলের 'মার্কি' ম্যাচ। এই ম্যাচে নামার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা আগের ডার্বিতে কোনও পক্ষই পায়নি। যার ফলে ম্যাচটা বেশ সাদামাটাই ছিল। ডার্বি নিয়ে সমর্থকদের যা উত্তেজনা থাকে, মাঠের লড়াই তার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। ডুরান্ড ফাইনালেও ছবিটা পুরোপুরি বদলে যাবে, সেই আশা করছি না। কারণ কোনও দলই এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। প্রতিটা ম্যাচেই ফুটবলাররা প্রচুর সুযোগ নষ্ট করছে। সেটা প্রস্তুতির অভাবের ফল। কোনও পক্ষেই পুরো স্কোয়াড নেই। বিদেশিরা আসেনি সবাই। যারা এসেছে, তারাও যে পুরো ম্যাচ খেলার জায়গায় আছে, তা বলতে পারছি না। বিশেষত মোহনবাগান শিবিরে। সত্যি বলতে, কোচিংয়ের চাপে এবার ইস্টবেঙ্গলের খেলা খুব একটা দেখা হয়নি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে মোহনবাগানের ম্যাচটা দেখেছি। মনে হয়েছে, দলটা এখনও তৈরি হচ্ছে। বেশ কিছু ফুটবলারের ফিটনেস ইস্যু আছে। পুরোদমে দৌড়তে পারছে না। ডার্বির মতো ম্যাচে সেটা কিন্তু ব্যাকফুটে পাঠাতে পারে কোনও দলকে। মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিসকে এই বিষয়টা সামলাতে হবে।
এমনিতে প্যানাজিওটিসের শক্তি হল মোহনবাগানের স্কোয়াডে ভালো ফুটবলারের আধিক্য। প্রতিটি পজিশনে বিকল্প আছে ওঁর হাতে। ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে 'এক্স ফ্যাক্টর' আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের উপস্থিতি। এক যুগ ধরে ভারতীয় ফুটবলে কোচিং করাচ্ছেন। নিজের দল তো বটে, প্রতিপক্ষকেও হাতের তালুর মতো চেনেন। আসলে ডার্বির মতো ম্যাচ যতটা শারীরিক যুদ্ধ, তার থেকেও বেশি মানসিক লড়াই। কে কত ভালো পরিকল্পনা সাজাতে পারবে, তার উপর অনেকটাই ফলাফল নির্ভর করে। শুনলাম, হাবাস ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন বাতিল করে ফুটবলারদের ছুটি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে আমি বিস্মিত হইনি। ম্যাচের একদিন আগে অনুশীলনে যে বিশেষ কিছু শেখানোর থাকে কোনও কোচের, এমন তো না!
তাছাড়া ইস্টবেঙ্গল যে সেমিফাইনালের পর অনুশীলনের সুযোগ পায়নি একদম, এমন তো নয়। সেখানে মোহনবাগানের চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি। শিলংয়ে সেমিফাইনাল খেলার পরদিন কলকাতা ফিরেছে। মাঝে একটা দিন। তার পরই ফাইনাল। প্রস্তুতি কিংবা বিশ্রাম, কোনওটারই সময় নেই লিস্টন কোলাসোদের হাতে। ফলে ম্যাচের আগের দিন ফুটবলারদের ছুটি দেওয়ার বিলাসিতার সুযোগ নেই দিলেমপেরিসের হাতে। এমনিতে ডার্বির মতো ম্যাচে ফলাফলের ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। তার পরও ফাইনালে মোহনবাগানকে কিছুটা এগিয়ে রাখছি। ১-০ বা ২-০ ব্যবধানে ম্যাচটা জিতে চ্যাম্পিয়ন হবে সবুজ-মেরুন।
ডুরান্ড ফাইনাল
ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান
বিকাল ৫.০০, যুবভারতী
সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক
