shono
Advertisement

Breaking News

Erling Haaland

মারাদোনার মতো ধর্মসংকটে হালান্ড! শেষ আটের আগে কোন কাঁটায় বিদ্ধ ইংল্যান্ডের ‘ঘরের ছেলে’?

মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে ১১ জুলাই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলতে নামছেন নরওয়ের ‘গোল মেশিন’ আর্লিং হালান্ড। কিন্তু পরিস্থিতি যা, তাতে ভীষণভাবেই ৩৬ বছর আগের সেই ৩ জুলাইকে ভীষণভাবেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 02:45 PM Jul 10, 2026Updated: 02:47 PM Jul 10, 2026

’৯০-এর বিশ্বকাপে ৩ জুলাই দিনটা মনে আছে?

Advertisement

আপাতত যা ঠিক হয়েছে, মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে ১১ জুলাই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলতে নামছেন নরওয়ের ‘গোল মেশিন’ আর্লিং হালান্ড। কিন্তু পরিস্থিতি যা, তাতে ভীষণভাবেই ৩৬ বছর আগের সেই ৩ জুলাইকে ভীষণভাবেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। হালান্ডের কাছে পরিস্থিতিটাতো সেই একই।

সেই সময় ইতালিতে, নাপোলির স্টেডিয়ামটার নাম ছিল, ‘স্তাদিও সান পাওলো’। এখন অবশ্য নাম বদলে, ‘স্তাদিও দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা।’

ইটালির ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। খোদ ইটালির বিরুদ্ধেই নাপোলিতে সেমিফাইনাল ম্যাচ পড়ল আর্জেন্টিনার। মারাদোনার অবস্থা তখন মান রাখি না কুল রাখি! ক্লাব ফুটবলের জন্য নাপোলির ঘরে ঘরে তখন ঈশ্বরসম পূজিত হন মারাদোনা। কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে, তাঁদের ভগবান মারাদানোকে কীভাবে ম্যাচ জেতার জন্য সমর্থন জানাবেন নাপোলির জনগণ? একই অবস্থা, দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনারও। ইটালিরকে হারিয়ে কীভাবে নাপোলির জনগণের চোখের জল দেখবেন তিনি? কারণ, তাঁর বাঁ-পায়ের জাদুই তো নাপোলিকে হাসতে শিখিয়েছে।

নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাচটা ১-১ হওয়ার পর, শেষপর্যন্ত টাইব্রেকারে গিয়ে ইটালিরকে হারিয়ে ফাইনালে চলে যায় মারাদোনার আর্জেন্টিনা। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দেশের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি আজুরিরা। তারপরের ইতিহাস সবারই জানা। ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘বেইমান’ এরকম নানা উপাধিতে ইটালির লোকজন ভূষিত করেছিল মারাদোনাকে।

৩৬ বছর পরে এসে হালান্ডের অবস্থাও কি অনেকটা সেরকম নয়? ইংল্যান্ড সমর্থকরা ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করে দিয়েছেন, তাঁদেরই তৈরি করা ‘গোলদানব’ এবার তাঁদেরকেই গিলে খেতে মায়ামিতে আসছে। হালান্ড অবশ্য পুরো ব্যাপারটাকে এতটা সিরিয়াস ভাবে না নিলেও, ম্যাচের ফল যদি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যায়, ম্যান সিটি সমর্থকরা কীভাবে তাঁকে স্বাগত জানাবেন, হালান্ড তা নিয়ে সামান্য হলেও কিন্তু চিন্তায়। তবে শোনা যাচ্ছে, হালান্ড না কি নিজের দলের সতীর্থদের সঙ্গে এই ইস্যুতে আলোচনায় উঠলে মজা করে বলেছেন, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে রাতে মায়ামি বিচে বসে ম্যানসিটির সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডা দেবেন।

কথাটা যত সহজে নরওয়ের গোলমেশিন বলছেন, পরিস্থিতিটা কিন্তু তত সহজ নয়। সেই ’৬৬-র পর থেকে প্রতিবছর বিশ্বকাপ আসে। আর ব্রিটিশ সমর্থকরা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ফেস্টুন ঝোলান, ‘ব্রিং ইং হোম’। কিন্তু বিশ্বকাপ আর ঘরে ফেরে না। আর এবার তো তাঁদের আর বিশ্বকাপ পাওয়ার মাঝে এমন একজন কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, যিনি ইংল্যান্ডের জল হাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে, খোদ ইংল্যান্ডকেই তল্পি-তল্পা গুটিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হয়েছেন। এরপর হালান্ড আর ইংল্যান্ডের মধ্যে সম্পর্কের পরিস্থিতিটা এত সহজ থাকে কী করে?

জন স্টোনস, ফিল ফোডেন, কাইল ওয়াকারদের সঙ্গে সারা বছর ড্রেসিংরুম শেয়ার করেন। এরা যেমন মাঠের ভিতর হালান্ডের প্রতিটি মুভমেন্ট জানেন, সেরকম হালান্ডও তো জানেন, এদের প্রতিটি স্টেপ। ফলে সিটির ঘরে ছেলেই এবার ‘বিভীষণ’-এর ভূমিকা নিতে চলেছেন এই বিশ্বকাপে। যে নীল জার্সিতে বছরের বেশিটা সময় ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের গোগ্রাসে গিলে নেন তিনি, এবার হালান্ডের গোলের সেই সর্বগ্রাসী খিদে থেকে মুক্তি নেই ফোডেনদেরও।

নরওয়ে কোচ সলবাকেন কিন্তু পুরো পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছেন। ফলে শোনা যাচ্ছে, এই ইস্যুতে কোনওভাবেই যাতে তাঁর গোলমেশিনের মনঃসংযোগ নষ্ট না হয়, তারজন্য আলাদা করে কথা বলেছেন হালান্ডের সঙ্গে। পরামর্শ দিয়েছেন, ম্যাচটা শুধুই কোয়ার্টার ফাইনালের একটা ম্যাচ হিসাবে দেখতে। কোন দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে, তা দেখার দরকার নেই।

ইতিমধ্যেই ৭ গোল করে মেসি, এমবাপের পাশাপাশি তিনিও ছুটছেন গোল্ডেন বুট পাওয়ার লড়াইয়ে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোল করলে, গোল্ডেন বুটের দাবিটা তাহলে আরও জোরদার হবে। হালান্ড অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি এই গোল্ডেন বুট পাওয়ার বিষয়টি ভাবছেনই না। বলেছেন, ‘‘ছোট থেকে স্বপ্ন দেখতাম, নরওয়ের জার্সিতে একদিন বিশ্বকাপ খেলব। কিন্তু এতটা পেয়ে যাব, সত্যিই ভাবিনি। ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে পেরেছি, ভাবতেই পারছি না। আমার তো মাঝেমধ্যে মনে হচ্ছে, স্বপ্ন দেখছি না তো!’’

এই মায়ামিতেই আমেরিকা বিশ্বকাপ জেতার জন্য বেসক্যাম্প বানিয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোরা। পর্তুগাল বিদায় নিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে মায়ামি এখন তারকাহীন। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে মায়ামির সমু্দ্র সৈকতে হালান্ডের বড় বড় কাট আউট নিয়ে আদৌ কি মানুষের ঢল নামবে? হালান্ড শুধু মুচকি হাসছেন। লিওনেল মেসি, এমবাপেদের পাশে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে তারকা ইমেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, চাট্টিখানি কথা না কি?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement