একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino)। এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। উয়েফার সাধারণ সচিব থাকাকালীন এক কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ইনফান্তিনো। সংস্থা ছাড়ার সময় সেই কর্মীকে নাকি ছ'অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছিল। এমনকী, উয়েফা ছাড়ার পর ওই মহিলার এমবিএ পড়ার খরচও বহন করেছিল সংস্থা। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইনফান্তিনোর পক্ষ।
'দ্য টেলিগ্রাফ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উয়েফায় সাধারণ সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ইনফান্তিনো। সেই সময় উয়েফারই এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয় বলে বলা হয়েছে। চাকরি ছাড়ার সময় ওই মহিলাকে 'বিদায়কালীন অর্থ' হিসাবে বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি বিজনেস স্কুলে এমবিএ করতে গেলে তার খরচও নাকি বহন করেছিল উয়েফা।
উয়েফার এক কর্তা বলেন, "ওই মহিলাকে বিদায়কালীন অর্থ হিসাবে বিপুল টাকা দেওয়া হয়েছিল। সংস্থা ছাড়ার পরও তাঁর বিজনেস স্কুলে পড়াশোনার খরচ দেওয়া হয়েছিল। কোনও কর্মী সংস্থা ছাড়লে তাঁকে কিছু অর্থ দেওয়ার নিয়ম ছিল। সেই নিয়মেই ওই মহিলাও টাকা পেয়েছিলেন। তবে ছ'অঙ্কের টাকা দেওয়া স্বাভাবিক নয়। ২০১৬ সালে সেই নিয়ম বদলানো হয়। এখন কর্মীদের বিদায়কালীন অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানা হয়।"
তবে অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন ইনফান্তিনো। ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, "ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত অনুপযুক্ত এবং মানহানিকর। ফিফা বা উয়েফার কোনও কর্মী কখনও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেননি। আসলে এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইনফান্তিনো কখনও যুক্ত ছিলেন না।" তিনি আরও বলেন, "কর্মচারীদের নিয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত সংস্থার নির্দিষ্ট আইন ও নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়। বিদায়কালীন আর্থিক সুবিধাও সেই নিয়ম মেনেই দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সংস্থার পরিচালন পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।"
এদিকে, তৃতীয় বারের জন্য ফিফা সভাপতি পদে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইনফান্তিনো। কিন্তু তাঁকে নিয়ে ইউরোপে তৈরি হয়েছে আপত্তি। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তাঁরা ইনফান্তিনোকে সমর্থন করবে না। তাঁর প্রস্তাবিত 'ফিফা ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম' নিয়েও ফুটবল মহলে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশ কিছু দেশ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। তবে ইনফান্তিনোর পাশে এখনও রয়েছে বেশ কিছু ফুটবল শক্তি। আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো-সহ আফ্রিকার একাধিক দেশ তাঁকে আরও একবার ফিফার শীর্ষ পদে দেখতে চায়। ফলে নতুন এই অভিযোগ তাঁর তৃতীয় দফার নির্বাচনী লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
