রাখি বন্ধন উপলক্ষে একত্র হন চার ভাইবোন। এক নিমেষে আনন্দময় সেই মিলন শোকগাথায় পরিণত হল। বেপরোয়া একটি টয়োটা ফরচুনার গাড়ির চাকা পিষে মারল তিনজনকে। চতুর্থ জন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ফরিদাবাদের একটি বাসস্টপে এই ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার দুই বোন ও এক ভাই রাখি উপলক্ষে আরোক ভাই অখিলেশের বাড়িতে একত্র হয়েছিলেন। রাতটা একসঙ্গে গল্পগুজবে কাটান তাঁরা। সকালে বোনেরা রাখি পরান দুই ভাইকে। যদিও কেউ ভাবেননি সেই দিনটাই ছিল তাদের জীবনের অন্তিম দিন। অখিলেশ তিন ভাইবোনকে বাসস্ট্যান্ড অবধি পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। প্রায় মিনিট পনেরো তাঁরা বাসস্ট্যান্ড অপেক্ষা করেন। এরপরেই একটি টয়োটা ফরচুনার গাড়ি হুড়মুড়িয়ে তাঁদের দিকে ছুটে আসে। তীব্র গতির কারণে নিজেদের বাঁচানোর সময়টুকু পাননি চার ভাইবোন।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অখিলেশ ও অবধেশের। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই বোন সরোজ ও রাজকুমারীকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছে দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মৃত্যু হয়েছে সরোজের। ফরিদাবাদের এসএসবি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে রাজকুমারীর। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে অবধেশ, সরোজ ও রাজকুমারী পালওয়ালের কুলেনায় থাকছিলেন। ওই চার ভাই-বোন মূলত উত্তর প্রদেশের আমেঠির খারকপুরের বাসিন্দা।
দুর্ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর রাস্তায় রক্তাক্ত চারজন পড়েছিলেন। দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছিল। দুই বোন জীবিত ছিলেন তখনও। যদিও গাড়ির চালক সাহায্য না করে পালিয়ে যান। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অবহেলার কারণে আঘাত ও মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলের সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ওই এলাকায় যানবাহন প্রায়ই দ্রুতগতিতে চলে বলে অভিযোগ।
